বিআরটিসির ডিজিএম আশরাফুল আলমের খুঁটির জোর কোথায় : প্রধানমন্ত্রী ও দুদকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
এবি সিদ্দীক ভূইঁয়া : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের কর্মকর্তা মো: আশরাফুল আলম, ডিজিএম-চলতি দায়িত্ব এর দুর্নীতি-চেযারম্যান এর দালালি-অনৈতিক কাজে মহিলা স্টাফ সরবরাহ কর্মকর্তাদের নিয়ে সিন্ডিকেট পরিচালনা-ইউনিট প্রধান বদলী-বাণিজ্য, শ্রমিক-কর্মকর্তা নির্যাতনে ভয়াবহ চরিত্রের অধিকারী একজন কর্মকর্তা।
মো: আশরাফুল আলমেরচাকুরি জীবন শুরু ইন্সট্রাক্টর পদের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে। ২০০৩ সালে ইন্সট্রাক্টর হতে সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর ও পদ পরিবর্তনে ম্যানেজার (কারিগরি) আত্নীয়করণ করেন। পরবর্তীতে আর কোন পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় ২০১৭ সালে চলতি দায়িত্ব (ডিজিএম) এর পদ পান।
তার চাকুরী জীবনে প্রথম দুর্নীতির বড় কাজটি হল বিআরটিসির কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানা, গাজিপুরে পদায়ন ও ভলভো বাসের মেরামতে ২০০৯ সালে সরকার কর্তৃক ৮ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পে ভলভো বাসের পরিবর্তে বিআটিসির অন্য বাস (দ্বিতল-টিসি) মেরামতে পরিবর্তন করা হয় এবং দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি করা হয়।
ওই প্রকল্পে দুর্নীতিরসহ আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করে ২০১৯ সালের ২৩ জুন তারিখে বিআরটিসির কর্মচারীদের পক্ষে মো: নজরুল ইসলাম একটি অভিযোগ দাযের করেন এবং ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর তারিখে মো: আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে মন্ত্রনালয় কর্তৃক পত্র নং-৩৫.০০.০০০০.০১৩.৯৯.০২৪.১৮-১৫১ ইস্যু হয়।
ওই প্রকল্প ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর থাকলেও তা সফলভাবে মোকাবেলা করে আশরাফুল হয়ে উঠে বিআরটিসির দুর্নীতিতে নেতৃত্ব দানকারী কর্মকর্তা। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
মো: আশরাফুল আলম একে একে গাজিপুর বাস ডিপো, জোয়ার সাহারা বাস ডিপো, মতিঝিল বাস ডিপো, কল্যাণপুর বাস ডিপো, কেন্দ্রীয মেরামত কারখানা, তেজগাও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, তেজগাও ঢাকা ট্রাক ডিপোতে পোষ্টিং নেন। তখন থেকেই তার মাধ্যমে ডিপোর ইউনিট প্রধানের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
মো: আশরাফুল আলম বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো: জসিম, মো: মিজানুর রহমান, মো: ফরিদ ভুইয়া, এহছানে এলাহি, মো; তাজুল ইসলাম ও বর্তমান চেযারম্যন মো: আব্দুল লতিব মোল্লার ভরসার পাত্র হয়ে উঠেন। তাদের সকল অপকর্মের সহযোগী হিসাবে এই আশরাফুল আলম এখনো অপ্রতিদন্ধি।
বিআরটিসিতে মো: আশরাফুল আলমের রয়েছে বিশাল কর্মকর্তা সিন্ডিকেট। সেই সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন, বর্তমান বিআরটিসির চেয়ারম্যানের পিএস মো: মোহাইমিম সজিব, বিআরটিসি বরিশাল বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: জুলফিকার, খুলনা বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: কামরুজ্জামান, টুঙ্গিপাড়া বা ডিপোর ম্যানেজার মো: জামশেদ,
রংপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: জুরফিকার আলী ভুট্টো,
বগুড়া বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: শাহিনুর, দিনাজপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: মোস্তাফিজুর, ময়মনসিংহ বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: এনামুল, গাজিপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: মোশাররফ, সোনাপুর বাস ডিপোর মো: রাজু মোল্লা, কুমিল্লা বাস ডিপোর ম্যানেজার (মো: আব্দুল কাদের জিলানি, নরসিংদি বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: নুর এ আলম, সিলেট বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: রুকনুজ্জামান, মিরপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: ওমর ফারুক মেহেদি, কল্যাণপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: শাহরিয়ার বুলবুল, গাবতলি বাস ডিপোর ম্যানেজার মো: নায়েব আলী, ঢাকা ট্রাক ডিপোর ম্যানেজার মো: মোশাররফ হোসেন সিদ্দিকি।
এছাড়াও বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রয়েছে আরও প্রায় ১০/১২ জন কর্মকর্তা। তার মধ্যে মো: মনিরুজ্জামান, ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম অন্যতম।
মো: আশরাফুলের ক্ষমতা এতই বেশি যে, তিনি গাজিপুর ওয়ার্কশপ ও ডিপো ব্যাতীত ঢাকার বাইরে ও প্রধান কার্যালয়ে কখনই পদায়িত হন নাই। ঢাকার ভিতরে বাস ডিপো, ওয়ার্কশপ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হলেও তার অফিসের সিংহভাগ সময় কাটে প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করে।
মো: আশরাফুল আলম গাজিপুর, জোয়ার সাহারা, মতিঝিল, কল্যানপুর, ওযার্কশপ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে জানুয়ারী-২০১৩ হতে ডিসেম্বর-২০২০ পর্যন্ত ৮ বৎসর দায়িত্ব পালন করে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা লোপাট করেছেন।
এ সকল বিষয়ে লিখতে গেলে শত শত পাতা লাগবে। বরং তার ঢাকা ট্রাক ডিপোতে ফেব্রুয়ারী-২০২১ হতে ডিসেম্বর-২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বৎসরের কিছুটা দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্রে দেখা যায়, ফেব্রুয়ারী-২০২১ হতে ডিসেম্বর-২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ বৎসরে ঢাকা ট্রাক ডিপোর রাজস্ব অর্জন ২৮৩,৮৫,২২,০০০ টাকা। এই টাকায় ট্রিপ হতে আয় ২৪-২৫ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট ২৫৮-২৬০ টাকা প্রাতিষ্ঠানিক আয়। মোট আয় ব্যয় ২৪৮,০৯,০০,০০০ টাকা ও মোট আয়ের ৮৭.৪০%, উদ্বৃত্ত/নীট লাভ ৩৫,৭৬,২২,০০০ টাকা ও মোট আয়ের ১২.৬০%। মাসিক নীট লাভ ৭৪,৫০,৪৫৮ টাকা।
ব্যয়ের ২৪৮,০৯,০০,০০০ টাকার মধ্যে জ্বালানি খাতে ব্যয় ১০৭,৪৫,৪১,৪৩৯ টাকা ও মোট আয়ের ৩৭.৮৬%। উল্লেখ্য, তার সময়কালে মাসিক বেতন ৫০ হতে ৮০৯ লক্ষ টাকা ছিল। এই বেতন এখন উন্নিত হয়ে কোটি টাকা হয়েছে। তাতে বর্তমান সময়ে গড়ে ৫০-৫৫ লক্ষ টাকা নীট লাভ হওযার কথা। দেখা যাক তার পরবর্তী ইউনিট প্রধানের জানুয়ারী-২৫ হতে নভেম্বর-২৫ পর্যন্ত ১১ মাসের নীট লাভ ৮,৫১,৫৮,৬৫২ টাকা, মাসিক গড় ৭৭,৪১,৬৯৬ টাকা। বর্তমান ইউনিট প্রদানের ডিসেম্বর-২৫ হতে জুলাই-২৬ পর্যন্ত ০৮ মাস সময়ে নীট লাভ ৭,১৩,৮০,০০০ টাকা, মাসিক গড় ৮৯,২২,৫০০ টাকা। মাসে শুধুমাত্র বেতন বাড়ল ১০- ২০ লক্ষ টাকা। অন্য খরচের বিষযগুলি বিবেচনায় নেওযা হয়নি, তারপরেও এই অবস্থা। আরেকটি বিষয় হল মো: আশরাফুল আলমের পরেরব২ জন ইউনিট প্রধান যে ঈমানদার তা নয়, এখনও এই ডিপোটিতে মাসে ৫০ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়।
যন্ত্রাংশ হিসাবঃ জানুয়ারী-২০২১ হতে ডিসেম্বর-২০২৪ পর্যন্ত মেরামতে ব্যয় ৯,৪৯,০১,৮১১ টাকা। এ যন্ত্রাংশের মধ্যে ডিসেম্বর-২০২২ এর পূর্ববর্ত সমযে ক্রয়কৃত যন্ত্রাংশের পরিমান ৩,৩৭,৮৯,৭১১ টাকা। ডিসেম্বর-২০২২ হতে ডিসেম্বর-২০২৪ পর্যন্ত সময়ে ৬,১১,১২,১০০ টাকা, পরিশোধ ৫,৩৪,৬১,৬২৭ টাকা ও ভ্যাট/ট্যাক্স ৭৬,৫০,৪৭৩ টাকা। যন্ত্রাংশের মধ্যে ক্লাচ প্লেট নামের একটি যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধি দেখলেই যন্ত্রাংশ ক্রয়ে মো: আমরাফুল আলমের দুর্নীতি পরিমাণ আন্দাজ করা যাবে। ০৩-০৩-২০২২ এ একটি ক্লাচ প্রেট ছিল ৮৫০০ টাকা, ক্রয় করা হয় বাংলাবাজার, ঢাকা, আইচার মটরস হতে। ২৭-০৩-২০২২ এ একটি ক্লাচ প্রেট ছিল ১৩,৩০০ টাকা, ক্রয় করা হয় বাংলাবাজার, ঢাকা, মিজান মটরস হতে (টেন্ডার ছাড়া)। ২৪-০৬-২০২৩ এ একটি ক্লাচ প্লেট ছিল ১৬,৩৫০ টাকা, ক্রয় করা হয় বাংলাবাজার, ঢাকা, মিজান মটরস হতে (টেন্ডার এর মাধ্যমে)। ডিপোর প্রতিটি যন্ত্রাংশ ক্রয়ের চিত্রই এমন, ভুয়া ভাউচার/নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ক্রয়ের বিষয়টিতো আছেই। মো: আশরাফুল ট্রাক ডিপোতে তার দায়িত্বকালীন সময়ে ৯,৪৯,০১,৮১১ মেরামতে অর্ধেকই ছিল দুর্নীতি। এখনও ক্যাশ টাকায় ভাল মানের একটি ক্লাস প্লেট ৭-৮ টাকায় ক্রয় করা যায়।
টায়ার হিসাবঃ জানুয়ারী-২০২১ হতে ডিসেম্বর-২০২৪ পর্যন্ত টায়ার ক্রয়ে ব্যয় ১০,৪২,৫১,৯৮৮ টাকা। এ যন্ত্রাংশের মধ্যে ডিসেম্বর-২০২২ এর পূর্ববর্ত সমযে ক্রয়কৃত যন্ত্রাংশের পরিমান ৪,৬৩,৩৬,৯০০ টাকা। ডিসেম্বর-২০২২ হতে ডিসেম্বর-২০২৪ পর্যন্ত সময়ে ৫,৭৯,১৫,০৮৮ টাকা। ভ্যাট/ট্যাক্স ৭৬,৫০,৪৭৩ টাকা। ১৫-০৩-২০২২ এ একটি ১০.০০-২০ এমআরএফ টায়ার ক্রয় করা হয় প্রতিটি ২৭,০০০ টাকা, ক্রয় করা হয় বাংলাবাজার, ঢাকা, নোমান এন্টারপ্রাইজ হতে (টেন্ডার ছাড়া)। ২২-০৬-২০২৩ এ একটি ১০.০০-২০ এমআরএফ টায়ার ক্রয় করা হয় প্রতিটি ৩৩,৫০০ টাকা, ক্রয় করা হয় বাংলাবাজার, ঢাকা, নোমান এন্টারপ্রাইজ হতে (টেন্ডার ছাড়া)। ০৭-০৯-২০২৪ এ একটি ১০.০০-২০ এমআরএফ টায়ার ক্রয় করা হয় প্রতিটি ৩৮,১৫০ টাকা, ক্রয় করা হয় বাংলাবাজার, ঢাকা, নোমান এন্টারপ্রাইজ হতে (টেন্ডার এর মাধ্যমে)। টেন্ডারের নামে প্রতি টায়ারে ১-১.৫ বৎসরের ব্যবধানে ১০-১২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়। মূলত কিভাবে দুর্নীতি করতে হয় মো: আশরাফুল আলম তা জানে।
