বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
‘রুপালি ধোঁকা’ইলিশের নামে ব্যাংকগুলো গ্রাহককে আমানতের বিপরীতে গড়ে যে হারে মুনাফা দিচ্ছে,এর চেয়ে মূল্যস্ফীতির হার অনেক বেশি রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ,অন্য হোতারা ধরা না পড়ায় প্রশ্ন ব্যাংকক বৈঠকে চাওয়া হবে ৫০০ কোটি ডলারের ঋণ বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার আতঙ্কে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীরা,বিএনপিতেও শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান অর্থনীতি নাজুক, পরিশোধে অক্ষমতায় হতে পারে বিপদ,কমছে আয়, ঋণেই ভরসা লন্ডনে এমপি সরোয়ার আলমগীরের সাথে মতবিনিময়: প্রবাসীদের সম্মান-নিরাপত্তা ও কালুরঘাট সেতু’র কাজ দ্রুত ... মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা দুই মেট্রোরেল পাচ্ছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা

বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার


স্টাফ রিপোর্টার :সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর ও জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালককে (ইডি) হুমকি ও নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা হওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দুই বারের সংসদ-সদস্য আখতারুজ্জামান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ডিবি উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইলিয়াস কবির বলেন, বিমানবন্দর থানার একটি মামলায় আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। গ্রেফতারের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী তীব্র নিন্দা ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

এর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এই মামলা করেন। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার বলেন, মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আগত একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের ব্যাপক চাপের কারণে ৮ নাম্বার লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলি সংকট দেখা দেয় এবং লাগেজ পেতে বিলম্ব হয়। যাত্রীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনার একপর্যায়ে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে তার দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যান এবং নির্বাহী পরিচালককে গালাগাল করেন এবং ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’, ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও চরম অশালীন মন্তব্য করেন।

পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয় যখন মেজর আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করেন। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে মেজর আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকেও গালাগাল করেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এছাড়া তিনি অন্য সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা পবিত্র জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

বাদী দাবি করেন, অভিযুক্তের এমন কর্মকাণ্ডে একটি স্পর্শকাতর ও সংরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং বিমানবন্দরের স্বাভাবিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে গ্রেফতারের আগে দেওয়া আখতারুজ্জামানের একটি ভিডিও বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি যেন জনগণের জন্য বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শহীদ হতে পারি, আল্লাহ যেন আমার সেই আহ্বান কবুল করেন। জনগণের অধিকারের সংগ্রামে আমি আছি, আজীবন থাকব। জানা যায়, অভিযুক্ত মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এক সময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপি থেকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে ৫ বার বহিষ্কৃত হয়েছেন। বারবার দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার কারণে তার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।

জামায়াতে ইসলামীর নিন্দা-প্রতিবাদ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার বিবৃতিতে বলেছেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান পবিত্র ওমরা পালন শেষে বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তিনি হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। এতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। পুলিশ নিজেই জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করা হবে। অথচ তদন্তের আগেই উদ্দেশ্যমূলকভাবে মামলা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিরুদ্ধে কথা বলায় তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা দেওয়া হয়েছে।

উত্তরায় বিক্ষোভ : আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিকালে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর উত্তরা অঞ্চল। উত্তরার জসীম উদ্দীন সড়ক মোড় থেকে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাতের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে বিমানবন্দর সড়কে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখান থেকে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করা হয়।

বাংলাদেশ লেবার পার্টি : হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা, সাবেক সংসদ-সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। শুক্রবার লেবার পার্টির মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদার বলেছেন, বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ পেতে বিলম্ব, ট্রলি সংকট, যাত্রী হয়রানি এবং প্রবাসীদের ভোগান্তির দায় কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

Top