দলীয় নিয়োগে ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার শঙ্কা ছাত্রশিবিরের
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সরকারে সাম্প্রতিক নিয়োগ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) এমন একজনকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিরোধিতার মুখে পদত্যাগ করেছিলেন। এ সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ বলেও মন্তব্য করা হয়। সংগঠনটি এসব নিয়োগকে ‘ফ্যাসিবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ মন্তব্য করেন। সংগঠনের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
ছাত্রশিবিরের নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের নিয়োগ উচ্চশিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য বাড়াবে।এদিকে, ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করা হয়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এসব পদে যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক বিবেচনায় পরাজিত প্রার্থী ও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করবে।
ছাত্রশিবিরের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের যে অভিযোগ ছিল, বর্তমান সরকারের পদক্ষেপেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে তাদের আশঙ্কা।সংগঠনটি অবিলম্বে বিতর্কিত উপাচার্য নিয়োগ ও স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সব নিয়োগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।