সংসদীয় জবাবদিহিতা ও জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি ১১ দলীয় ঐক্যের
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসন এবং সংসদীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক শীর্ষ যৌথ বৈঠক শেষে জোটের নেতারা এই নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন।জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর পরিবর্তন আনার আহ্বানের পাশাপাশি দাবিনামা বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ সারির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আব্দুল কাইয়্যুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ জোটের অন্য শীর্ষ নেতারা।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জোট নেতারা দেশের বিদ্যমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন যে, দেশে অনিয়ন্ত্রিত লোডশেডিং এবং তীব্র গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রকৃত জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে বিরোধী দলের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলকে দেওয়ার জোর দাবি জানান তারা। এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, বিচারব্যবস্থা ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের তাগিদ দিয়ে নেতারা জানান, শুধু সরকার পরিবর্তন হলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারা বলেন, প্রশ্ন পছন্দ না হলে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো সুস্থ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। ৫ সেপ্টেম্বর লংমার্চ দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি বিভাগে কর্মসূচি পালন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে দাবি আদায়ে মাঠের আন্দোলন জোরদার করার কথা জানান জোটের শীর্ষ নেতারা।