নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোবল ভাঙতেই হাদিকে হত্যা - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ‘বিশেষ ছাড়’ নেই গণমাধ্যম এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে কোনো গোপন শর্তে নয় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে ডিসি প... একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল এক হাজার টাকা ভাড়া মারছি, জমা ১২শ,গ্যাস সংকটে হিমশিম চালকরা একযোগে ১২ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন, সংযুক্ত ১ গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য! ১৭ দেশে ২৫ বার ভ্রমণের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলী কাজী ফিরোজের বিরুদ্ধে

নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোবল ভাঙতেই হাদিকে হত্যা


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা,ভোটারদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।মামলায় তদন্ত শেষে গত মঙ্গলবার ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে দেওয়া চার্জশিটে এমন কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের নেতারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কাজ করেছে পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যই ছিল জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।।মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদিকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীসহ ৬ জন এখনো পলাতক রয়েছে।চার্জশিট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যই ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্র ও ব্যালেস্টিক পরীক্ষায় মিল : ব্যালেস্টিক পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ৭.৬৫ মিমি. (.৩২) ক্যালিবারের ফায়ার্ড কার্তুজটি র‌্যাবের অভিযানে নরসিংদী থেকে উদ্ধার হওয়া একটি স্ট্যান্ডার্ড পিস্তল থেকে ছোড়া হয়েছিল। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিকৃত বুলেটটির জ্যাকেট অধিকাংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় নির্দিষ্ট অস্ত্র শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও আকার ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সেটিও একই ক্যালিবারের আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ছোড়া বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ময়নাতদন্ত ও চিকিৎসা প্রতিবেদনের চূড়ান্ত মতামত : শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও শকজনিত কারণে ওসমান হাদির মৃত্যু হয়েছে। এ মৃত্যু ছিল অ্যান্টিমর্টেম ও হোমিসাইডাল প্রকৃতির। এ ছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধানের নেতৃত্বে গঠিত ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড আহত অবস্থার সনদপত্রে উল্লেখ করে, মাথার আঘাতগুলো ছিল গুরুতর এবং আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির কারণেই সেগুলো সৃষ্টি হয়েছে।

যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড : চার্জশিটে বলা হয়েছে, এজাহারনামীয় পলাতক আসামি ফয়সাল করিম এবং তার সহযোগীরা ঘটনার কয়েক দিন আগ থেকেই ওসমান হাদির নির্বাচনি প্রচারণায় অনুপ্রবেশ করে। ঘটনার দিন মতিঝিল এলাকা থেকে নির্বাচনি কার্যক্রম শেষ করে ফেরার পথে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত অটোরিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার মৃত্যু হয়।

নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক পরিচয় : বিভিন্ন সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ্যে সমালোচনামূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। এতে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। চার্জশিট অনুযায়ী, প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শুটার ও তার সহযোগীদের সীমান্ত পাড়ি দিতে সহায়তার অভিযোগে পল্লবী থানার যুবলীগের সভাপতি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে এসেছে।

১৭ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র, পলাতক ৬ : মামলায় মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০বি, ৩০২, ২০১, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেফতার আছেন ১১ জন। তারা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও তার শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্টকার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহযোগিতাকারী সিবিউন দিও ও সঞ্জয় চিসিম, আত্মগোপনে সহায়তাকারী আমিনুল ইসলাম রাজু ও মো. ফয়সাল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পল্লবী থানার যুবলীগ সভাপতি মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি (৪৩), আসামিদের নেটওয়ার্ক সহযোগী ফিলিপ স্নাল (৩২), আসামিদের আশ্রয় ও লজিস্টিক সহায়তাকারী মুক্তি মাহমুদ (৫১), ফয়সাল করিম মাসুদের বোন জেসমিন আক্তার (৪২)। তাকে গুলি করার দুদিন পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটিতে ৩০২ ধারা যুক্ত হয়েছে।

এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ পড়ে নির্বাচনি প্রচারণা শেষ করেন হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওইদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

Top