তফসিলকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নতুন অধ্যায় হিসাবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তফসিলকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নতুন অধ্যায় হিসাবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিলকে বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য নতুন অধ্যায় হিসাবে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি।যে গণতন্ত্রে উত্তরণের জন্য দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে এ দেশের জনগণ জীবন বাজি রেখে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তফসিলের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশ একটি কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।মির্জা ফখরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র প্রিয় সব দল অংশ নেবে। একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে।এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কখনোই কোনো শঙ্কা ছিল না। বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে নির্বাচনই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ। সেই পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় ঘোষিত তফসিলকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি মনে করি এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত বড় ও উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এটাকে সুষ্ঠুভাবে পালন করা ও অনুষ্ঠান করা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব।বিএনপির মহাসচিব জানান, তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করবে। বিগত ১৫ বছর এ দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। আজকে আবার একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।রাষ্ট্রের সংস্কার আলোচনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রায় ৯ মাস রাষ্ট্রের যে সব সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। অনেক বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, কিছু বিষয়ে হইনি। সেগুলো গণভোটের মাধ্যমে আসবে।’

একই দিনে গণভোটের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছুটা সমস্যা তো হবেই এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, তাহলে সেগুলো উতরাতে সক্ষম হব।গণভোট নিয়ে বিএনপির প্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের দলের সিদ্ধান্ত। প্রচারণার ব্যাপার এসেই যাবে।স্বাগত জানিয়েছে মিত্ররা : গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বৃহস্পতিবার রাতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুগান্তরকে বলেন, তফসিল ঘোষণাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি। এর মধ্যে দিয়ে পুরো দেশ এখন নির্বাচনি ট্রেনে উঠল। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর যুগান্তরকে বলেন, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সরকারের একটি প্রধান দায়িত্ব ছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান করা। গণতান্ত্রিকভাবে একটি নির্বাচন করা সরকারের প্রধান এজেন্ডা ছিল। মানুষ গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। তাদের কাছ থেকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন করবে। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। আমরা এটিকে স্বাগত জানাই। তবে নির্বাচনি পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আমরা আশা করি নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবে।এছাড়াও নির্বাচনি তফসিলকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমামনা জোট, গণফোরামসহ বিএনপির মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো।

Top