চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরলেন প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া:জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্যে নানামুখী সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের কথা উঠে এসেছে। ইসিকে তারা বলেছেন,সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও টাকা ঢুকছে।এমনকি নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমাতে টাকার খেলা হতে পারে।সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ও গুজব ছড়িয়ে ভোটের মাঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হতে পারে।তারা আরও বলেন, অনেক সন্ত্রাসী রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে থেকে অপকর্ম করতে পারে।মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা এসব কথা জানান। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বলেছেন,এই নির্বাচনে আইনের শাসন কাকে বলে তা আমরা দেখিয়ে দিতে চাই।বৈঠকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইসির নির্দেশনা চান মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা। পাশাপাশি তাদের নেওয়া পদক্ষেপও তুলে ধরেন। ‘ঐতিহাসিক মডেল নির্বাচন’ আয়োজনে আইনানুগ দায়িত্ব পালনেরও প্রতিশ্রুতি দেন ইসিকে। নির্বাচন কমিশনও তাদের অভয় দিয়ে বলেছে, যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে এবং আইনানুগ কাজ করলে সব সময় পাশে থাকবে ইসি। সন্ত্রাসীদের এলাকাছাড়া করতে হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন,আপনাদের (কর্মকর্তাদের) বক্তব্য শুনে অসম্ভব রকমভাবে আমার বুকের জোর বেড়ে গেছে। তিনি নির্বিঘ্ন ভোট আয়োজন করতে সবাইকে নির্দেশ দেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দুই ধাপে এ বৈঠকের আয়োজন করে ইসি। এতে মাঠ প্রশাসন, পুলিশ ও ইসির ২২৬ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাদের মধ্যে সব বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ছিলেন। প্রথম ধাপের বৈঠকে সিইসি ও চার নির্বাচন কমিশনার বক্তব্য দেন। দ্বিতীয় ধাপের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বক্তব্য দেন।এদিন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ইসিতে এলেও তারা ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। জানা গেছে, মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মো. খোদা বখস চৌধুরী, মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী, আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে তারা কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ফ্যাসিস্টদের তালিকা করে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো দল বা রাজনৈতিক নেতারা যদি তাদের ছাড়াতে তদবির করে, তা শুনবেন না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। পুলিশের যেসব অস্ত্র লুট হয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করতে হবে। উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী গণভোটের প্রচারণা ব্যাপকভাবে করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।
সড়ক অবরোধ বন্ধের সময় এসেছে-আইজিপি : বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে এবং সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এবারের নির্বাচন সফল ও সুন্দরভাবে করতে পারব। সম্পূর্ণ সক্ষমতা আমাদের আছে। জুলাই-উত্তর বাংলাদেশে বাস্তব কারণে আমরা আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময় নানা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি। আসন্ন নির্বাচনে আমরা যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছি। কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের অব্যাহত সহযোগিতা চাই। সমাজের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, রাস্তা অবরোধ, মহাসড়ক অবরোধ, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি-এসব প্রচেষ্টা দেখতে পাই। এসব বন্ধ করার সময় এসেছে। আমরা যদি অর্ডার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, নির্বাচনে ইসিকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
মাঠ কর্মকর্তাদের শঙ্কা : বৈঠকে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা নানা শঙ্কা ও চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমার বিভাগের তিন দিকে সীমান্ত এলাকা। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, টাকা ও সন্ত্রাসীরা ঢুকছে। সন্ত্রাসীরা অপরাধ করে আবার সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তায় জোর দেন। এ কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসীদের চলাফেরা জিপিএস’র মতো কঠিনভাবে মনিটরিং করা দরকার। জেলের ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যাতে অপরাধ ঘটাতে না পারে, সেজন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, অতীতে অর্থহীন নির্বাচন হয়েছে। এবার ইতিহাসের মাইলফলক নির্বাচন হবে। আমরা নির্বাচনি কাজকে ইবাদত মনে করে দায়িত্ব পালন করব।
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও ১৩টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন,সন্ত্রাসীদের জামিনের বিষয়টি বিচার বিভাগের বিষয়। তবুও বলব, তাদের জামিনের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা গেলে নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষার কাজ সহজ হবে।
খুলনার বিভাগীয় কমিশনার বলেন,অস্ত্রের ঝনঝনানি বা অস্ত্র উদ্ধার,এআই ও চ্যাট জিপিটির অপব্যবহার,এগুলো নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রোনের ক্ষেত্রে আরেকটু ইন্সট্রাকশন পেতে চাই।কারণ কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো ড্রোন প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইসির নির্দেশনা চেয়েছেন তিনি।
ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক বলেন, আমরা যারা পুলিশ রয়েছি এবং প্রশাসনে যারা রয়েছেন তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলা অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যথাযথ ভূমিকা পালনে আমাদের সরব উপস্থিতি থাকবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশের উপমহাপরিদর্শক বলেন, গণমাধ্যম, ইউটিউব, ফেসবুকে আইনশৃঙ্খলা বিপর্যস্ত নিয়ে অনেক কথা শুনি। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা সিরিয়া, লেবানন আর ইরিত্রিয়া-এরকম কোনো দেশে বসবাস করছি। আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারটাকে এভাবেই এত নেতিবাচকভাবে তুলে ধরায় ভোটে এর প্রভাব পড়ছে। এতে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে আমার নিজের ব্যাপারেই আমি বিব্রত, বিচলিত ও লজ্জিত। এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু আমরা আমাদের চেষ্টা পুরোটাই করছি। আমরা হয়তো পারছি না। কিন্তু আমরা কারও সাহায্য পাচ্ছি না।
রাজশাহী পুলিশ কমিশনার বলেন, আমরা এআই জেনারেটেড ছবি বা ভিডিও বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিকে জানাচ্ছি। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য যদি সাজা দেওয়া হয়, তাহলে এটা দেখে অন্য কেউ করার সাহস পাবে না।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অপরাধীদের ঢালাও জামিন বন্ধের বিষয়ে বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। ময়মনসিংহ বিভাগে কয়েকটি জেলায় সীমান্ত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার বিষয়ে আরও সহযোগিতা বাড়াতে পারে। তিনি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসে টাকা লেনদেন বাড়বে। এটা যাতে কমিয়ে আনা যায়, সেই নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার বলেন, সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দলের ছত্রছায়া নেওয়ার চেষ্টা করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এটা এক ধরনের প্রতিকূলতা। এ বিষয়ে ইসির নির্দেশনা চান তিনি। এ কর্মকর্তা তার জেলায় পুলিশ সংকটের কথাও তুলে ধরে বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। বিশেষ করে ফ্যাসিস্টদের মোকাবিলা করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কোন্দল কিছু বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কোন্দলও সমস্যা তৈরি করছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অস্থিরতা সৃষ্টিকারী কন্টেন্ট রয়েছে। তফসিলের পর পুলিশের অভ্যন্তরীণ পদায়নের (কনস্টেবল, এএসআই, এসআই) বিষয়টি পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
সিলেটের পুলিশ কমিশনার বলেন, ৫ আগস্টের পর এনটিএমসির কার্যক্রম কিছুটা সীমিত করা হয়েছে। এখন আমাদের যে পরিস্থিতি সেখানে এই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেফতার বা ভোটে বাধা সৃষ্টিকারীদের ধরার জন্য এনটিএমসিটির কার্যক্রম আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার বলেন, ভালোভাবে কাজ করার পরও ফিল্ড লেভেলে বিভিন্নভাবে সমালোচনার মধ্যে পড়ি। এটা আপনারা দেখবেন। একই দিনে দুটি নির্বাচন হওয়ায় সচেতনতাটা খুবই জরুরি। খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার ফয়সাল কাদের বলেন, সংসদ ও গণভোট একই দিনে একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গণভোটের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণার দরকার। তরুণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে ইসির উদ্যোগ চান তিনি।
রাজশাহীর ডিসি বলেন, বৈধ অস্ত্রগুলো জমা করার জন্য আমরা কোনো চিঠিপত্র পাইনি। এটা এখন প্রয়োজন। এআই সৃষ্ট অপতথ্য রোধে একটি পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত চান তিনি। চট্টগ্রামের ডিসি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেখানে দ্রুত অস্ত্র উদ্ধার প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে কমিশনের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। এছাড়াও তিনি সন্দ্বীপসহ দুর্গম এলাকার জন্য প্রয়োজনে হেলিকপ্টার সহযোগিতা চান। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সিলেটের ডিসি বলেন, সাইবার তৎপরতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশ ও বিদেশ থেকে ফেক নিউজ হচ্ছে। সেগুলো নিয়ে মেটার সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন তিনি।
কুমিল্লার এসপি বলেন, নির্বাচনে অনেক অভিযোগ পুলিশের কাছে আসে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়ালে এসব অভিযোগ কমে আসবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না বাড়াতে পারলে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
আইনের শাসন কাকে বলে, আমরা তা দেখিয়ে দিতে চাই-সিইসি : গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বিঘ্ন করার জন্য সব ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নিতে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনাররা বলেছেন, এ নির্বাচন ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে। সন্ত্রাসীদের এলাকাছাড়া করতে হবে। অস্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত মাঠ প্রশাসন, পুলিশ ও ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনাররা এ কথা বলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করতে হবে। আইনের শাসন কাকে বলে, আমরা তা দেখিয়ে দিতে চাই। যোগসাজশ করে ‘ম্যানেজড নির্বাচন’-এর অপবাদ আমরা ঘোচাতে চাই। দেশ আজ একটি যুগসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা দায়বদ্ধ থাকব। এই দেশটা আমার, আপনার সবার। দেশকে সঠিক অবস্থায় রেখে যাওয়া আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। আমাদের ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিচ্যুতি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই মিলে নির্বাচনি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করব। আপনারা যখন সাহসী সিদ্ধান্ত নেবেন, আইন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেবেন এবং বিধিবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন, তখন নির্বাচন কমিশন আপনাদের পাশে থাকবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি বলেন, আপনারা নির্বাচনসংশ্লিষ্ট আইনকানুন ভালোভাবে পড়বেন এবং সে অনুযায়ী প্রিসাইডিং অফিসারদের গাইড করবেন। সিইসি নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগকেন্দ্র স্থাপন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে তাগিদ দেন। নির্বাচনি আচরণবিধি পরিপালনসংক্রান্ত পদক্ষেপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের উদ্যোগ নিতে হবে। এতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। সম্প্র্রতি ময়মনসিংহে একজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা প্রসঙ্গ টেনে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘কমিউনাল হারমনি মাস্ট বি মেনটেইনেড।’ এটা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের মধ্যে রাখতে হবে। আর বয়স্ক, ফিজিক্যালি ডিজঅ্যাবল যারা আছেন, তারা যেন কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন এই ব্যবস্থাটা করতে হবে।