শীত ও কুয়াশার দাপট বেড়েছে ,ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ-সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ পোস্তগোলা ব্রিজের নিচে বালুর বস্তা রেখে ব্যবসার অভিযোগ, নীরব বিআইডব্লিউটিএ! ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক জনাব আলমগীর হোসেন কে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বা... মেহেন্দিগঞ্জের পর এবার বাকেরগঞ্জে জামায়াতকর্মী সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের নাটক বিচার শেষ হবে কবে ? মাদকের ৯৫ শতাংশ মামলা ঝুলে আছে কোন দলের প্রস্তুতি কেমন,ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু ২১ জানুয়ারি ভারত থেকে আনা চালে ক্যানসারের বিষাক্ত উপাদান, বিতরণ স্থগিত বিরোধী দল সংলাপে এলে জুলাই সনদ নিয়ে নমনীয় হতে পারে সরকার জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী ব্যর্থ, পদত্যাগ দাবি করলেন নাহিদ

শীত ও কুয়াশার দাপট বেড়েছে ,ঠান্ডা জনিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ


প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা বিস্তৃত হয়েছে। শীত ও কুয়াশার দাপট বেড়ে গিয়ে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেড়েছে ঠা-াজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধির প্রকোপ। ঘন কুয়াশায় সড়ক-মহাসড়ক ও নৌপথে চলাচলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। দৃষ্টিসীমা সঙ্কুচিত হয়ে যানবাহনের গতি হ্রাস পেয়েছে। শীতের জোর বৃদ্ধির কারণে দিনে এনে দিনে খেটে খাওয়া মানুষের কষ্ট ও ভোগান্তি বেড়েছে। কমছে তাদের রুজি-রোজগার।গতকাল শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলমান শৈত্যপ্রবাহ কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে।তাছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকায় কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।গতকালও দেশের অধিকাংশ জায়গায় রাত থেকে সকাল এমনকি প্রায় দুপুরবেলা পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে শহর-গ্রাম-গঞ্জ-জনপদ। ঘন কুয়াশার বাধা পেরিয়ে সূর্যের তেজ কমে গেছে। এর ফলে দেশের অনেক জায়গায় দিনের রাতে এবং বেলায়ও শীতের অনুভূতি তীব্রতর রয়েছে। গতকাল দেশের মধ্যাঞ্চলে টাঙ্গাইলে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০.১ ডিগ্রি সে. এবং দিনের ‘সর্বোচ্চ’ তাপমাত্রার পারদও নেমে আসে ১৫.৬ ডিগ্রিতে।

গতকাল রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৫ এবং সর্বোচ্চ ২০৮ ডিগ্রি সে.। চট্টগ্রামে যথাক্রমে ১৫ এবং ২২.৬ ডিগ্রি সে.। গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য সর্বনি¤œ তাপমাত্রা ছিল- চুয়াডাঙ্গায় ৯.৬, গোপালগঞ্জে ৯.৮, পাবনা, নীলফামারী, সিরাজগঞ্জ ও বাঘাবাড়ীতে ১০, রাজশাহীতে ১০.৪, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় ১০.৮ ডিগ্রি সে.।এদিকে পৌষের দ্বিতীয় সপ্তাহে এসে শীতের কামড় বৃদ্ধির সঙ্গে নবান্নের পিঠাপুলি তৈরি এবং খেজুরের রস ও গুড় বেচাকেনার ধুম পড়ে গেছে শহর-বন্দর থেকে গ্রামান্তরে।আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, অস্থায়ীভাবে আংশি মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং এর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

উত্তরাঞ্চলে তীব্র শীতের দাপট :
পৌষ মাসের শুরুতেই উত্তরাঞ্চলে জেঁকে বসেছে শীত। হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ছন্দপতন ঘটেছে। প্রচ- শীতের কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের প্রকোপে ছিন্নমূল মানুষেরা অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়ছেন। অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এবং মানবিক সহায়তার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছেন। এদিকে তীব্র শীতের প্রভাবে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে। আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে এ প্রতিবেদন :
বরিশাল ব্যুরো জানান, গত দুদিন ধরে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাথে কুয়াশা ঘেরা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র বরিশাল। গতকাল শুক্রবারে বরিশালে সূর্যের দেখা মিলেছে দুপুর ১২টার পরে। গত বৃহস্পতিবারও সকাল ১১ টার আগে সূর্য ছিল কুাশায় ঢাকা। মাঝারী কুয়াশায় দৃশ্যমান ৫শ মিটারেরও কম থাকায় গতকাল শুক্রবার বরিশাল সেক্টরে বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স’র অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করেছে। ফলে বরিশাল ও ঢাকায় প্রায় সোয়াশ যাত্রী কয়েক ঘণ্টা বরিশাল ও ফাকা বিমান বন্দরে আটকে ছিল। বরিশালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ১ ডিগ্রী নিচে থাকলেও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে ঠন্ডার অনুভুতি বাড়ছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে। তবে শুক্র,শনি ও রোববার দিন-রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধির কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।

