তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির অসতর্কভাবে শব্দচয়ন করেছেন। তার এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ করা ঠিক হয়নি।কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এতে অংশ নেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বুধবার সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইজিপি যে বক্তব্য দিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হয়তো অসতর্কভাবে শব্দচয়ন হয়েছে। তিনি এ কথা বলেননি যে ক্রসফায়ার করার নির্দেশনা তিনি সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন বা তিনি নিজে তা করতে চান। তারপরও এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ করা তার ঠিক হয়নি।বৈঠকে বিগত ১৭ বছরে নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কমিটির সদস্যরা। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের দাবি জানান নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিরা।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসাবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও তাহসিনা রুশদী নির্যাতন এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। জবাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পুনর্বাসন এবং গুমের সংস্কৃতি দেশ থেকে চিরতরে বন্ধে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে গুমের শিকার বাগেরহাটের মিরাজ শেখের বিষয়ে সরকার তদন্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। আমরা চাই দেশে আর কোনোদিন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম না হোক। প্রয়োজনে গুম প্রতিরোধে আরও আইন হতে পারে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনপ্রবর্তন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এই সরকার কী প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং নির্বাচনকালীন এই সরকারের মেয়াদ কত দিনের হবে-সেসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এড়াতে সম্ভাব্য বিভিন্ন পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে বিশেষ কমিটি-এমন দাবি করে তিনি বলেন, বিষয়টি গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সার্চ বডি গঠন বা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে যাতে পরবর্তীতে কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ না থাকে, সে বিষয়ে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে আলোচনা চলছে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত জুলাই সনদের বিভিন্ন ধারা পর্যালোচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সনদে উল্লেখিত বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।