কোন দলের প্রস্তুতি কেমন,ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু ২১ জানুয়ারি - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
মেহেন্দিগঞ্জের পর এবার বাকেরগঞ্জে জামায়াতকর্মী সাজিয়ে ইসলামী আন্দোলনে যোগদানের নাটক বিচার শেষ হবে কবে ? মাদকের ৯৫ শতাংশ মামলা ঝুলে আছে কোন দলের প্রস্তুতি কেমন,ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু ২১ জানুয়ারি ভারত থেকে আনা চালে ক্যানসারের বিষাক্ত উপাদান, বিতরণ স্থগিত বিরোধী দল সংলাপে এলে জুলাই সনদ নিয়ে নমনীয় হতে পারে সরকার জামায়াত জোটের ঢাকা-খুলনা কুষ্টিয়া লংমার্চ আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী ব্যর্থ, পদত্যাগ দাবি করলেন নাহিদ এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ অনৈতিক সুবিধার গ্রহণের অভিযোগে ২৮ জন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড বাস্তবায়নে সক্ষমতা জরুরি,সমঝোতা-চুক্তি ইতিবাচক

কোন দলের প্রস্তুতি কেমন,ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু ২১ জানুয়ারি


মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :পাঁচ ধাপে এবার সারাদেশের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে নির্বাচন করার প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে সারাদেশে স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা, রোজা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সরকারের সাথে পর্যালোচনা করে ইসি পুনরায় ইউপি নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে। এরপর ইসি পর্যায়ক্রমে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের আয়োজন করবে।প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি।দ্বিতীয় ধাপের ভোট হবে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ভোট হবে ২৭ মে।গত ৬ আগস্ট ইসির বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো.সানাউল্লাহ এ ঘোষণা দেন। এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল ইসি।নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী প্রথম ধাপের নির্বাচনের প্রক্রিয়া আর মাত্র দুই মাস পরেই শুরু হবে। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে তাদের প্রত্যেকেই নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিন্ন ভিন্নভাবে কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।

সরকারে থাকা বিএনপি বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য মাঠপর্যায়ে প্রার্থী নির্ধারণে কাজ করছে দল। দলীয় প্রতীক না থাকলেও একজনকে দলীয় সমর্থন দেবার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে, দলের একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইলে তাতে বাধা দেবার চিন্তা এখনই তাদের নেই। বলা যায়, বিএনপি বেশ সতর্কতার সাথে অগ্রসর হচ্ছে। ক্ষমতাসীন এ দলটি তৃণমূল পর্যায় থেকে জনপ্রিয়, সৎ ও তরুণ প্রার্থীদের বাছাই করতে দেশব্যাপী মাঠপর্যায়ে জরিপ চালাচ্ছে। একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে যাতে কোথাও অন্তর্দ্বন্দ্ব বা সংঘর্ষ তৈরি না হয় সে বিষয়ে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী দলের দায়িত্বপ্রাপ্তরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কাজ করছেন। দলটির নীতিনির্ধারকরা দলীয়ভাবে তাদের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে আরেকটু সময় নিচ্ছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং মো. আবদুস সালামের মতো পরিচিত মুখগুলোকে সমর্থনের বিষয়টি নিয়েও দলে আলোচনা চলছে। তবে আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগে দলীয়ভাবে একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চাচ্ছে না বিএনপি। তফসিল ঘোষণার পর দলের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করলে অভ্যন্তরীণ বিরোধ এড়ানো সম্ভব বলে নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থন, জনপ্রিয়তা এবং জয়ের সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কাজ করছেন। প্রতিটি এলাকায় দল সমর্থিত একজন করেই একক প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে বা শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিরোধী দলে থাকা জামায়াতে ইসলামী তাদের সাংগঠনিক কাজ অনেক এগিয়ে রেখেছে। তফসিল ঘোষণার অনেক আগে সুকৌশলে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এসব প্রার্থী বিলবোর্ড, ব্যানার ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় কমান্ড, কঠোর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আর আগাম প্রস্তুতির মাস্টারপ্ল্যানে একক প্রার্থী বাছাইয়ে স্বস্তিতে রয়েছে জামায়াত। সাধারণত যেকোনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। আর এ সময় দলের কোন্দল চলে আসে প্রকাশ্যে। বিশেষ করে বড় দলগুলোতে একাধিক যোগ্য বা প্রভাবশালী প্রার্থী থাকায় বিদ্রোহ ও কোন্দল সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে জামায়াত এবার প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে অনেক আগে থেকেই তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তও হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রচারণার কাজও চলছে ঠিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই। বেশিরভাগ এলাকায় নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এবং তাদের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলটি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে দলীয় নেতা মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি ও ছাত্রনেতা মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)-কে তাদের মনোনীত প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, স্থানীয় সরকার তথা ইউপি নির্বাচনে আমাদের বেশিরভাগ প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। অল্প কিছু বাকি রয়েছে, সেগুলো দ্রুতই চূড়ান্ত করা হবে। প্রার্থী নির্বাচনে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, যোগ্যতা ও এলাকায় জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের পর তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) সক্ষমতা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে টার্গেট করেছে। এসব জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্তও করে ফেলেছেন। তবে, তফসিল ঘোষণার পরই তারা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন। যদিও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন বলেও জানান দলটির নেতারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ও এনসিপি জোটগতভাবে নির্বাচন করলেও স্থানীয় সরকারে তারা এককভাবে যাওয়ার চিন্তা করছেন বলে জানান দল দু’টির নেতারা। তবে, নির্বাচনের পরও জোটগতভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া জামায়াত ও এনসিপির সিদ্ধান্ত শেষ মুহূর্তে বদলানোর সম্ভবনাও রয়েছে। অন্তত কিছু জায়গায় তাদের মধ্যে সমঝোতা হতেও পারে। এনসিপি মূলত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সাংগঠনিক শক্তিমত্তা ও নিজেদের প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরতে চায়। তবে দলটির নেতারা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পর গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনগুলোতে জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে অন্য সমমনা দলগুলোর সাথে জোট বা সমঝোতা হতেও পারে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আমরা আমাদের দল পুনর্গঠনের সুযোগ হিসাবে কাজে লাগাতে চাই। আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের দলকে ছড়িয়ে দিতে চাই। সারাদেশে আমরা আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ করছি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আমরা আমাদের সমর্থিত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবো।

Top