ডিসেম্বর মাসে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৩ ডিগ্রীর স্থলে গত বৃহস্পতিবার সকালে তাপমাত্রার পারদ ১২.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে আসার পরে গতকাল শুক্রবারেও একই পরিস্থিতি অবাহত ছিল। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের প্রায় ২ ডিগ্রী নিচে। সাথে মাঝারী কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় ছিন্নমূল মানুষের প্রাণ অনেকটাই ওষ্ঠাগত। গত ককেদিন ধরেই শেষরাত থেকে সকাল পেরিয়ে দুপুর পর্যন্তই কুয়াশায় ঘেরা থাকছে মেঘনা অববাহিকার পুরো দক্ষিণাঞ্চল। তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনও অনেকটাই বিপর্যয়ের কবলে। তবে আবহাওয়া বিভাগ থেকে ‘দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থানের কথা জানিয়ে তার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে’ বলে জানান হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৩ মাসের দীর্ঘ মেয়াদী বুলেটিনে ৮-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ৩-৯টি মৃদু থেকে মাঝারী এবং ৪-৬ ডিগ্রী সেলসিয়াসের ২-৩টি তীব্র শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা জানান, উত্তরের সীমান্ত জেলা কুড়িগ্রামে তীব্র শীত জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে। জেলার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, সঙ্গে ৯৯ শতাংশ আর্দ্রতা থাকায় শীতের অনুভূতি আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নদীঘেঁষা চরাঞ্চলে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে মানুষ কাজে বের হতে পারছেন না। দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষিশ্রমিক ও ভ্যানচালকদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ না থাকায় অনেক পরিবার অনাহারের ঝুঁকিতে পড়েছে। চিলমারী, রৌমারী, রাজিবপুর, উলিপুর ও কুড়িগ্রাম সদরের চরাঞ্চলে দেখা গেছে শীত নিবারণের মতো পর্যাপ্ত কাপড় না থাকায় শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে।

চর রাজিবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন কোদালকাটি ইউনিয়নের বরবের চরের দিনমজুর কোবাদ আলি বলেন, ‘ভোরে কাজে বের হলে হাত-পা শক্ত হয়ে যায়। কাজ নাই, আয় নাই কিন্তু পরিবার তো না খেয়ে থাকতে পারে না।কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে আরো কয়েকদিন তাপমাত্রা কম থাকতে পারে এবং শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে। এতে শীতজনিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।কুড়িগ্রামে সশস্ত্র বাহিনীর চিকিৎসক ডাক্তার রকিবুল হাসান বাঁধনের মতে, শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বেড়েছে। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে গরম কাপড় ব্যবহার ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা জরুরি।লালমনিরহাট জেলা সংবাদদাতা জানান, সূর্যের আলোর বদলে লালমনিরহাটের ভোর আসে ধূসর কুয়াশা নিয়ে। জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া ঠান্ডা হাওয়া ঘুম ভাঙিয়ে দেয় আগেই। উঠোনের ভেজা মাটি আর কনকনে বাতাসে মনে হয় যেন পুরো জনপদ থমকে আছে। এই বৈরি আবহাওয়ার ভেতরই প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার জন্য লড়াই করেন লালমনিরহাটের মানুষ। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল আর প্রান্তিক গ্রামগুলোতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে বহুগুণ।গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনি¤œ ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বলে রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানিয়েছেন।উত্তরের হিমেল বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়ছে লালমনিরহাটের গ্রাম থেকে শহর সবখানে। এর মধ্যে আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা তিস্তা নদীর চরে শীত আরো নির্দয়। খোলা প্রান্তর, নদীর হাওয়া আর কুয়াশার ভেজা ঠান্ডা একসঙ্গে মানুষের শরীর আর মন দুটোই কাঁপিয়ে দিচ্ছে।চুয়াডাঙ্গা জেলা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গায় ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর প্রচন্ড শীতে চুয়াডাঙ্গার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।এর আগের দিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এদিন ৬টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। বুধবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এদিন সকাল ৬টায় সর্বনি¤œ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। চুয়াডাঙ্গায় ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে এ জেলায় প্রচন্ড শীত অনুভূত হচ্ছে। সেই সাথে মাঝারি ধরনের কুয়াশা বিরাজ করছে।

শরীয়তপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে শরীয়তপুর-চাঁদপুর হরিণাঘাট নৌ-রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি ঘাট কর্তৃপক্ষ।নরসিংহপুর বিআইডব্লিউটিসি অফিস সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে নদী অববাহিকায় ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার ঘনত্বও আরো বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে রাত ১২টার দিকে কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে নৌপথের দিকনির্দেশক মার্কিং বাতিগুলো অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মাঝনদীতে দুর্ঘটনা এড়াতে কর্তৃপক্ষ ফেরিসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।দুর্গাপুর (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় চলমান তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দিনমজুর, কৃষক, ভ্যানচালক, রিকশাচালক ও ছিন্নমূল মানুষ।

