নির্বাচনের পর পদ থেকে সরে যেতে চান রাষ্ট্রপতি
মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পদ থেকে সরে যেতে চান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার এ পরিকল্পনার কথা তিনি জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারে তিনি (সাহাবুদ্দিন) অপমানবোধ করছেন। বঙ্গভবন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। আমি এখান থেকে চলে যেতে চাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব রয়েছে বলেই আমি এ অবস্থানে আছি। তিনি বলেন, প্রায় ৭ মাস হলো প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাক্ষাৎ করেননি; তার প্রেস ডিপার্টমেন্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে নিজের ছবি সরিয়ে ফেলার কথাও বলেন তিনি। সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির ছবি ছিল। এগুলো হঠাৎ করে এক রাতের মধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যায়। মানুষজন ভাবতে পারে, রাষ্ট্রপতিকে হয়তো সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি খুব অপমানিত বোধ করেছি। ছবি সরিয়ে ফেলার বিষয়ে মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি লিখেছিলেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রয়টার্স লিখেছে, রাষ্ট্রপতির এমন মন্তব্যের বিষয়ে তারা ইউনূসের প্রেস অফিসের কাছে বক্তব্য জানতে চেয়েছিল কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পায়নি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে চলে যাওয়ার পর সাহাবুদ্দিনের অবস্থান গুরুত্ব পায়। সংসদ ভেঙে দেওয়ার পর সাহাবুদ্দিনই ছিলেন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ৫ বছরের জন্য ৭৫ বছর বয়সি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন।