বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিভ্রান্তকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন


রিপোর্ট আলোকিত বার্তা :একইভাবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও চাইবেন সঠিকভাবে বন্দর থেকে যেন কাঁচামাল আসতে পারে। তাই যারা শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, বিভ্রান্তকারীরা সুযোগ পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।’ রোববার বাঁশখালীর সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা বাহারছড়ায় বন্যাদুর্গতদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেছেন, ‘দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের পূর্বশর্ত হলো শান্তিশৃঙ্খলা। বাজারে গন্ডগোল হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।কারণ, একজন ছোট দোকানদারও চান গন্ডগোলে যেন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি না হয়।চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ-সদস্যসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী এবং পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক রাসেল ইকবাল।

প্রায় ১৬ মিনিটের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিতে কী কী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে কী করা হবে, তা তুলে ধরেন। বাঁশখালীসহ উপকূলীয় এলাকাকে অর্থনৈতিক হাব হিসাবে গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে দেশে ১০ বছরের জন্য জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, তা সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশীয় বা বিদেশি বিনিয়োগকারী যারা আছেন, তারা যখন বিনিয়োগ করবেন, তারা তো চাইবেন তাদের মিলকারখানার উৎপাদিত পণ্য যেন ঠিকভাবে বন্দর দিয়ে যেতে পারে। আবার কাঁচামাল সঠিকভাবে আসতে পারে। যদি মিলকারখানা না চলে সঠিকভাবে, তাহলে কর্মসংস্থান হবে না। এজন্য সবাইকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজে হাত দিয়েছিলাম। এই প্রজেক্টের কাজ শেষ হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মূল্য উদ্দেশ্য ছিল, ভাইদের পাশাপাশি যাতে বোনরাও সংসারের হাল ধরতে পারেন। একটি স্বাবলম্বী পরিবার গড়ে তুলতে পারেন। সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারেন। স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন মায়েরা। মায়েদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য এই ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডের ব্যবস্থাও করেছি।’

চট্টগ্রামকে অর্থনৈতিক করিডর হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকালে আমি মাতারবাড়ীসহ চট্টগ্রামের মহেশখালী ও মীরসরাই অঞ্চল পরিদর্শন করেছি। বিশাল সমুদ্র আমাদের জাতীয় সম্পদ। চট্টগ্রম অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে বহু শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে এবং হাজার হাজার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা কেমন হবে, সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।তিনি বলেন, ‘আমরা এমন পরিকল্পনা নিচ্ছি, যাতে স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মিলকারখানা কিংবা বাসাবাড়ি-সব জায়গায় মানুষ যেন ঠিকভাবে বিদ্যুৎ পায়। গাড়ি-মোটরসাইকেলসহ সবকিছুতে মানুষ যেন সহজে গ্যাস পেতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ে থাকা ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে পাঁচ বছরের মধ্যে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে, যাতে তৃণমূলের মানুষ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা পান।সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ঘর হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের জন্য নতুন করে নির্মিত ঘরের চাবি অনুষ্ঠানে হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে বাহারছড়া সাগরপারে হেলিকপ্টারে করে পৌঁছেন তিনি। নেমেই নতুন নির্মিত একটি ঘর পরিদর্শন করেন এবং সেটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে ঘরের পাশে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। ২টা ৫ মিনিটে সভাস্থলে উপস্থিত হন। এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী যান প্রধানমন্ত্রী।

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, এদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এখানেও তিনি বিভ্রান্তকারী ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।তিনি বলেন, ‘এখন সময় দেশ গড়ার। এখন সময় জাতির ভাগ্য গঠনের। কাজেই ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে। জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপির সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বন্যাদুর্গত ৩০ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে এবং ১৫ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদসহ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সবার আগে বাংলাদেশ লেখা বুলেটপ্রুফ লাল-সবুজের গাড়িতে করে হাটহাজারী পৌরসভায় অবস্থিত আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম প্রকাশ হাটহাজারী মাদ্রাসায় যান এবং হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি (রহ.) ও হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী (রহ.)-সহ অন্য আলেমদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর তিনি (প্রধানমন্ত্রী) হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক মাওলানা মুফতি খলিল আহমেদ কাসেমীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন এবং তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লুতে সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান : এদিন রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তবে এর আগে থেকেই র‌্যাডিসন ব্লুর সামনের রাস্তায় হাজার-হাজার নেতাকর্মী তাদের প্রিয় নেতাকে দেখতে অবস্থান নেন।

Top