বিশ্বজুড়েই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা চলছে
মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া :বিশ্বজুড়েই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা চলছে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের পাম্পে পাম্পে তেলের জন্য যখন হাহাকার চলছে সেই সময় এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম কেজিপ্রতি এক ধাক্কায় বাড়ানো হলে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা।চলতি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মাসে ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক প্রেস বিফ্রিং-এ এলপিজির এই দাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম বেশ বেড়েছে। বেসরকারি আমদানিকারকদের আমদানি ব্যয় যাচাই-বাচাই করে এলপিজির নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের অন্যতম এলপিজি অপারেটর ওমেরার চেয়ারম্যার আজম জে চৌধুরী গতকাল বলেন,মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বিশ্ববাজারকে উলটপালট করে দিচ্ছে। এলপিজির দাম ছাড়াও ফ্রেইড চার্জ অস্বাভাবিক বেড়েছে। বাংলাদেশের আমদানিকারককে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বেশি দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। তবে যুদ্ধ থেমে গেলে এই দাম অনেক কমে আসবে।উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসে দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল এলপি গ্যাসের দাম। তবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এতদিন সেই দামে দেশের বাজারে বিক্রি হয়েছে এলপি গ্যাস।দেশের সরবরাহ করা এলপিজির ৯২ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়।এদিকে,বৃহস্পতিবার এপ্রিল মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা বাড়িয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ২ মার্চ সবশেষ সমন্বয় করা হয় অটোগ্যাসের দাম। সে সময় ভোক্তা পর্যায়ে ৩ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের মূসকসহ দাম প্রতি লিটার ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বরিশালে দু’হাজারেও মিলছে না এলপি গ্যাস-বরিশাল ব্যুরো জানান,বরিশালে রান্নার এলপি গ্যাসে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার রাত থেকে হঠাৎ নগরীর সব দোকান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার উধাও হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এতদিন ১৫০০ টাকায় সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি হলেও বুধবার রাত থেকে দুই হাজার টাকায়ও মিলছে না। এতে করে বিপাকে পড়েছে নগরবাসী।
একাধিক দোকানদার জানান,নগরীর পাইকারি গ্যাস বিক্রেতারা কোনো কারণ ছাড়াই সিলিন্ডারপ্রতি চারশ’ টাকা দাম বাড়িয়েছে। তাই খুচরা পর্যায়ে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া অনেকে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করেছে আরও বাড়তি দামের আশায়। সান গ্যাসের বরিশাল ডিপোর মালিক বলেন,কোম্পানি থেকে দাম বাড়ানো হয়েছে তাই আমরা পাইকারি ১৮৫০ টাকায় বিক্রি করছি। খুচরা পর্যায়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান তিনি। নগরীর কলেজ এভিনিউর বাসিন্দা আব্দুল বাতেন শেখ বলেন,কয়েকদিন আগেও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনলাম দেড় হাজার টাকায় আজ বৃহস্পতিবার দুই হাজার টাকা করে বিক্রি করছে।