মজুতদারি করলে জেল-জরিমানা ,উঠে গেল তেলের রেশনিং
মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:সরকার জ্বালানি তেলের ওপর রেশনিং প্রত্যাহার করেছে। রোববার সকালে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই ঘোষণা দেন।এর ফলে সব ধরনের যানবাহন ও শিল্পকলকারখানা চাহিদামতো তেল কিনতে পারবে।তবে তেল বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে,সরকারি ডিপোগুলো থেকে ডিলার বা ফিলিং স্টেশনের মালিকরা ইচ্ছামতো তেল কিনতে পারবেন না।২০২৫ সালের মার্চের এই সময়ে যে পরিমাণ তেল তারা কিনেছেন সেই অনুযায়ী তেল দেওয়া হবে ডিলার ও ফিলিং স্টেশনের মালিকদের।জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন,পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেলের ওপর বিধিনিষেধ আর থাকছে না।রেশনিং প্রত্যাহারের ঘোষণার পর দুপুরে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।সেখানে তিনি তেল নিয়ে কারসাজি না করতে সবার কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কেউ অবৈধ মজুত করলে তার বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানা দুটিই করা হবে।সেই বৈঠক শেষে ওই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বলেন, পাম্পগুলোতে এখন থেকে কোনো রেশনিং থাকবে না। ঈদযাত্রার ৭ দিন এবং ঈদের পরের ৭ দিন যাতে নির্বিঘ্নে জনগণ বাড়ি যেতে পারেন সেদিকে সরকারের নজর আছে। তবে তেলের মজুতদারি করলে আমরাও ব্যবস্থা নিতে বলেছি।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ৬ মার্চ থেকে দেশে জ্বালানি তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়।এদিকে সকালে ওই ঘোষণা দেওয়ার পরও রাজধানীর বেশির ভাগ পাম্পে বিকাল পর্যন্ত রেশনিং হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রতিষ্ঠান ট্রাস্ট এনার্জির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার (অব.) জামাল হোসেন বলেছেন, সকালে সরকারের ঘোষণার পর ট্রাস্ট বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু তারা লিখিত কিছু জানাতে পারেনি। বেলা সাড়ে ৩টার পর একটি স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তি পাম্পগুলোতে পাঠানো হয়। এরপর থেকে গাড়িচালকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল বিক্রি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেলের বাজার উত্তপ্ত। এর মধ্যে সরকার ঈদের জন্য রেশনিং প্রত্যাহার করে নিয়েছে। কেউ যেন মজুতদারি করতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গত ১৫ দিনে বিশ্বের ১৫টি দেশ তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো তেলের দাম বাড়ায়নি। এই সরকার চায় যতক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি সহ্য করতে পারবে ততক্ষণ দাম বাড়াবে না। তিনি বলেন, তেলের আরও দুটি জাহাজ এসেছে। সামনে আরও আসবে। ভারত বাংলাদেশে তেল বিক্রির ব্যাপারে ইতিবাচক।এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৪ মার্চ সরকারের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে কিছু বিতরণ কোম্পানি ডিপো থেকে তেল বিক্রি করেছে। তাদের ব্যাপারে সময়মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইরি-বোরো মৌসুমে চাহিদামতো তেল সরবরাহ করতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকার এই জায়গায় ছাড় দেবে না।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত বাড়ে এবং একই সময়ে বোরো ধানের মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের চাহিদাও বেশি থাকে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে পরে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেশনিং ব্যবস্থার কারণে গত কয়েক দিনে অনেক এলাকায় ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। কিছু জেলায় পাম্প মালিকদের অভিযোগ ও সরবরাহ সংকটের কারণে সাময়িকভাবে তেল উত্তোলন বন্ধ ছিল। ফলে পরিবহণ খাত ও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পেট্রোলপাম্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলেন, সীমিত সরবরাহ ও বিক্রির বিধিনিষেধের কারণে পাম্প পরিচালনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। ঈদ সামনে রেখে রেশনিং প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পরিবহণ ও জ্বালানি বাজারকে স্বস্তি দেবে। তবে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়।তাই সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে আবারও নতুন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।