রাস্তা বন্ধ করা যাবে না,আর যদি রাস্তা বন্ধ হয়, তাহলে আমার অফিসে আসা সম্ভব না
মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিন: প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তার গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়।এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সন্ধ্যায় নয়া পল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজের চেম্বারে বিএনপির চেয়ারম্যান অফিস করেন। বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির ভেতর থেকে তিনি হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান।
নয়াপল্টনে বৈঠক শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের যারা নেতাকর্মী আছেন, আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে। আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের সমস্যা, কষ্ট, অসুবিধা হয়-এ জিনিসগুলো করা যাবে না। একই সঙ্গে অনেক সমস্যা আছে দেশে, মানুষকে বোঝাতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না। প্রত্যেক নেতাকর্মীকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমাকে সাংগঠনিক কাজে প্রতিদিন অফিসে আসতে হবে। কিন্তু প্রতিদিন যদি রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে দলের বদনাম হবে। মানুষের কষ্ট হবে। এভাবে প্রতিদিন রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আমাদের চেষ্টা করতে হবে যাতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকে। অফিসে আমি আরও আসব, রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আর যদি রাস্তা বন্ধ হয়, তাহলে আমার অফিসে আসা সম্ভব না। কিন্তু অফিসে এলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ হবে, সাংগঠনিক কাজ করা সম্ভব হবে। নয়াপল্টনে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনিসহ বিএনপির ৪৫ জন সংসদ-সদস্য অংশ নেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির সংসদ-সদস্যদের মধ্যে যারা চৌকশ ও সাবলিলভাবে বক্তব্য দিতে পারেন এবং সাবেক ছাত্রনেতা থেকে উঠে এসেছেন, তাদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে সংসদের রীতিনীতি সম্পর্কে ৪৫ জনকে কাউন্সিলিং করা হয়েছে। যাতে সংসদে তারা নানা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন।
নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আসার খবরে আগে থেকেই নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে ভিড় করেন দলটির নেতাকর্মীরা। দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে থাকেন। কেউ সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে দেখা গেছে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড। ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সবকটি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করতেও দেখা যায়। কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেল বলেন, আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসছেন। তার আসার খবরে দুপুর থেকে নেতাকর্মীরা নয়াপল্টন এলাকায় জড়ো হন। সবাই আনন্দিত। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পেরে নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা শরীফ প্রধান শুভ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নয়াপল্টনে আসার খবরে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে আসেন। দুপুরের পর থেকেই তারা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তুলেন পুরো এলাকা। তবে জনগণের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে রাস্তার পাশে আমরা অবস্থান নিয়েছি। পথচারী ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করেছি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে ছাত্রদল সব সময় জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে। তবে শুধু দলীয় নেতাকর্মী নয়, সাধারণ জনগণও তারেক রহমানকে একনজর দেখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নয়াপল্টন এলাকায় অবস্থান করেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তারা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থান নেন।
বিএনপির দলীয় একটি সূত্র বলছে, এমন ৪৫ জন সংসদ-সদস্যকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যারা সংসদে প্রতিশ্রুতিশীল এবং গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন হাবিবুর রশীদ হাবিব, রাজিব আহসান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। বৈঠকে সংসদীয় আচার-আচরণ ও রীতিনীতি সম্পর্কে সংসদ-সদস্যদের ধারণা দেন বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।