আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না,সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনে এগোতে চাই - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ

আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না,সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনে এগোতে চাই


মোহাম্মাদ মহাব্বাতুল্লাহ মাহাদ:সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জাতিকে আর বিভক্ত করতে চাই না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনে এগোতে চাই। সংসদে আমাদের বক্তব্য হবে যৌক্তিক এবং শালীন, কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হবে না। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদে একটি নতুন ইতিহাস তৈরি হবে।এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে না পারলে, আমরা যত পরিকল্পনাই করি না কেন, কোনোটিই সফলতার মুখ দেখবে নাসব দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে যাবে।বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের অর্থনীতি ভঙ্গুর। ব্যাংকিং সেক্টর ও স্টক মার্কেট-অর্থনীতির এই দুটি মূল পিলারে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এসব জায়গা দলীয় প্রভাবমুক্ত করে উপযুক্ত এবং সৎ লোকদের দ্বারা পরিচালনা করা দরকার। মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাকরিতে কোটা নয়, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ চাই। কোটা আন্দোলন নিয়ে সমাজ ইতোমধ্যেই প্রতিবাদ করেছে। আমরাও এর প্রতিবাদ করি। মেধার মূল্যায়ন হোক, কোনো দলীয় আনুকূল্য যেন না থাকে।

শিল্প খাতের সংকটের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে পোশাক খাতের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্প মালিকরা যদি দেউলিয়া হয়ে যান, ব্যাংক ধ্বংস হবে, অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্পকে বাঁচাতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগী এবং চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে।ডা. শফিকুর রহমান বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের ওপর যে তাণ্ডব চালিয়েছে, গুম, খুন ও লাখো মামলা দিয়ে বিরোধী দলকে যেভাবে নিগ্রহ করেছে, তার অবসান হয়েছে ২৪-এর ছাত্র-তরুণের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে। হাজারো শহীদ আর পঙ্গুত্ববরণকারী তরুণের রক্তে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তিনি বলেন, পালিয়ে গিয়েও তারা (আওয়ামী লীগ) শান্তি দিচ্ছে না। বারবার দেশকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। রাজনীতি করলে দেশে থাকতে হয়, পালায় কেবল চোর আর লুটেরারা।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ৬৮ দশমিক ২ ভাগ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালত চাইলে যে কোনো আইন বাতিল করতে পারে, কিন্তু গণপরিষদ বা সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে আইন হলে তা কেউ বাতিল করতে পারে না। আমরা চাই সংসদে আলোচনা করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হোক, যেন দেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে না আসে।ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী হিসাবে আমরা সৎ সম্পর্ক চাই। কিন্তু আমাদের দেশের খুনিদের তারা কেবল আশ্রয়ই দিচ্ছে না, রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগও দিচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা সীমান্তে ফেলানীর লাশ দেখতে চাই না। বাংলাদেশ এখন থেকে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলবে, কারও অধীনতা আর মেনে নেবে না।

Top