যানজট নিরসনে ঢাকায় হবে ১৭টি মনোরেল - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
যানজট নিরসনে ঢাকায় হবে ১৭টি মনোরেল তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে তড়িঘড়ি করে আবারও সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে,তিন লাখ কপি ছাপার পর ধরা পড়ল গুরুতর ত্রুট... গ্রামে শিক্ষকের হাহাকার,ঢাকায় ৭শ অতিরিক্ত শিক্ষক, দিন কাটে আড্ডায়,ক্লাস নেই,সিনিয়র শিক্ষকরা সপ্তাহে ... গন্তব্য হতে হবে মেড ইন বাংলাদেশ,আড়াইহাজার থেকে মাতারবাড়ী বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ এফডিআই গতি নেই, কমছে নতুন বিনিয়োগ,বিদেশি সহায়তায় নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ! আওয়ামী লীগ ৭২ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করে, স্বাধীন দেশে ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে তারা খুন করেছে সরকার ক্রসফায়ার চায় না, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি কোনো নির্দেশনাই মানছে না এয়ারলাইন্সগুলো

যানজট নিরসনে ঢাকায় হবে ১৭টি মনোরেল


নুর নবী জনী: রাজধানীর যানজট নিরসনে ১৭টি মনোরেল তৈরির চিন্তা করছে সরকার।সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষকে (ডিটিসিএ) এ তথ্য জানিয়েছে বুয়েটের কারিগরি টিম।কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা এবং আশপাশের এলাকা মিলিয়ে ১৭টি মনোরেল তৈরির সুযোগ রয়েছে।তবে চূড়ান্ত সুপারিশে মনোরেলের সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। রুট চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের অভিপ্রায়ও গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন ডিটিসিএ সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে দুটি মনোরেল ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার। সেই দুটি রুট চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর একটি বসিলা থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার। অপরটি জলসিঁড়ি থেকে পূর্বাচল-মধ্যপাড়া-নামাপাড়া এবং হাজীপাড়া হয়ে বিরুলিয়া স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, ডিটিসিএ থেকে ৫ রুটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করে বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন-সাভার, আশুলিয়া, গাউছিয়াসহ আশপাশের এলাকা মিলিয়ে পরিবহণ রুট করতে হবে। সেটি করা হলে এর সংখ্যা ১৭টি হবে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নয়। চূড়ান্ত সুপারিশে কিছু কমতেও পারে আবার বাড়তেও পারে।তিনি বলেন, বসিলা থেকে পোস্তগোলা এবং জলসিঁড়ি থেকে পূর্বাচল, নামাপাড়া ও হাজীপাড়া হয়ে বিরুলিয়া স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রুটে দুটো মনোরেল বাস্তবায়ন হবে ২০২৯ সালের মধ্যে। সে লক্ষ্যে জোর প্রস্তুতি ও কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রথমে দুটি এবং পরে ধাপে ধাপে বাকিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।নির্বাচনি জনসভায় মনোরেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকার বিদ্যমান ও পরিকল্পিত গণপরিবহণের সঙ্গে সংযোগ রেখে মনোরেলের সম্ভাব্য পথ নির্ধারণ করা হচ্ছে। কোন রুটে যাত্রী চাহিদা বেশি, কোথায় নির্মাণের সুযোগ রয়েছে এবং কোন পথে যাত্রীদের যাতায়াত সহজ হবে এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মনোরেলের সুবিধা কী : মনোরেল হলো একক বিম বা গাইডওয়ে ধরে চলা ট্রেনব্যবস্থা। প্রযুক্তিভেদে ট্রেন বিমের ওপর দিয়ে চলে অথবা নিচে ঝুলে থাকে। শহরে সাধারণত উঁচু পিলারের ওপর এর চলাচলের পথ তৈরি করা হয়। ঢাকার জন্য কোন ধরনের মনোরেল উপযোগী হবে, তা সমীক্ষায় নির্ধারণের কথা রয়েছে। সাধারণ রেলপথের মতো পাশাপাশি দুটি ইস্পাতের রেলের পরিবর্তে একক গাইডওয়ে এর চলাচলের মূল ভিত্তি।মনোরেলের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, উড়ালপথে চলায় এটি সড়কের যানজটে আটকে পড়ে না। নির্দিষ্ট পথে চলাচলের কারণে যাত্রার সময় তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য রাখা সম্ভব। জাপান মনোরেল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় ছোট ব্যাসার্ধের বাঁক ও বেশি ঢালে চলাচলের সুযোগ রয়েছে। ফলে সীমিত নগর পরিসরেও উপযোগী পথ খোঁজার সুবিধা পাওয়া যায়। রাবারের চাকা ব্যবহৃত হয় বলে এর শব্দ ও কম্পনও তুলনামূলক কম হয়।ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে যথাযথ জায়গার ব্যবহার তাই সমীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোথাও সড়কের ওপরের অংশ ব্যবহার করা সম্ভব হলে নতুন জমির প্রয়োজন কমতে পারে। তবে স্টেশন, ওঠানামার ব্যবস্থা, ডিপো ও টার্মিনালের জন্য জায়গা লাগবে। সম্ভাব্য পথের সঙ্গে বিদ্যমান উড়ালসড়ক, সেতু, ভবন ও সেবা সংস্থার অবকাঠামোর অবস্থান মিলিয়ে দেখতে হবে। এসব যাচাই করেই নির্মাণযোগ্য রুট বাছাই করা হবে।

বিশেষজ্ঞ অভিমত : নগর পরিকল্পনাবিদ এবং ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, মনোরেল বাস্তবায়নের উদ্যোগটি প্রশংসাযোগ্য। কেননা মেট্রোরেল অনেক ব্যয়বহুল। দীর্ঘদিন আমরা কম খরচের গণপরিবহণ চালুর বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। বর্তমান সরকার মেট্রোর পাশাপাশি মনোরেলে মনোযোগ দেওয়ায় শহরের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

তিনি জানান, মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে যে খরচ হয়ে থাকে, মনোরেল নির্মাণে তার ৩ ভাগের ১ ভাগ খরচ হবে। তবে এই প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নিখুঁতভাবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা এবং রুট সিলেকশন করতে হবে।যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, মনোরেল ঢাকার বাস্তবতায় খুবই ভালো উদ্যোগ। সরকার এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বুয়েট এর কারিগরি দিক দেখছে। সবকিছু প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।তিনি বলেন, মেট্রোরেল করতে বড় জায়গার দরকার হলেও মনোরেল করতে তেমন বড় জায়গা লাগে না। ঘিঞ্জি এলাকার মধ্যেও মনোরেল তৈরি করা যায়। সেসব এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প থেকে ভালো সুফল পাওয়া যায়।

Top