জ্বালানি তেল হিসাবঃ জ্বালানী খাত বাসের রক্ষণাবেক্ষণ লগ বই ও ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক জার্নি লগ বইয়ে কি: মি: এ পার্থক্য দেখিয়ে মো: আশরাফুল আলম দীর্ঘ ৪ বছরে কয়েক কোটি টাকা লোপাট করেছে, যা ডিপোর রেকর্ড বইয়ে প্রমাণীত। জ্বালানী-মেরামত-টায়ার এর বাইরে আরও ৩টি বড় খাত হল সরকারী পণ্যে ভ্যাট-ট্যাক্স, যা সরকারী প্রতিষ্ঠান হতে সরাসরি কর্তনযোগ্য।
টোল-ফেরি হিসাবঃ মাসে ৪০-৫০ লক্ষ টাকা টোল/ফেরি। কিন্তু এই ফেরি/টোল এর ব্যয় সংক্রান্ত স্পেশিপিক কোন রেকর্ড নেই। আর এই টাকার পুটোটাই তুরা হয ক্যশিযার কর্তৃক ব্যাঙক হতে ক্যাশ টাকা।
আনলোডিং হিসাবঃ অনলোডিং এ মাসে ব্যয় ৪০-৫০ লক।স টাকা (চট্টগ্রাম ট্রাকসহ, নোট: চট্টগ্রাম ট্রাকের অনলোডিং ব্যয় ঢাবকা ট্রাক কর্তৃক করা হয়। এই খাতটিতে ব্যয় বিবরণতে যে পরিমান ব্যয দেখানো হয়েছে ব্যয় তার ছেয়ে মো: আমরাফুরৈর দায়িত্বকালনি সময়ে ৩ হতে ৪ কোটি টাকা কম, যা ব্যাংক হতে সরাসরি উত্তলন করে আত্নসাৎকৃত। জ্বালানী, মেরামত, টায়ার, ভ্যাট/ট্যাক্স-টোল/ফেরি-অনলোডিং মত আরও ৪০ হতে ৫০টি খাতে ডিপোর ব্যয় হয়। যাহার প্রত্যেকটি খাতেই কম-বেশি দুর্নিত রয়েছে। এই সকল ব্যযের বাইরে খাত বর্হিভুত চেক কেটে নগদ উত্তোলিত কয়েক কোটি টাকার ব্যয়ের কোন হদিস নাই।
বর্তমান সময়ঃ মো: আমরাফুল বর্তমানে কেন্দ্রীয মেরামত কারখানরা ডিজিএম হিসেবে দাযিত্ব পালন করছেন। প্রায় প্রতিদিন তিনি প্রধান কার্যালয়ে আসেন তার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন ও ইউনিট প্রধান বদলী বাণিজ্যের ধান্ধা নিয়ে। তবে তার প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপও বর্তমানে বেশ সক্রিয়, এই গ্রুপের নেতৃত্বে রযেছেন তার এক সমযের শিষ্য মো: মাসুদ তালুকদার। যিনি বর্তমানে জোযারসাহারা বাস ডিপোর ম্যানেজার হিসাবে দ্বায়িত্বে রয়েছেন।
সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনঃ আশরাফুল আলম এ সিন্ডিকেট নিয়মিত মনিটরিং করেন এবং মাসিক মাসোহারা আদায়ে তিনি সমন্বযকের দায়িত্ব পালন করেন। সিন্ডিকেট সদস্যরাও ঢাকায় আসলেই নিয়মিত যোগাযোগের বাইরেও তার তেজগাঁও এর দপ্তরে যান। এই দপ্তরে প্রায় প্রতিদিনই প্রধান কার্যালয়ের মো: মনিরুজ্জামান, মো: ফারুক মো: নাযেব আলী ও মো: মোহাইমিম মিলিত হন।
বদলী বাণিজ্যঃ ইউনিট প্রধান বদলীর প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার হস্তক্ষেপ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জোয়ারসাহারা ও চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপোর ইউনিট প্রধান বদলীর ক্ষেত্রে তিনি কিছুটা হোচট খেয়েছেন। তার প্রিয় একজন সিন্ডিকেট সদস্য মো: সুলতানকে পরপর ২ বার বদলী আদেশ করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এই বদলির পেছনে মোটা অংকের টাকার লেনদেন ছিল।
বিআরটিসি চেয়ারম্যানের দালালিঃ একটু পেছনে ফিরলে দেখা যায়, মো: জসিম হতে বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা সকল চেযারময়ান তাদের চাওয়া-পাওয়া মিটাতে মো: আশরাফুল আলম অতুলনীয়। কোন চেয়ারম্যান তার প্রতি বিরুপ নেই বরং তাদের মন্ত্রে অনেক চেযারম্যান তার দপ্তরে এখনও আতিতেয়তার জন্য আসেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো মো: মিজানুর রহমান।
