সড়ক-রেল ও লঞ্চে ঈদযাত্রা কষ্ট দুর্ভোগ সঙ্গী করেই বাড়ি ফিরছে মানুষ - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার বরিশালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন উজিরপুরের জমি দখলকারী তিনজন কারাগারে এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইসির, পাবেন ছোটরাও সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়া... ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল

সড়ক-রেল ও লঞ্চে ঈদযাত্রা কষ্ট দুর্ভোগ সঙ্গী করেই বাড়ি ফিরছে মানুষ


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:ঈদযাত্রায় শুরুর দিকে স্বস্তির আভাস থাকলেও এখন ধীরে ধীরে কষ্টের হয়ে উঠেছে।সড়ক,রেল ও লঞ্চে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত ভিড়।নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ছে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট না পেয়ে রেল ও লঞ্চের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। নৌপথেও ঘাটে ঘাটে উপচে পড়া ভিড়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ মিলেছে। এদিকে বিভিন্ন সড়কপথে যানজটও তীব্র হয়ে উঠেছে। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর শুরু হওয়া যানজট বিকালের বৃষ্টির পর তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার যাত্রী। এ সময় গাজীপুরে মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজট দেখা যায়।যানজট ও বাড়তি ভাড়ার ভোগান্তি; এর মধ্যেই রেল দুর্ঘটনা ও লঞ্চে হতাহতের ঘটনাও যোগ হয়ে যাত্রাকে করেছে আরও ঝুঁকিপূর্ণ।ফলে স্বস্তির প্রত্যাশা ছেড়ে কষ্ট ও দুর্ভোগ সঙ্গী করেই বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ।রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন টার্মিনাল,রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে গত দু-তিন দিনে যাত্রীর চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে।

যদিও বুধবার গাবতলী টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক, সেতু, নৌ ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন-ঈদযাত্রা স্বস্তির হচ্ছে। তিনি জানান, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা রাস্তায় বড় ধরনের কোনো যানজটের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সবাই এখানে নির্ধারিত ভাড়া নিচ্ছে। কয়েকটি পরিবহণ ২০-৩০ টাকা কমও নিচ্ছে। এখানে পুলিশ বুথ আছে, কেউ বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লঞ্চে উপচে পড়া ভিড়, ঝুঁকি নিয়ে ছাদেও যাত্রী : বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত সদরঘাট থেকে ৪০ থেকে ৪৫টি যাত্রীবাহী লঞ্চ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। প্রতিটি লঞ্চেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। সরেজমিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঘুরে দেখা গেছে, যেসব লঞ্চ ছেড়ে গেছে সেগুলোর নিচের ডেক ও কেবিন পুরোপুরি যাত্রীতে পূর্ণ। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে লঞ্চের ছাদে উঠে যাত্রা করছেন। যদিও ছাদে যাত্রী ওঠানো সরকারি নির্দেশনায় নিষিদ্ধ, তবুও বাস্তবে কোনো লঞ্চের ছাদই যাত্রীশূন্য ছিল না। সদরঘাটে দেখা যায়, জীবনের ঝুঁকি নিয়েই অনেক যাত্রী ছাদে অবস্থান করছেন। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছেন। অনেককে সেলফি তুলতে এবং গল্প-আড্ডায় সময় কাটাতে দেখা গেছে, যেন দীর্ঘ ভোগান্তির মাঝেও ঈদযাত্রাকে আনন্দমুখর করে তুলতে চান তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের অনেক যাত্রী প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের তাগিদে ঝুঁকি নিয়েই ছাদে উঠে যাচ্ছেন। বিশেষ করে যাদের কেবিন বা ভেতরে জায়গা পাওয়ার সুযোগ নেই কিংবা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তারা ছাদকেই ভরসা করছেন। এছাড়া অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ অনেক সময় সবাইকে ভেতরে জায়গা দিতে পারছে না। ফলে অনেকে স্বেচ্ছায় টিকিট কেটে ছাদে উঠে নিজ নিজ গন্তব্যে রওয়ানা হচ্ছেন।

ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে হাজারো মানুষের ঈদযাত্রা : ঈদযাত্রায় রেলপথে সাধারণ যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই গ্রামে ছুটছেন। আন্তঃনগর কিংবা লোকাল-মেইল, কমিউটার ট্রেন-সব ট্রেনই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে। ট্রেনের ছাদ, দুই বগির সংযোগস্থল থেকে শুরু করে ইঞ্জিনে পর্যন্ত যাত্রীরা উঠে পড়ছে। আজ ঈদযাত্রায় অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীরা সর্বশেষ ট্রেনে ভ্রমণ করবেন। বুধবারও কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ যাত্রী চলাচল করেছে। এদিকে বুধবার দুপুরে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ এবং জরাজীর্ণ রেলপথের কারণে বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় পড়ে নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় উত্তরবঙ্গ থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন আসা-যাওয়ার কিছুটা শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। তাছাড়া বুধবার কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি ট্রেনের ছাদেই যাত্রী উঠতে দেখা গেছে।

এ প্রসঙ্গে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম বলেন, বুধবার প্রতিটি ট্রেনেই উপচে পড়া ভিড় ছিল। কিছু ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছেড়েছে, অধিকাংশ ট্রেন সঠিক সময়েই কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়েছে। সান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনসহ কয়েকটি ট্রেন কমলাপুর স্টেশনে বিলম্বে প্রবেশ করবে। পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত সাড়ে ৯টায় আসার কথা থাকলেও সেটি মধ্যরাতে আসতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ হবে-স্বীকার করেন সাজেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে অগ্রিম টিকিট কাটা যাত্রীদের শেষ যাত্রা বৃহস্পতিবার। ঈদযাত্রায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতিদিন শুধু আন্তঃনগর ট্রেনে প্রায় ৪৩ হাজার যাত্রী রাজধানী ছেড়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। স্টেশনের বাইরে এবং প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের ভিড় ছিল। পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল সাধারণ যাত্রীরা। তবে বুধবার ট্রেন লাইনচ্যুতের ঘটনায় কিছু যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। রংপুরগামী যাত্রী শাহ আলম মিয়া বলেন, পরিবারের ৬ জন সদস্য নিয়ে তিনি ট্রেনে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। সবকটি ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা উঠে পড়ছে। ইঞ্জিনেও যাত্রীরা উঠছে, কোনো প্রতিরোধ নেই। এমন অবস্থায় ট্রেন দুর্ঘটনা কিংবা লাইনচ্যুতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে স্টেশনজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ, আনসার সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থা এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। স্টেশনের প্রবেশপথ ও প্ল্যাটফর্ম এলাকায় তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি সাধারণ যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতে কোনো যাত্রী ট্রেনের ছাদে না ওঠেন।

ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো থেকে স্বস্তির ঈদযাত্রা : রাজধানীর মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে স্বচ্ছন্দে ঈদযাত্রা করছেন ঘরমুখো মানুষরা। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ না থাকলেও বাস ছাড়তে দেরি করার কথা জানিয়েছেন কেউ কেউ। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্যবারের তুলনায় এবার যাত্রীসংখ্যা অনেকটা কম। তবে পর্যাপ্ত যাত্রী না পেলেও টার্মিনাল থেকে সময়মতো বাস দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে যে দুশ্চিন্তা করা হচ্ছিল তার কোনো প্রভাব পড়েনি যাত্রী পরিবহণে।

সরেজমিন দেখা যায়, মহাখালী বাস টার্মিনালে প্রতিবারের মতো যাত্রীদের বাড়তি চাপ নেই। বাসচালক-শ্রমিকদেরও যাত্রীদের জন্য হাঁকডাক করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা টার্মিনালে আসছেন। নিজ নিজ গন্তব্যের কাউন্টারের সামনে দাঁড়াচ্ছেন। এরপর টিকিট কেটে বাসে উঠছেন। নির্দিষ্ট সময় পরপর বাসগুলো গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে। অন্তত ১০ জন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারা স্বচ্ছন্দে যাত্রা শুরু করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে বাস টার্মিনালে আসতে দেরি ও যথাসময়ে যাত্রা শুরু না করার অভিযোগ অনেকের।

