গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন চায় জামায়াত, রাষ্ট্রপতিকে চিঠি - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সংসদে বিশেষ অধিবেশন চায় জামায়াত, রাষ্ট্রপতিকে চিঠি


নুর নবী জনী:বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে আলোচনায় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) এই চিঠি দেওয়া হয়।এতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। লাগামহীন লোডশেডিংয়ে একদিকে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে শিল্প-উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের প্রত্যক্ষ প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যা জনগণকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এই সংকটকালে আমরা নীরব থাকতে পারি না। দেশের এই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংসদে অর্থবহ আলোচনা ও আশু সমাধান খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।সংবিধানের ৭১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শে দায়িত্ব পালন করতে হয় রাষ্ট্রপতিকে। ফলে জামায়াত চাইলেও প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ না দিলে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না। জামায়াত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীকে ও সংসদ সচিবালয়েও পাঠিয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, যুদ্ধ বা বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে আলোচনার নজির থাকলেও, বাংলাদেশে তা নেই। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে আলোচনা করতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ‘বিশেষ অধিবেশন’ হয়েছিল ২০২০ সালের ৮ আগস্ট। সংসদের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষ্যে ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল সংসদের আরেকটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হয়।বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের বাংলাদেশ সফরে আসা উপলক্ষ্যে বিশেষ অধিবেশনের নজির রয়েছে। তবে এতে আলোচনা হয় না। সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ভাষণ দেন সংসদে। যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসিপ ব্রোজ টিটো ১৯৭৪ সালের ৩১ জানুয়ারি সংসদের বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। একই বছরের ১৮ জুন ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি আরেকটি বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন।

Top