বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাযায় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের অংশগ্রহণ বই ছাপায় সিন্ডিকেট,আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে পুলিশকে গুলি,মোবারকসহ গ্রেফতার ৪,পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত , লুট হওয়া অস্ত্র-গু... ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন ফের আলোচনায় ভারতের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন,বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার অপপ্রচার ঠেকাতে এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ,

বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা


বিশেষ প্রতিনিধি:রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন ও আধুনিক পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নতুন একটি মেট্রোরেল প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা। ব্যয়ের বড় জোগান দেবে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।এমআরটি (ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট) লাইন-২’ নামে প্রকল্পটি গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত চলাচল করবে। এই মেট্রো লাইন রাজধানীর অন্যান্য মেট্রোরেলকেও সংযুক্ত করবে। চলতি বছরের শেষে বা আগামী বছরের প্রথমে কাজ শুরু করে ২০৩০ সাল নাগাদ এই রুটে মেট্রোরেল চলাচল শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পের প্রাক প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (পিডিপিপি) পর্যালোচনা করছে পরিকল্পনা কমিশন। কমিশনের মতামত পাওয়ার পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কাছে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ঋণ সংগ্রহের জন্য পাঠানো হবে। এর পর সমীক্ষাসহ প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ এ ধরনের প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে থাকে। ওই বিভাগের প্রধান কবির আহমেদ জানান, মন্ত্রণালয় থেকে পিডিপিপি তারা পেয়েছেন। প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বৈদেশিক অর্থায়নের নিশ্চয়তা পেতে এখন ইআরডিতে পাঠানো হবে। তিনি বলেন,প্রস্তাবিত এমআরটি-২ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন লাইন। কারণ,এটি ঘনবসতিপূর্ণ এবং প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা পুরান ঢাকাকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

ইআরডির বিশ্বব্যাংক উইংয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মেট্রোরেল-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তা দিতে নীতিগত সম্মতি রয়েছে বিশ্বব্যাংকের। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কয়েক দফায় আলোচনা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্প নিতে সাহস করেনি। এমনকি প্রাথমিক সমীক্ষার জন্য বিশ্বব্যাংক ঋণ দিতে চেয়েছিল। সেই অর্থও নেওয়া হয়নি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মেট্রো লাইন-২ প্রকল্পে ঋণ সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং এমআরটি-২ প্রকল্পে অর্থায়নের ওপর একটি উপস্থাপনা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনায় ৫৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এআইআইবির সঙ্গেও ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা কমিশনে পিডিপিপি পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, মেট্রোরেল লাইন-২ প্রকল্পের স্টেশন হবে ২৪টি। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। পাতাল ও উড়াল দুই ধরনের রুট থাকবে এতে। প্রকল্পের সমীক্ষার জন্য গাবতলী থেকে ডেমরা এবং গাবতলী থেকে ডেমরা হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের মতামত অনুযায়ী, প্রকল্পের রুট বিন্যাসে নারায়ণগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করে গত মে মাসে পিডিপিপি করা হয়।

গত ১২ জুলাই এমআরটি লাইন-২-এর পিডিপিপি নীতিগত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরিকল্পনায় গাবতলী থেকে নারায়ণঞ্জের তারাবো পর্যন্ত চলাচল করার কথা রয়েছে। মাঝখানের স্টেশনের মধ্যে রয়েছে– ঢাকা উদ্যান, বছিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি, বাসস্ট্যান্ড, জিগাতলা, সায়েন্স ল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, কাপ্তানবাজার ও ডেমরা। এ ছাড়া গুলিস্তান থেকে নয়াবাজার হয়ে সদরঘাট পর্যন্ত এর একটি শাখা লাইন নিয়ে যাওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।জানা গেছে, প্রকল্পটি পরবর্তী সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এমআরটি লাইন-২-এর সঙ্গে অন্যান্য মেট্রো লাইনের সংযোগ থাকবে। গাবতলী অংশে এমআরটি-৫ (উত্তর ও দক্ষিণ), কমলাপুর অংশে এমআরটি-১, ৪ ও ৬ এবং সাইনবোর্ড স্টেশনে এমআরটি-৪-কে সংযুক্ত করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রকল্পের রুট বিন্যাস নীতিগত অনুমোদনের জন্য গত বছর ৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। তবে গত ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে মেট্রো লাইন-২ প্রকল্পটি আপাতত স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। নতুন মেট্রোরেল প্রকল্প শুরু করার আগে ঢাকার সম্পূর্ণ মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বাস্তবায়নের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছিল তখন।এ কারণে গত অর্থবছর সব মেট্রোরেলের বরাদ্দ কমানো হয়েছিল। বর্তমান সরকার মেট্রোরেলের সব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মেট্রোরেলের জন্য বড় আকারে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

Top