আরেকটি অনিবার্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
কুয়াকাটায় হামলায় আহত সাংবাদিক বাচ্চুর পাশে বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গুম-খুনের তিন মামলার রায় হতে পারে এ বছর যাত্রীর অভাব নেই,আছে টিকিটের হাহাকারও,তবুও লোকসান,চুরি-দুর্নীতি বিতর্কে শুরু বিতর্কেই সমাপ্তি বরিশালে জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার

আরেকটি অনিবার্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে আরেকটি অনিবার্য লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।তাদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আমাদের রাজপথে আসতে হলো। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য তারাই (বিএনপি) গণভোটের প্রস্তাব করেছিল। গণভোটে তারা হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট চেয়েছিল। এখন তা বাস্তবায়ন করছে না। তিনি বলেছেন, যারা জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করবে তাদের আমরা ছাড় দেব না। জীবন দিয়ে হলেও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে ছাড়ব। শুক্রবার ঢাকার সোহরাওায়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, ‘হাসিনার হাতে সবাই আমরা নির্যাতিত। কিন্তু নির্যাতিতদের একটি দল ক্ষমতায় গিয়ে সে কথা ভুলে গেছে।

তিনি বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি ২টা ভোট হয়েছিল। একটি তারা মানছেন, আরেকটি মানছেন না। তাদের কাছে এখন গোশত হালাল, সুরুয়া হারাম। জনগণের রায়কে অস্বীকার করার কারণেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। যারা জনরায়কে অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। তাই জনগণের রায়কে মেনে নিন। অন্যথায় আপনাদের পরিণতিও ভালো হবে না। আল্লাহকে হাজির নাজির রেখে বলছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্রাম নেব না।

জামায়াত আমির আরও বলেন,সরকারে যারা আছেন তাদের শুভবুদ্ধির উদয় না হলে সংসদ আর রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। তখন বালির বাঁধ দিয়ে ঠেকাতে পারবেন না।নির্বাচিত হলে সবাইকে নিয়ে সরকার পরিচালনা করবেন’-তারেক রহমানের এমন উক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন তারা কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না।’ শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের ২টি স্লোগান ছিল। একটি ছিল ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস।’ আরেকটি ছিল ‘দেশাটা কারও বাপের নয়।’ এখনো যদি কেউ সেটা না মানেন এবং ফ্যাসিস্ট হতে চান তাহলে আগের মতোই পরিণতি হবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আল্লামা মামুনুল হককে সংসদে যেতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু উনাকে কতদিন আটকাবেন। রাজপথে এসে দেখুন। জনগণের প্রতিনিধি আলেম ওলামারাই আগামীতে দেশ পরিচালনা করবেন।’

গণসমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে আরেকটি জুলাই বিপ্লব হবে। আজকের সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হলো। এই দাবি বাস্তবায়নে আগামী তিন মাস আমরা জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল করব।’

তিনি সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ ইরানের পক্ষে। তারপরও আমাদের জ্বালানিবাহী জাহাজ আপনারা ছাড়াতে পারেন না। সরকার এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংসদে আমাদের নানা বিধিতে আটকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু রাজপথে কোনো বিধিতেই আটকানো যাবে না। সময়মতো সংসদ এবং রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। বিএনপি গণভোটের প্রস্তাব করে এখন তা মানছে না। তারা জাতির সঙ্গে বারবার প্রতারণা করে চলেছে।’

এলডিপির সভাপতি ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘তারা চায় জেলা চলবে তাদের হুকুমে। বিচার বিভাগ, পিএসসি, নির্বাচন কমিশন সব চলবে তাদের হুকুমে। এমন একটি বাকশালী রাজত্ব তারা কায়েম করতে চায়। এজন্যই জুলাই সনদ মানতে চায় না।’ তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে আর বেশিদিন সরকারকে সহযোগিতা না করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। দেশকে কারও তাঁবেদার বানাতে দেব না।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারি, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

Top