অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের সুবর্ণ সুযোগ,গৃহঋণ সহজীকরণে কর্মসংস্থান বাড়বে
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা: স্বৈরাচার হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে অনিয়ম-দুর্নীতি-অর্থপাচার ও অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে ভুল নীতির শিকার দেশের অর্থনীতি।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্ধ শিল্প-কারখানা চালুর ইতিবাচক পদক্ষেপ সরকার হাতে নিলেও রফতানি আয়ের প্রধান মাধ্যম পোশাক খাতে মন্দা বাজার পরিস্থিতি ও কার্যাদেশ না থাকায় বিদ্যমান শিল্প-কারখানা প্রতিদিন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন- বিজিএমইএর তথ্য মতে, গত তিন বছরেই প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে।আর তাই দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে। অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত বেশ কয়েক বছর থেকে নানা সংকটে নিমজ্জিত। মন্দায় আক্রান্ত শিল্পে ঋণের চাহিদা তলানিতে নেমেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭২, যা ইতিহাসের সর্বনি¤œ পর্যায়ে। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমছে।
এদিকে দেশের প্রধান রফতানি খাত তৈরি পোশাকের চালান কমে যাওয়ায় মে মাসে তৈরি পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে রফতানি আয়ের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ পোশাক রফতানি নি¤œমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিশ্ববাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে রফতানি আয়ের গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। উচ্চ পণ্যমূল্য দেশের সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে জুন মাসে আগের থেকে পতন দেখা গেছে।
এদিকে খেলাপি ঋণের উচ্চমাত্রা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদহার, বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগবান্ধব নয় এমন করনীতি ব্যবসায়ীদের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। অবশ্য এর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বর্তমান চেয়ারম্যানের অদক্ষতাকে দায়ী করেছেন অনেকেই। আর তাই প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের প্রাক্কলনকে অতি-আশাবাদী বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক ঋণমান যাচাইকারী সংস্থা-ফিচ রেটিংস। সরকার যেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির আশা করছে, সেখানে ফিচের পূর্বাভাস মাত্র ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি বাংলাদেশের ভঙ্গুর ব্যাংকিং খাত, বেসরকারি খাতে দুর্বল ঋণ প্রবৃদ্ধি, নীতিগত দুর্বলতা এবং অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে উল্লেখ করেছে। একইভাবে ফিচ জানিয়েছে, নতুন বাজেটে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৮ শতাংশ। তাই রাজস্ব আদায় ব্যবস্থার সঠিক বাস্তবায়নই হবে আগামী অর্থবছরের প্রধান আর্থিক চ্যালেঞ্জ। কারণ বাজেটে ব্যয়ের পরিমাণ ১৯ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি-নমিনাল রেভিনিউ বা মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয়-পূর্ব রাজস্বে বছরভিত্তিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বর্তমান রাজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে যা অর্জন করা অনেকটা অবাস্তব। অপরদিকে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছর শেষে দেশের প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে। অথচ গত জানুয়ারিতে তারা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস’-এর জুন সংস্করণে ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়েছে বিশ্বব্যাংক। অথচ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রস্তাবিত বাজেটে বলেছেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। এদিকে দেশের ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০ টাকার মধ্যে প্রায় ছয় টাকাই এখন ‘দুর্দশাগ্রস্ত’ ঋণে (ডিস্ট্রেসড লোন) পরিণত হয়েছে। ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট-২০২৫’ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে এই দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল ঋণ ব্যাংক খাতের মোট বিতরণকৃত ১৮ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণের প্রায় ৫৯ শতাংশ। এই টাকা তুলতে ব্যাংকগুলো মামলার পেছনে বড় অর্থ চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে এবং হয়রানি পোহাতে হচ্ছে। ফলে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে আরো সতর্ক হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে উদ্যোক্তারাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এছাড়া দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় অনেক সময় পরামর্শদাতা হিসেবে সঠিকভাবে অর্থ আয় করেও তা সাদা করার সুযোগ না থাকায় বিদেশে অর্থ পাচার বাড়ছে। যা গত কয়েক বছরে কয়েকগুণ বেড়েছে। এনবিআর, দুদকসহ নানাবিধ হয়রানি থেকে বাঁচতেই এই অর্থ পাচার বলে মত বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, অর্থনীতি মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় বর্তমান স্থবিরতা উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে রাতারাতি চাইলেও ব্যবসায় বিনিয়োগ সম্ভব নয়। তাই দেশীয় আবাসন খাতকে করমুক্ত রেখে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে চাঙ্গা করার মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। আর তাই দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আবাসন খাতে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্লেষকরা। এই খাতের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তাদের মতে, একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ির পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই শতাধিক সংযুক্ত শিল্প খাতে ছড়িয়ে পড়ে। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের জুড়ি নেই। মূলধনের সঞ্চালন ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে এটি মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জিডিপিতে প্রায় ১৫ শতাংশ অবদান রাখা এই খাতের সংকট বাড়লে অর্থনীতিকেই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।
