হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ কপি পেয়েছে প্রসিকিউশন - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ‘বিশেষ ছাড়’ নেই গণমাধ্যম এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে কোনো গোপন শর্তে নয় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে ডিসি প... একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল এক হাজার টাকা ভাড়া মারছি, জমা ১২শ,গ্যাস সংকটে হিমশিম চালকরা একযোগে ১২ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি ও পদায়ন, সংযুক্ত ১ গণপূর্তের লটারি শুধু নামেই? আগেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল ৪১ প্রকৌশলীর ভাগ্য! ১৭ দেশে ২৫ বার ভ্রমণের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ গণপূর্তের প্রকৌশলী কাজী ফিরোজের বিরুদ্ধে

হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ কপি পেয়েছে প্রসিকিউশন


মোহাম্মাদ মুরাদ হোসেন: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।এরই মধ্যে এ মামলায় দণ্ডিত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও পূর্ণ কপি পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। প্রসিকিউশনের তরফ থেকেও জানানো হয়েছে তারাও রায়ের কপি পেয়েছেন। তবে তা পড়ে দেখার সময় হয়নি। বুধবার বিকালে এ রায় প্রকাশ হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার তারা রায়ের কপি পড়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন।১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা ও কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে ব্যবহার করা হবে। একই মামলায় ৫ বছরের সাজা দেওয়া হয় রাজসাক্ষী চৌধুরী মামুনকে। রায় ঘোষণার ১০ দিন পর বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো। আইনানুগভাবে ৩০ দিনের মধ্যে শেখ হাসিনা ও কামালকে আপিল করতে হবে। এ মামলায় আপিল করতে হলে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে ভারতে পলাতক শেখ হাসিনা ও কামালকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রায়ে বলা হয়েছে-এ মামলার পাঁচটি অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। তবে রায়ে দুটি অভিযোগে ছয়টি ঘটনা আনেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্যে অভিযোগ-১ এ তিনটি ঘটনা আনা হয়। এর প্রথমটি ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

দ্বিতীয়ত ঘটনায় ১৪ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে ফাঁসি দেবেন বলে উসকানি ও আদেশ দেন শেখ হাসিনা। এছাড়া অপরাধ সংঘটনে আসামিরা নিজেদের অধীনস্থদের কোনো বাধা দেননি।

তৃতীয়ত ঘটনায় উল্লেখ করা হয়-এরই ফলশ্রুতি ও ধারাবাহিকতায় রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি ছুড়ে হত্যা করে পুলিশ। এসব অপরাধে শেখ হাসিনা ও কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

২নং অভিযোগেও তিনটি ঘটনা আনেন ট্রাইব্যুনাল। এক নম্বরে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ফোনালাপ পাওয়া যায়। এসব কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়, ছাত্র-জনতাকে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এ অপরাধ সংঘটনে অধীনস্থদের কোনো বাধা দেননি আসামিরা (হাসিনা ও কামালসহ তিন আসামি)। যার ফলশ্রুতিতে একই বছরের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।

৩নং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ঘটনা-৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া। এসব অপরাধে হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। যা জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করবে সরকার। এসব অভিযোগে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ৫ বছর কারাদণ্ড হয়েছে।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ বুধবার জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি সংগ্রহ করেছেন তিনি। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে ঠিক কবে তিনি কপি নিয়েছেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তার মক্কেলের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে আইনজীবী জায়েদ বিন আমজাদ বলেন, এখনো মামুনের পরিবারের সম্মতি পাওয়া যায়নি। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম বুধবার জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রসিকিউশন পেয়েছে। রায়ে কি আছে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন।

ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১ নম্বর ধারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের অধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ধারার ৩ উপধারায় বলা হয়েছে, দণ্ড ও সাজা প্রদান অথবা খালাস অথবা কোনো সাজা দেওয়ার তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়সীমা (রায় দেওয়ার ৩০ দিন পর) অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো আপিল গ্রহণযোগ্য হবে না। আর ২১ নম্বর ধারার ৪ উপধারায় বলা হয়েছে, আপিল করার তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।এক সাংবাদিক জানতে চান, শেখ হাসিনা যদি ৩০ দিনের মধ্যে না আসেন, ৩ মাস পরে আসেন সে ক্ষেত্রে আপিলের নিয়ম কী হবে-এ প্রশ্নের জবাব প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার এর আগে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় দুটি পদ্ধতি আছে। একটা হলো যেসব আইনে আপিলের সময়সীমা উল্লেখ নেই, সে ক্ষেত্রে আপিলের সময়সীমা নির্ধারণ হয় তামাদি আইন অনুযায়ী। তামাদি আইন অনুযায়ী, যেসব আপিলের সময়সীমা নির্ধারণ হয়, সেখানে আপিলের সময় পেরিয়ে গেলেও তামাদি আইনের পাঁচ ধারা অনুসারে ডিলে কন্ডোনেশনের (বিলম্ব মার্জনার আবেদন) সুযোগ আছে; অর্থাৎ দণ্ডবিধিতে যদি কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়, তিনি নির্ধারিত সময়ে আপিল না করলেও পরে এসে আপিলের জন্য বিলম্ব মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু বিশেষ আইনগুলোতে যেখানে আপিলের সময় আইনের মধ্যে বলা আছে, সে ক্ষেত্রে এই সময়সীমা পেরিয়ে গেলে বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ নেই; অর্থাৎ এই ৩০ দিন পার হয়ে গেলে ক্ষমা (বিলম্ব মাজর্না) করার আবেদনেরই আর কোনো সুযোগ নেই। সরকার এটি তখন কার্যকর করবে।

Top