আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করতে বাজারে হস্তক্ষেপ করত - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করতে বাজারে হস্তক্ষেপ করত


মোহাম্মাদ মহাব্বাতুল্লাহ মাহাদ:আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করতে বাজারে হস্তক্ষেপ করত। এখন ডলারের অব্যাহত পতন ঠেকাতে বাজারে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। যখন ডলারের ঊর্ধ্বগতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করত তখন আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) তীব্র আপত্তি করত। এখন ডলারের পতন ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করলেও আইএমএফ একেবারেই ‘চুপ’। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ডলারের প্রবাহ চাহিদার চেয়ে বেশি মাত্রায় বেড়ে গেছে। ফলে দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে ডলারের দাম কমছে। এর মধ্যে গড়ে কমেছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। সর্বোচ্চ কমেছে ২ টাকা ৭০ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ না করলে ডলারের দাম আরও কমে যেত।রোববার ব্যাংকগুলোতে ডলারের সর্বনিম্ন দর নেমেছে ১২০ টাকা ৩০ পয়সায়, আর সর্বোচ্চ দর নেমেছে ১২১ টাকা ২০ পয়সায়। গড় দাম ছিল ১২০ টাকা ৬০ পয়সা। দুই সপ্তাহ আগে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দর ১২৩ টাকায় উঠেছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক ঋণও বাড়ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা পাচার অনেক কমেছে। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা কম। কিন্তু সরবরাহ বেশি। এ কারণে কমছে ডলারের দাম। এতে বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ বেশি দামে ডলার কিনে ব্যাংকগুলোকে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে তারাও লোকসানের মুখে পড়েছে।

এদিকে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারে হস্তক্ষেপ করছে। তারা ডলারের অব্যাহত পতন ঠেকাতে বাজারের চেয়ে বেশি দামে ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে। রোববার ব্যাংকগুলোতে ডলারের গড় দাম ছিল ১২০ টাকা ৬০ পয়সা। কিন্তু এদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে এই প্রথম নিলামের মাধ্যমে কিনেছে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি ডলারের দাম ১২১ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করে ব্যাংকগুলোকে অফার করে-এই দামে কে কত ডলার বিক্রি করতে চায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এভাবে ডলার কেনায় বাজারে টাকার প্রবাহ কিছুটা বেড়েছে। বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বেড়েছে।ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখার জন্য এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার দরের চেয়ে বেশি দামে ডলার কিনলেও আইএমএফ একদম চুপ থেকেছে। এর আগে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে যখন ডলার সংকট দেখা দেয় এবং পর্যায়ক্রমে তা প্রকট আকার ধারণ করে। ওই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম যাতে বেশি না বাড়তে পারে সেজন্য বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ করে। তখন আইএমএফ তীব্র আপত্তি জানায়। আইএমএফ বলত, এই হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বাজারের শৃঙ্খলা নষ্ট করা হচ্ছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের ওপর হস্তক্ষেপ না করলে ডলারের দাম আরও কমে যেত। ডলারের দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে গেলেই আইএমএফের যত আপত্তি।

এর আগে ২০২১ সালেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম ধরে রাখতে ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে। তখনো ডলারের প্রবাহ বেশি ছিল, চাহিদা কম ছিল। ফলে ডলারের দাম কমছিল। তখন বাজার থেকে ডলার কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ বাড়িয়েছে। তখনো আইএমএফ চুপ ছিল।আইএমএফের চাপে গত মের মাঝামাঝি সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়। আইএমএফের ধারণা ছিল, এতে ডলারের দাম অনেক বেশি বাড়বে। কিন্তু বেড়েছে মাত্র এক টাকা। ১২২ থেকে বেড়ে ১২৩ টাকা হয়েছে। এরপর থেকে ডলারের দাম কমতে থাকে। এখন তা ১২০ টাকা ৩০ পয়সায় নেমেছে।তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, আইএমএফ কী বলল না বলল সেটার ওপর নির্ভর করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না। ডলারের দাম স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করছে। প্রয়োজনে আগামীতেও করবে। কারণ রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের চলমান প্রবাহ ধরে রাখতে হবে।এদিকে আইএমএফ ডলারের বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিদিনের ডলারের পরিস্থিতি, দামের ওঠানামা ও রিজার্ভ পরিস্থিতি আইএমএফকে জানাচ্ছে। এছাড়া আইএমএফ নিজস্ব উৎস থেকে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।

ডলারের দাম ১১৯ টাকার ঘরে নামল : ব্যাংকগুলোতে ডলারের দাম আরও কমেছে। সোমবার ব্যাংকে প্রতি ডলার গড়ে ১১৯ টাকার ঘরে নেমে এসেছে। এদিন সর্বনিম্ন ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বোচ্চ ১২০ টাকা ১০ পয়সা দরে ডলার বিক্রি হয়েছে। ডলারের গড় দাম ছিল ১১৯ টাকা ৭২ পয়সা। এদিন আন্তঃব্যাংকে ২ কোটি ২০ লাখ ডলার লেনদেন হয়েছে।গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাংকে ডলারের দাম কমছে। দুই সপ্তাহ আগে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২৩ টাকায় উঠেছিল। এখন গড় দাম নেমে এসেছে ১১৯ টাকা ৭২ পয়সায়। এ হিসাবে প্রতি ডলারের দাম কমেছে ৩ টাকা ২৮ পয়সা।ডলারের দাম কমায় এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে অন্যান্য মুদ্রার দামও কমতে শুরু করেছে। পাশাপাশি খোলা বাজারেও ডলারের দাম কমেছে। সোমবার খোলা বাজারে প্রতি ডলার ১২০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। এর আগে গত সরকারের সময়ে খোলা বাজারে ডলারের দাম ১৩২ টাকায় উঠেছিল। ব্যাংকেও প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১৩৪ টাকায় উঠেছিল।

Top