অনৈতিক কাজে মহিলা স্টাফ সরবরাহঃ তার স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখার জন্য বিআরটিসির মহিলা স্টাফদের ব্যবহারেও তার দ্বিধা নেই। ২০১৭ সালে চেযারম্যান মো: ফরিদ ও ২০২১ হতে ২০২৫ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকাল চেয়ারম্যান মো: তাজুলের সময়ে এই বিষযটির চর্চা অনেক বেশি হযেছে। আর তার মুল দায়িত্বে ছিলেন মো: আশরাফুল আলম। তার দপ্তরে পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কয়েকটি অনৈতিক ঘটনার নিষ্পত্তি হয়েছে। কলি নামের এক মহিলা কর্মকর্তাকে
২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের আগষ্ট মাস পর্যন্ত বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদকে সাপ্লাই দিয়েছে আশরাফুল আলম। পরবর্তীতে আশরাফুল আলমের অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে কলি ছুটি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। বর্তমানে কলি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিআরটিসির চেয়ারম্যান তাজুলকে অনৈতিক কাজের জন্য আশরাফুল আলম বাস কন্ডাক্টর ফাহিমা, কন্ডাক্টর জাকিয়া, কন্ডাক্টর নুসরাত, এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ইশরাত বর্তমানে ওয়েলফেয়ার অফিসার, জব এসিস্ট্যান্ট বর্তমানে হোস্টেল সুপার মৌসুমি এই মেয়েদেরকে আশরাফুল আলম চেয়ারম্যানকে রেগুলার সাপ্লাই দিত। শুধু তাই নয় চেয়ারম্যানের অনৈতিক কর্মকান্ডের সময় আশরাফুল আলম নিজে স্টান্ডবাই দাড়িয়ে থেকে পাহারাও দিতো। বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাকেও নাকি তিনি নারী সাপ্লাই দিয়ে থাকেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
শ্রমিক-কর্মকর্তা নির্যাতনঃ মো. আশরাফুল আলমের স্বার্থের বিপরীতে বিআরটিসির স্বার্থ নিয়ে কথা বললে তাকে হয়রানির স্বীকার হতে হয়। এমন অনেক ঘটনাই আছে। তার দপ্তরে হেলাল নামের একজন স্টাফ কাজ করে। এই হেলাল তার জন্য সব করেছে। কিন্তু তার ব্যাক্তিগত চাওয়ার বিষয় সামনে আনলেই তাকে ট্রাক ডিপোতে বদলী করে নীজ দপ্তরে কাজ করাচ্ছে। তার ট্রাক ডিপোতে দায়িত্বতকালীন সময়ে ইয়ার্ড এর উন্নয়ন কাজ চলা অবস্থায় ঢালাই দেখতে গিয়ে কতটুকু ঢালাই হওয়ার কথা আর কতটুকু হচ্ছে এ বিষয়ে মন্তব্য করায় শাস্তিমূলক বদলী করা হয় হেলালকে। গত ৮-৯ মাস পূর্বে ঢাকা ট্রাক ডিপোতে শ্রমিক ও ম্যানেজারের মধ্যে দন্দের কারণ শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। এই অসন্তোষের মুল নায়ক ছিলেন মো: আশরাফুল আলম।
এ সকল বিষয়ে কয়েকদফা আশরাফুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন বক্তব্য বা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ এ ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
বিআরটিসির ডিজিএম আশরাফুল আলমের সকল দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার সহ তার সকল কর্মকাণ্ড তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, সড়ক মন্ত্রী, সড়ক প্রতিমন্ত্রী, সড়ক সচিব, দুদক চেয়ারম্যান সহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বিআরটিসির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।