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল বাতাস ও কুয়াশার কারণে কাজে বের হতে পারছেন না অনেক খেটে খাওয়া মানুষ। ফলে দৈনিক আয় বন্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। পাশাপাশি শীতের প্রকোপে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি, কাশি, জ্বরসহ শীতজনিত রোগের সংখ্যা বেড়েছে।দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা শিশু ও বয়স্কদের উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘন কুয়াশার সঙ্গে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশার ঘনত্বে বেলা বাড়া অবধি ঢাকা থাকছে গ্রামাঞ্চল। দেখা মিলছেনা সূর্যের। দিনের বেলায়ও হেড লাইট জালিয়ে চলছে যানবাহন। বইছে উত্তরের হিমেল বাতাস।

গতকাল শুক্রবার সকাল নয়টায় কলাপাড়া উপজেলায় সর্বনিম্ন ১২.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে খেপুপাড়া আবহাওয়া অফিস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯১ শতাংশ। আর জেলার অনেক স্থানে কুয়াশার দৃষ্টিসীমা ছিলে ৫০ মিটারের নিচে। শীতের তীব্রতায় জনজীবন অনেকটা নাকাল হয়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন ছিন্নমুল ও শ্রমজীবী মানুষ। অনেকেই খরকুটো জালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে বেড়েছে ঠান্ডা জনিত বৃদ্ধ ও শিশু রোগীর সংখ্যা।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার দাপটে স্থবির হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ সৈয়দপুর। গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা এত বেড়েছে যে, রাত থেকে সকাল ১০-১১টা পর্যন্ত হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় কাঁপছে এই জনপদ। ব্যাহত হচ্ছে সাধারণ জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশা এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও কৃষকর।
গতকাল সকাল ৮টায় সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকে সকাল ৭-৮টা পর্যন্ত বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরছে কুয়াশা। গত তিন দিন থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। গভীর রাত থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে সারা সৈয়দপুর উপজেলা। এ কারণে সকাল ৮টা পর্যন্ত হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে বিভিন্ন যানবাহন। এ সময় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিমান ওঠা নামায় বিঘœ ঘটছে।

সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। শীতের এই প্রভাব আরো কয়েক দিন থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।চারঘাট (রাজশাহী) উপজেলা সংবাদদাতা, রাজশাহীর চারঘাটে শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে পুরানো শীতবস্ত্রের বাজার। গত কয়েকদিনে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নতুন শীতবস্ত্র কেনার সামথ্য না থাকায় অনেকেই ভীড় জমাচ্ছেন পুরানো শীতবস্ত্রের দোকান ও ফুটপাতের অস্থায়ী বাজারে। এতে করে উপজেলার প্রধান প্রধান বাজারগুলোর পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে কেনা বেচা বেশ জমে উঠেছে। ফলে উপজেলা সদর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সবখানেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুরোনো শীতবস্ত্রের বাজার। পুরাতন শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে কম্বল, সোয়েটার, জ্যাকেট, কোট, মাফলার ও উলেন শালের পসরা। এসব শীতবস্ত্রের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকার, কৃষকসহ স্বল্প আয়ের এগুলো কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। বিক্রেতারা বলেছেন শীত যত বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে।

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, হাড়কাঁপানো শীতে কোটালীপাড়ার প্রান্তিক জনপদের মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে রাতে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে রাস্তার ধারে থাকা ছিন্নমূল মানুষ, ভ্যান চালক এবং ঘরবন্দি দুস্থদের মাঝে উষ্ণতার পরশ হিসেবে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। প্রশাসনের কর্মকর্তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে এমন সহায়তা পেয়ে আবেগে আপ্লূত হয়ে পড়েন অনেক অসহায় মানুষ।প্রচ- শীতে সাধারণ মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেই চিন্তা থেকেই গভীর রাতে সমাজের সুবিধা বঞ্চিত শীতার্ত মানুষের খোঁজে বের হন। সমাজের অসহায় মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সরকারের এই সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা সর্বোচ্চ সংখ্যক শীতার্ত মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাই।

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের প্রত্যন্ত হাওর নিকলীতে পৌষের কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে ঘন কুয়াশায় আর কনকনে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে গ্রামীন জনপদ। বেশ কয়েকদিন ধরেই বাড়ছে শীতের তীব্রতা। মাত্রাতিরিক্ত কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে পুরো উপজেলা। এতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষজন। উপজেলার হাওরগুলোতে বোরোধান রোপণের মৌসুম শীতের কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে পারছে না। সিংপুর ইউনিয়নের কৃষক দবির মিয়া জানান বলেন, যে কনকনে ঠান্ডা আর ঘনকুয়াশা পড়ায় কাজে যাচ্ছি। যদি কাজ না করি সন্তানেরা খাবে কি? হাতে ধানের চারা ধরে রাখতে পারছি না। তবে পরিবারের কথা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। শরীর বরফ হয়ে যাচ্ছে। বিগত ১৭ বছরে পাইনি যারা নৌকার লোক ছিল তারাই কম্বলসহ অন্যান্য সাহায্য পেতো। আমরা ধানের লোক তাই চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ সাহায্য করেনি। এদিকে শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ ও শিশুরা।

Top