ধর্ষিতা এক কিশোরীকে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা। - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্... তফসিল ঘোষণার আগে আইন সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা এনসিপি থেকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন এম. আনোয়ার হোসেন সিকদার চরামদ্দি মূগাখাঁন মসজিদ প্রাঙ্গণে গীতা পাঠ, ক্ষমা চাইল বিএনপি কোরআন-সুন্নাহর বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন জনগণ মেনে নেবে না ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান ১৬ মাস ধরে এআই দিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে ভুয়া খবর নজরদারিতে দিল্লি প্রশিক্ষিত আমলারা দিল্লির সঙ্গে আঁতাতেই আওয়ামী লীগ মিছিলের সুযোগ পাচ্ছে সঙ্কটের কথা বললেই স্বৈরাচার ফেরার ভয় দেখায় সরকার

ধর্ষিতা এক কিশোরীকে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা।


পাখি আক্তার:জ্বীনে আসর করেছে আখ্যা দিয়ে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার কেশবকাঠী গ্রামের ১৪ বছর বয়সের ধর্ষিতা এক কিশোরীকে শিকলবন্দি করে রেখেছে তার পরিবারের সদস্যরা।শুক্রবার দুপুরে নিজবাড়িতে শিকলবন্দি অবস্থায় ওই কিশোরী স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জানায়,তাকে নাকি জ্বীনে আসর করেছে এজন্য তার বাবা-মা তাকে শিকল বন্দি করে রাখে। মঙ্গলবার বিকেলে পরিবারের অজান্তে সে(কিশোরী)শিকলের তালা খুলে বাড়ি থেকে বের হয়। একইদিন সন্ধ্যায় জামবাড়ী-মশাং সড়কের নির্জনস্থানে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক এক ভ্যান চালক ধর্ষন করে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার রাতে কেশবকাঠী এলাকার বাসিন্দা গিয়াস মৃধা ও কবির মৃধা জামবাড়ী-মশাং সড়কের নির্জনস্থান থেকে একই এলাকার রবি শাহারুর পুত্র এক সন্তানের জনক ভ্যানচালক সঞ্জিত শাহারু ও কিশোরীকে একত্রে দেখে তাকে খবর দেয়। পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছে কিশোরীসহ ভ্যান চালক সঞ্জিতকে উদ্ধার করে হাবিবপুর কলেজ মাঠে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে উভয়কে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য গিয়াস ও কবিরকে অনুরোধ করেন। এরইমধ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামের পুত্র রাসেল হোসেন ঘটনাস্থলে এসে সঞ্জিতকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় এবং ওই কিশোরীকে গিয়াস ও কবির মৃধার জিম্মায় রাখে।

তিনি আরও জানান,এ ঘটনায় বুধবার রাতে হাবিবপুর বাজারে বসে ওই কিশোরীর পরিবারকে না ডেকে কিংবা ওই কিশোরীর কোন বক্তব্য না শুনেই স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম,শাজাহান হাওলাদার, গিয়াস মৃধা, কবির মৃধা ও জুয়েল মৃধা কথিত সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে সঞ্জিতকে তিন হাজার টাকা জরিমানা করে।

ধর্ষিতা ওই কিশোরীর পিতা জানান,কথিত সালিশ বৈঠকে জরিমানা করার কথা তিনি শুনেছেন। তবে সালিশ বৈঠকে তাদেরকে ডাকা হয়নি। তিনি আরও জানান,তার কন্যার উপর মাঝে মধ্যেই বদ জ্বীন আসর করে। যার ফলে প্রায়ই তাকে শিকলবন্দি করে রাখা হয়।
সালিশকারী কবির মৃধা ও জুয়েল মৃধা জানান, তারা কেউই সালিশিতে ছিলেন না বরং মোস্তাফিজুর নিজেই সালিশে ছিলেন। উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Top