টার্মিনালের সামনে সিলেটের বাসের জন্য অপেক্ষারত শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, টার্মিনালে এসে কোনো ঝামেলা ছাড়াই তাৎক্ষণিক টিকিট পেয়েছি, অতিরিক্ত টাকাও দাবি করেনি। তবে বাস ছাড়তে দেরি করছে। জানতে চাইলে বিলাসী পরিবহণের গাইড আইয়ুবুর তানিপ বলেন, যাত্রীসংখ্যা তুলনামূলক কম পাচ্ছি। তবে আমাদের বাস নির্দিষ্ট সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের যাতে অসুবিধা না হয় এজন্য আগেই তেল ভর্তি করা হয় তাদের বাসে।

বুধবার ঈদের ছুটিতে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষেরই আগাগোনা বেশি ছিল। যাত্রীরা ব্যাগ নিয়ে টার্মিনালে জড়ো হতে থাকেন। সকালে যাত্রীর চাপ কম থাকলেও বিকালের দিকে ভিড় ক্রমে বাড়তে থাকে। অনেক যাত্রী আগে থেকে টিকিট সংগ্রহ করলেও বুধবার তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট পাওয়ার আশায় অনেকে কাউন্টারে ভিড় করেন। যারা সরাসরি কাউন্টার থেকে টিকিট কেটেছেন তাদের অনেককে নিয়মিত ভাড়ার চেয়ে ৩০০-৪০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঢাকা জেলা যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল আরিফ বিপু জানান, ঈদকে সামনে রেখে গাবতলীতে ঘরমুখো যাত্রীর চাপ প্রতি বছরের মতো এবারও বেড়েছে। তারা চেষ্টা করছেন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখতে। তবে সড়কে যানজট, বিশেষ করে সাভার ও আমিনবাজার এলাকায় ধীরগতির কারণে অনেক সময় সূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে, সেটি অনিয়ম এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল ও আশপাশের বাস স্টপেজ ঘুরে দেখা গেছে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সড়কে উপচে পড়া ভিড় মানুষের। টার্মিনালসংলগ্ন বিভিন্ন বাস কাউন্টার, ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী মোড়, দোলাইরপাড়, পোস্তগোলা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত মঙ্গলবার সকাল থেকে এমন চিত্র দেখা যায়।

যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের জন্য কাউন্টারে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করার অভিযোগ যাত্রীদের। বিএম লাইন পরিবহণে মোংলা যেতে ৭শ টাকা দিয়ে টিকিট নিয়েছেন যাত্রী মনির হোসেন। তিনি জানান আগে ভাড়া ছিল ৫শ টাকা। ঢাকা-খুলনা রুটের আরপি লাইন, ঢাকা-কুয়াকাটা রুটের ইউনিক লাক্সারি পরিবহণ, ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী বাস কাউন্টারগুলোতে শ্যামলী পরিবহণ, শরীয়তপুর সুপার, সুরভি পরিবহণ, ইকরা লাক্সারি, সাকুরা পরিবহণ যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রীরা বলছেন, বাস কাউন্টারগুলোতে আমাদের জিম্মি করে আগের চেয়ে ২শ, ৩শ কোথাও ৪শ টাকা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল না দেওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে সময় নষ্ট হচ্ছে।

গাজীপুরে মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট : গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরের পর শুরু হওয়া যানজট বিকালের বৃষ্টির পর তীব্র আকার ধারণ করে। দীর্ঘ সময় ধরে সড়কে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার যাত্রী। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে যানবাহন চলাচল করছিল।সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা বাস টার্মিনালসংলগ্ন প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। বিকালে বৃষ্টির কারণে যানজট তীব্র হয়।সন্ধ্যায় মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়কে কেন্দ্র করে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দেয়। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের জিরানি থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।কোথাও কোথাও ৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লেগেছে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা। বিকালের পর বৃষ্টি শুরু হলে যানবাহনের গতি আরও কমে যায়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস থমকে থাকতে দেখা যায়। এ সময় যাত্রীরা বিশেষ করে নারী-শিশুরা তীব্র ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে ধৈর্য হারিয়ে বিপরীতমুখী লেনে হেঁটে বা অটোরিকশা ও হিউম্যান হলারে করে চন্দ্রার দিকে যেতে দেখা যায়।

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান, সরেজমিন চন্দ্রা গিয়ে দেখা যায়, চন্দ্রা ত্রিমোড়ে বাড়তে শুরু করেছে যানবাহনের চাপ। বিশেষ করে উড়াল সড়কের পশ্চিম পাশে মহাসড়ক সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় থেমে থেমে চলছে গাড়ি। এতে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিল্প অধ্যুষিত গাজীপুরের তিন শতাধিক পোশাক কারখানা দ্বিতীয় ধাপে ছুটি ঘোষণা করেছে। এতে নানা পেশার কর্মজীবী মানুষ পরিবার নিয়ে উত্তরের পথে রওয়ানা হয়েছেন। যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় আর যানবাহনের হাঁকডাকে চন্দ্রা টার্মিনালে জটলার সৃষ্টি হয়েছে। দিনভর অনেকটা স্বস্তি থাকলেও বিকাল থেকেই চাপ বেড়েছে যানবাহন ও যাত্রীদের। যার ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগরে ১২ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিকালে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় সড়কে মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগ বেড়েছে। যারা বাসের ছাদে বা খোলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে বা খোলা যানবাহনে চড়েছে তারা বৃষ্টিতে ভিজেছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সীমাহীন কষ্ট করতে হয়েছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বেশির ভাগ অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় এসে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। উড়াল সড়ক পার হওয়ার পর সড়কের প্রস্থ হঠাৎ কমে যাওয়ায় একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যানবাহন সরু অংশে ঢুকে পড়ে। এতে কোথাও কোথাও দীর্ঘ সারি তৈরি না হলেও গাড়ি থেমে থেমে চলতে দেখা গেছে। কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সওগাতুল আলম বলেন, মঙ্গলবার থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। মহাসড়কের পাশে অসংখ্য গাড়ি বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা ভাড়া করে রেখেছেন। এ কারণেই জট সৃষ্টি হয়েছে।

ঈদযাত্রায় ভিড় বাড়ছে দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ ও বাসে-বরিশাল ব্যুরো জানায়, বুধবার বরিশাল নগরীর বাস টার্মিনাল ও লঞ্চ ঘাটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও শহরের ভেতরের রাস্তাগুলো এখন অনেকটাই ফাঁকা। ঢাকা থেকে আসা যাত্রীরা জানান, ভিড় এড়াতে এবং সময়মতো বাড়ি পৌঁছাতে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করেছেন তারা।

বাসে আসন না পেয়ে অনেক যাত্রীকে ছাদে উঠে যেতে দেখা গেছে। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বাস লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।আজ একই রকমের ভিড় থাকবে বলে জানান বাস ও লঞ্চের স্টাফরা।যাত্রীদের সুবিধার্থে রোটেশন প্রথা বাদ দিয়ে বাড়তি ট্রিপের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি এম খান লঞ্চের মালিক মাহাফুজ খান। তিনি বলেন, ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে রোটেশনে লঞ্চ চলাচল করে। তবে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে রোটেশন প্রথা বাতিল করা হয়েছে। তাই ঈদযাত্রা উপলক্ষ্যে গত ৪-৫ দিন যাবৎ আট থেকে দশটি লঞ্চ ঢাকা থেকে বরিশালে উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। এদিকে বরিশাল জেলা মাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশারফ মিয়া বলেন, এবারের ঈদে যাত্রীদের চাপ বেশি থাকলেও কোনো অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আর বাস মালিকদের আন্তরিকতায় ভোগান্তি আর বাড়তি ভাড়া ছাড়াই যাত্রীরা পৌঁছাচ্ছে তাদের গন্তব্যে।

Top