দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়নি - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার বরিশালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন উজিরপুরের জমি দখলকারী তিনজন কারাগারে এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইসির, পাবেন ছোটরাও সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়া... ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল

দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়নি


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়নি।বুধবার ঢাকায় মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে অন্ধকারে রেখে চুক্তি করা হয়েছে-এমন ধারণা পুরোপুরি ভুল।দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী থেকে ‘সম্মতি’ আসার পরই চুক্তি হয়েছে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পল কাপুর ঢাকায় দিনভর কয়েক দফা বৈঠক করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা গুরুত্ব পেয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিকের পরস্পর স্বার্থ, নিরাপত্তা, অভিবাসন, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাধানসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ আকসা (একুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং অস্ত্রবিষয়ক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার চুক্তি জিসোমিয়ার (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বুধবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। আকসা ও জিসোমিয়ার নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি কোনো জবাব দেননি। বৈঠক ভালো হয়েছে জানিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

বিকালে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ রয়েছে। দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করা হয়নি। চুক্তির আগে এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াত থেকে ‘সম্মতি’ আসার কথা জানান তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ (মার্কিন প্রতিনিধি) কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

চুক্তির হওয়ার ঘটনাক্রম তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর বলেন, ‘এক বছর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আমরা কথা বলি। এপ্রিল থেকে জুলাই টানা আলোচনা হয়েছে। এরপর আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম। সেই সময় মোটামুটিভাবে এগ্রিমেন্টটা (চুক্তিটা) হয়ে গেছিল।’ এরপর যুক্তরাষ্ট্রের তুলা বা সুতা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানির ওপর শূন্য শতাংশ পালটা শুল্ক এবং ‘রুলস অব অরিজিন’ নিয়ে আলোচনায় সময় লাগে। আমরা তাদের বলেছিলাম-যুক্তরাষ্ট্রের সুতা দিয়ে তৈরি বা আমেরিকান ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি যে পোশাক আমরা তাদের কাছে পাঠাব, সেইখানে আমরা জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই, সেইটা করতে তাদের সময় লেগেছে। এটা হয়েছে কিন্তু আমাদের স্বার্থে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে রুলস অব অরিজিন। এতেও তারা সময় নিয়েছেন। এগ্রিমেন্ট আমরা করে রেখেছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে এবং এক তারিখে আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম। সুতরাং এটা যে চট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে-সেটা ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে মার্কিন কূটনীতিকের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, কূটনৈতিকভাবে ইরান সংকটের সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে যুদ্ধ এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। এমনকি দেশটির একার সিদ্ধান্তও নয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,এরইমধ্যে দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। আরও সাতজন আহত হয়েছেন। ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে এ যুদ্ধের যে অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া হবে তা আমাদের মতো দেশের পক্ষে বহন করা দুঃসাধ্য। তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নেই : বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। প্রয়োজনে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ আছে। এতে এমন উপাদান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে উভয় দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এসব কথা জানান। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বাড়াতে চুক্তি সই হয়েছে। এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসাবে দেখার সুযোগ নেই। যদিও অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে চুক্তি স্বাক্ষরে এবং এর শর্ত নিয়েও অনেকের শঙ্কা রয়েছে।

চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি-এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদির বলেন, চুক্তির অনেক ধারা আছে। এগুলোর ওপরে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আমরা আগামী দিনে জোরদার করতে পারি। চুক্তি নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত কী-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা রাষ্ট্রীয় চুক্তি সিদ্ধান্তের কিছু নেই। কোনো কিছু খারাপ দেখলে আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যেসব বাংলাদেশি অবৈধভাবে বাস করছেন তাদের ফিরিয়ে আনা হবে। এ বিষয়ে পল কাপুরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশি, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তাদের ফিরিরে আনার ব্যাপারেও কথা বলেছি। প্রক্রিয়া যাতে সহজ হয় এবং সম্মানের সঙ্গে তারা যাতে আসতে পারেন সেই নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পল কাপুর। আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার ও বিস্তৃত হবে।

Top