সূত্র মতে, বর্তমানে নিবন্ধন ব্যয় ১৩ শতাংশের ওপর থাকায় ফ্ল্যাট ও জমি কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় সর্বোচ্চ। নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছিল রিহ্যাব। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এদিকে গত কয়েক বছর প্রায় সব ধরনের নির্মাণসামগ্রীর ব্যয় বেড়েছে। আগের তুলনায় ফ্ল্যাট নির্মাণে খরচ বেড়েছে ৫০ শতাংশ। স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের সুবিধা না থাকায় মধ্যবিত্তরা বাজার থেকে ছিটকে পড়ছেন। এ ছাড়া বিগত আড়াই বছরে তিনটি সরকারের পরিবর্তন ও নীতিগত অস্থিরতার কারণে আবাসন খাতে ক্রেতার সংকট ও এক ধরনের ভীতি কাজ করছে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশিদ বলেন, দেশে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও স্থবিরতার কারণে ফ্ল্যাট বিক্রি এখন তলানিতে নেমে এসেছে।জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান-বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তিই হলো বেসরকারি খাত। এর মধ্যে আবাসনখাত অন্যতম। এই খাত রুগ্ন হয়ে পড়লে বা মন্দায় আক্রান্ত হলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে বাধ্য। একই সঙ্গে দেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতি চাঙ্গার অন্যতম খাত আবাসন খাত চাঙ্গা করাও সরকারের দায়িত্ব।
জানতে চাইলে আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন বলেন, আবাসন খাত করমুক্ত হলে তিন হাজার ৬০০ শিল্প চাঙ্গা হবে, বাড়বে রাজস্ব। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাতকে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার পক্ষে। আবাসন কেবল মানুষের মৌলিক চাহিদাই নয়, এই একটি খাত চাঙ্গা হলে এর সঙ্গে যুক্ত তিন হাজার ৬০০টি সেবা ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। আবাসন খাত থেকে কর ছাড় দিলে সরকার যে রাজস্ব হারাবে, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজস্ব উঠে আসবে এর সঙ্গে যুক্ত লিংকেজ শিল্পগুলোর প্রবৃদ্ধি থেকে। যেমনÑ আমাদের সিমেন্ট শিল্প এখন ক্ষমতার মাত্র ৫৫ শতাংশ উৎপাদনে রয়েছে। এটিকে যদি ৮০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে এই এক খাত থেকেই বছরে অতিরিক্ত আড়াই হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব। একইভাবে ইস্পাত, সিরামিকস, রং, কেবল, ফিটিংস, লজিস্টিকস ও ব্যাংকিং খাতে যে বিশাল বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে, তা অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।
সূত্র মতে, দেশের আর্থিক খাতের টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশীয় আবাসন খাতকে চাঙ্গার মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার সুযোগ ছিল। অর্থনীতির মধ্যেও অথচ দেশে বিনিয়োগের অন্যতম সুযোগ আবাসন খাতে। আবাসন খাতে সরকারের উদাসীনতা এবং ভুল নীতির কারণে হাতাশায় এই খাতের বিনিয়োগকারীরা। বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও রাজউকের স্বেচ্ছাচারিতা ও হয়রানিতে বিপর্যস্ত আবাসন ব্যবসায়ীরা। জমির অস্বাভাবিক দাম, ভবন নির্মাণ সামগ্রীর উচ্চমূল্য, ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান-ড্যাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের টালবাহানা, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদহারসহ নানা কারণে দেশের আবাসন খাত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মধ্যবিত্তের ক্রয়সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে ফ্ল্যাটের দাম। প্রস্তাবিত বাজেটে সবার প্রত্যাশা ছিল এই খাতে সরকার বিশেষ নজর দেবে। কিন্তু ঘটেছে উল্টো। প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতের জন্য প্রত্যাশিত কোনো কার্যকর নীতিসহায়তা বা প্রণোদনা প্রতিফলিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল। তিনি বলেন, আবাসন খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং নির্মাণসামগ্রীর ওপর নতুন কর ও শুল্ক আরোপের ফলে নির্মাণ ব্যয় আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। রিহ্যাব সভাপতি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিনিয়োগের স্বার্থে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছি। কারণ নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে প্রকৃত লেনদেন বাড়বে, আবাসন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এবারের বাজেটে এ বিষয়ে প্রত্যাশিত উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন-বিএসএমএ সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট, শুল্ক ও কর বৃদ্ধির কারণে দেশের ইস্পাতশিল্প বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-বেলিয়া সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল দেশের আবাসন, শিল্প ও অবকাঠামো খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত বাজেটে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) হিসেবে ঘোষণার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে খাতটির বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার দাবি জানান। বর্তমান নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ, শিল্পায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে লিফট কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং এটি টেকসই উন্নয়নের অন্যতম অপরিহার্য মূলধনী যন্ত্রপাতি। কিন্তু ২০২৩ সালে লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতির শ্রেণি থেকে সরিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে ধারাবাহিকভাবে এ খাতের শুল্ক বাড়ানো হয়। এর ফলে গত দুই বছরে লিফট আমদানির ওপর মোট শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
আবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশের বিনিয়োগ মন্দার মধ্যে শুধু আবাসন খাতে ব্যবসাবান্ধব নীতি করা সম্ভব হলে অর্থ পাচার কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিনিয়োগ বাড়ত। বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় দেশের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অথচ দেশের আবাসন খাতের অনেক ব্যবসায়ীকে টিকে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে। বিপর্যস্ত আবাসন ব্যবসায়ীরা বলেন, পরিকল্পিত নগর গড়তে হলে আবাসন খাতের সুরক্ষায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।