স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি
মোহাম্মাদ মহাব্বাতুল্লাহ মাহাদ : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ প্রস্তাব অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারী ও বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রশাসকদেরও এ নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে দলটি।মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সাক্ষাত করে ৯ দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা বলেন,নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে কোনো কথা বলার সময় এখনো আসেনি। আমরা এখনো আস্থাশীল।বৈঠকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন, আবদুর রব, সংসদ-সদস্য নাজিবুর রহমান এবং ইয়াসিন আরাফাত) বৈঠকে অংশ নেন। বেলা ১১টার পরে শুরু হওয়া বৈঠকটি দেড় ঘণ্টা চলে।
বৈঠকে শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশে সব নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নিয়ে আসছেন। তারা রাজনীতি করতে পারেন, ভোট দিতে পারেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা অংশ নিয়েছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ইসি নিজেরাই বৈঠক করে সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছেন-‘এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।’ ইসির এমন সুপারিশকে অসাংবিধানিক উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি করেছে জামায়াত। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন; কিন্তু ইউপিতে পারবেন না-এটি হতে পারে না। এটি সরাসরি সংবিধানের লঙ্ঘন।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে আবারও দাবি জানিয়েছে জামায়াত। এ বিষয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের কোনো পদধারী ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করতে বলেছি।নির্বাচনে কমিশনের অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে তার মতো ব্যক্তির রাজনৈতিক নিয়োগ সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী ও আইনের লঙ্ঘন। তার ব্যাপারে আমাদের উদ্বেগ জানিয়েছি। এই দাবি মানতে হবে।’ সামসুল আলম দায়িত্বে বহাল থাকলে জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সেই সময় আসুক, এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি।স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণারও দাবি করেছে জামায়াত। এমনকি তফসিল ঘোষণার পর তারা পদত্যাগ করেও যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারে, সেই দাবি তাদের।জামায়াত নেতা বলেন, ‘কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে ইসি ইতিবাচক। আবার কিছু কিছু বিষয়ের ব্যাপার সরকারের করণীয় বলে জানানো হয়েছে। ফলে সেসব বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এটি দলগত নির্বাচন নয়। ফলে দলীয় কোনো প্রার্থী ঘোষণা হবে না। প্রার্থীরা ইনডিভিজুয়ালি ইলেকশন করবে। কোনো প্রতীক নেই, কোনো দলের বর্ণনা এখানে নেই।১১ দলীয় এক্য জোটগতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, ‘ঐক্যটি শুধু জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়েছিল। স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি, প্রত্যেক দল নিজ নিজ দলের প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।