সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
এক শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লুটপাটের ময়দানে পরিণত হয়েছে বিআরটিসি কোটি কোটি টাকা লোপাট চলছে দুদকে অভিয... বরিশালে ডাঃ তহুরার হাতে বলি হলো উদীয়মান উদ্যোক্তা নাজিয়া মাইশা পে ফিক্সেশনের পর তিন মাসের বকেয়া সমন্বয় রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ চাপের আহ্বান বাংলাদেশের ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ৬ কর্মকর্তা বরখাস্ত জীবনযাত্রায় চাপ,দেশজুড়ে বাজার-গণপরিবহণে অস্থিরতা নতুন রাস্তা কেটে নালা দ্বিগুণ ব্যয়ে ডাস্টবিন এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা ,সারা দেশ,রাজধানীসহ কড়া নজরদারি পুলিশের ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে শুল্ক না কমিয়ে দাম বৃদ্ধির পথেই হাঁটল সরকার

সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।


আবুবকর সিদ্দীক:যানজট কমাতে রাজধানীতে সড়কে শৃঙ্খলা মেনে চলার বিষয়টি বার বার উচ্চারিত হয়েছে।বাস্তবতা হচ্ছে সড়কে শৃঙ্খলার বড়ই অভাব।গাড়ি লেন ধরে চলে না,একই রাস্তায় ভিন্ন ধরন ও গতির গাড়ি,ফুটপাতগুলো দখলে,ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও তার বেশিরভাগই দখলে, অধিকাংশ আবার ব্যবহারের অনুপযোগী।এছাড়া নাগরিক সচেতনতারও অভাব রয়েছে।এ অবস্থায় শুধু জরিমানা করে কাঙ্খিত ফল পাওয়া যাবে না। জনসচেতনতার পাশাপাশি রাস্তায় সার্বিকভাবে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।নগরবাসীর পথ চলাচল নিশ্চিত ও রাজধানীর দুঃসহ যানজট থেকে রক্ষা পেতে হলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে সবার আগে।এ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে।নানা সময় নির্দেশনায়ও এসেছে। কিন্তু পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।একদিকে চলে উচ্ছেদ অভিযান,অন্যদিকে আবার দোকান বসে যায়-এভাবে চলে উচ্ছেদ-দখল খেলা। কিন্তু দিনের পর দিন তো এ অবস্থা চলতে পারে না।

যে কোনো মূল্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।পথচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে ফুটওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে আগে। এরপর জেল-জরিমানার বিষয়। পথচারীদেরও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে হবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো অবস্থায়ই রাস্তা পারাপার চলবে না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি সুসমন্বিত পন্থায় এগিয়ে যেতে হবে।রাজধানীর ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।রাজধানীর মোট দুই হাজার ২৮৯ দশমিক ৬৯ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে অনেকাংশই নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের দখলে। বিশেষ করে ঢাকার ফুটপাতগুলো দখলে থাকায় যারপরনাই ভোগান্তির শিকার হয় সাধারণ মানুষজন। যানজটের নিগড়ে পিষ্ট মানুষের কাছে এ যেন গোদের ওপর বিষফোড়া।

সাধারণত হকাররাই ফুটপাতগুলো দখল করে রাখে। এজন্য ফুটপাতগুলো হকারমুক্ত রাখা প্রয়োজন। আসলে ঢাকায় যে পরিমাণ জমি রয়েছে তার জন্য ২৫ ভাগ রাস্তা দরকার। সেখানে অলিগলিসহ আছে মাত্র ৭ ভাগ। মেইন রোড আছে ৩ ভাগ। এই ৩ ভাগের ৩০ ভাগ দখল করে অবৈধ দখলদাররা। যার মধ্যে একটি অংশ হচ্ছে হকাররা। রাজধানীর ৭০ শতাংশ ফুটপাত প্রাইভেট গাড়ি দখল করে রেখেছে। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, রাজধানীর অধিকাংশ রাস্তার পাশেই যেসব দোকান ও আবাসিক ভবন রয়েছে তাদের কোনো পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে রাস্তার অর্ধেকটা তারা দখল করে গাড়ি পার্কিং করে। দিনের পর দিন প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।

আসলে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হলে উভয়পক্ষ থেকেই দায়িত্বশীল কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে।স্রোতের মতো হকাররা আসতে থাকবে আর তারা ফুটপাত দখল করে ব্যবসাবাণিজ্য করবে তারপর পুনর্বাসনের দাবি তুলবে এটি কখনও বাস্তবসম্মত নয়।এজন্য সবাইকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। যে কোনো মূল্যে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।পথচারীরা যাতে নির্বিঘ্নে ফুটওভার ব্রিজ ও ফুটপাত ব্যবহার করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে আগে। এরপর জেল-জরিমানার বিষয়।পথচারীদেরও এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল হতে হবে।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোনো অবস্থায়ই রাস্তা পারাপার চলবে না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি সুসমন্বিত পন্থায় এগিয়ে যেতে হবে।
কবি,সাংবাদিক,আলোকিত বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক।

Top