হ্যাঁ যেভাবে পাশ হয়েছে সেভাবেই বাস্তবায়ন চায় বিরোধী দল - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
কুয়াকাটায় হামলায় আহত সাংবাদিক বাচ্চুর পাশে বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গুম-খুনের তিন মামলার রায় হতে পারে এ বছর যাত্রীর অভাব নেই,আছে টিকিটের হাহাকারও,তবুও লোকসান,চুরি-দুর্নীতি বিতর্কে শুরু বিতর্কেই সমাপ্তি বরিশালে জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার

হ্যাঁ যেভাবে পাশ হয়েছে সেভাবেই বাস্তবায়ন চায় বিরোধী দল


মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া:জুলাই সনদ যেভাবে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী হয়েছে সেভাবেই বাস্তবায়ন চায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট।এ ব্যাপারে একবিন্দুও ছাড় দিতে নারাজ তারা।সংসদ অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতাকে এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়ার যে পরামর্শ দিয়েছিলেন, সেই নোটিশও প্রস্তুত রয়েছে। আগামীকাল রোববার মুলতবি অধিবেশন শুরুর আগেই তা জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।ওইদিন সংসদে কী সিদ্ধান্ত আসে তার ওপর ভিত্তি করে আসতে পারে ১১ দলীয় জোটের রাজপথের কর্মসূচি।

জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে গত ১৫ মার্চের বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ওইদিন তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে এসেছে; যা জারি করা হয়েছে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর।

সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ পুরোটা পড়ে শুনিয়ে তিনি বলেন, এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই অধিবেশন ডাকা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য শেষে তাকে সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বিধিসম্মতভাবে সংসদে নোটিশ দিতে বলেন।

জামায়াতে ইসলামীর নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, দলের আইন বিশেষজ্ঞরা স্পিকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নোটিশ প্রস্তুত করেছেন। ইতোমধ্যে তা দলের হাইকমান্ডের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পরে এটি নোটিশ আকারে জমা দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, রোববার সংসদের বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই নোটিশটি জমা দেওয়া হবে। ওইদিন আবারও বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন তথা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ উত্থাপন করবেন। স্পিকার কী সিদ্ধান্ত দেন তার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।

১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের একজন শীর্ষ নেতা শুক্রবার বলেন, আমরা আশা করি সংসদেই বিষয়টির সমাধান হবে। কারণ যারা সরকারে আছেন তারাও এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন এবং হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। আমরা রাজপথে যেতে চাই না। কিন্তু সরকারের মতি-গতি ভালো মনে হচ্ছে না। তারা নিজেদের মতো করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। আমরা বলেছি, গণভোটে হ্যাঁ যেভাবে পাশ হয়েছে সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

১১ দলের ওই শীর্ষ নেতা আরও জানান, জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ২৯ মার্চ রাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংসদের অবস্থা দেখে ওই বৈঠকেই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, এমন হতে পারে যে, জুলাই সনদ প্রশ্নে সংসদ এবং রাজপথ উভয় স্থানেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে আমরা কোনো ছাড় দেব না।

শুক্রবার সকালে মগবাজারে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টরাল সিস্টেমস (আইএফইএস)-এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ-সদস্য সাইফুল আলম মিলন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংসদ থেকে পদত্যাগ নয়, বরং সংসদে থেকেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রয়োজনে সনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজপথেও অবস্থান নেওয়া হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সাইফুল আলম মিলন অভিযোগ করেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা করছে সরকারি দল।

১৫ মার্চ সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর বিরোধী দলের যেসব সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠান হয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ অন্য নেতারা একই সুরে কথা বলেছেন। ইফতার মাহফিল, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সর্বশেষ স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সংসদে জুলাই সনদের মীমাংসা না হলে তারা রাজপথে নামবেন। কোনো কোনো নেতা আরেকটি জুলাই বিপ্লবেরও হুমকি দিয়েছেন।

Top