লটারি বাদ স্কুলে ফিরছে ভর্তিযুদ্ধ - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার বরিশালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন উজিরপুরের জমি দখলকারী তিনজন কারাগারে এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইসির, পাবেন ছোটরাও সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়া...

লটারি বাদ স্কুলে ফিরছে ভর্তিযুদ্ধ


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:স্কুলের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য বিদ্যমান লটারি পদ্ধতি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষামন্ত্রণালয়।এতে কোচিং-নির্ভরতা ও প্রতিযোগিতাও বেড়ে যেতে পারে। শিশুদের জন্য চাপমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ থাকা উচিত। আবার কেউ কেউ মনে করেন, শুধুমাত্র লটারি হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায় না।স্কুলে ভর্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা লটারি পদ্ধতি ধাপে ধাপে বাতিল করা হবে এবং ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন,লটারি পদ্ধতি মেধা যাচাইয়ের কোনো কার্যকর উপায় নয়। অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতি প্রয়োজন।পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭ সাল) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।মঙ্গলবার সচিবালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে, শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা দিলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই পরীক্ষা অত্যন্ত সহজ ও শিশু-বান্ধব হবে এবং এতে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হবে না। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া হবে না যা তাদের মানসিক চাপ বাড়ায়। মন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষাটি হবে খুবই সাধারণ ও মৌলিক দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু হলেও যাতে কোচিং বাণিজ্য বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। তিনি জানান, প্রয়োজনে স্কুলের ভেতরেই শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ১৮ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি করা হবে। তিনি জানান, ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পরীক্ষা পুনরায় চালু করা হয়েছে। এই পরীক্ষায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমতা আনার জন্য কোটাভিত্তিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২০ শতাংশ কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকবে।

মন্ত্রী আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষকদের ন্যূনতম যোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং কমিটির সভাপতির জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি নির্ধারণ করা হয়েছে।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ বলেন, শিশুদের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা একটি বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা। যে ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়, তাতে যারা কোচিং বা প্রাইভেট পড়ে তারাই মূলত এগিয়ে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতিই তুলনামূলকভাবে ভালো। তবে লটারি যেন স্বচ্ছভাবে হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণায় ভর্তি কোচিং বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে এবং ভর্তি বাণিজ্য উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। সংগঠনের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, বিগত ২০১৯ সালে করোনাকালীন স্কুলে ভর্তিতে লটারি চালু করা হয়েছিল। এর ফলে ভর্তি বাণিজ্য রাজধানীর নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোতে কমে এসেছিল। ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে। কোনোমতেই নামকরা স্কুলের ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করতে পারবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করার জন্যই করোনার পরও লটারি অব্যাহত রাখতে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সমর্থন ছিল বিধায় কয়েক বছর কোনো ভর্তি বাণিজ্য হয়নি।

Top