সরকারের পালা বদলের পরে ব্যাংক খাত ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি দুর্নীতির ‘ওএলএম’ সিন্ডিকেট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি দপ্তরে রাতভর চলে অনৈতিক কারবার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগীরা ! প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এখন ইতিহাসের অন্যতম সেরা পর্যায়ে রয়েছে পাচারের অর্থ উদ্ধারে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগে হোঁচট বেনামি ঋণ ১৩১৬৬ কোটি টাকা, গুপ্ত হয়ে বিএনপিতে প্রবেশ করা বিতর্কিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা নুরুল আমিন দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এমন ক... ববিতে অর্ধশত নবীন শিক্ষার্থীকে ৫ ঘণ্টা র‌্যাগিং প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন,প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা

সরকারের পালা বদলের পরে ব্যাংক খাত ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ


মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া:সরকারের পালা বদলের পরে ব্যাংক খাত ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংক ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের গ্রাহকের আস্থা ফিরছে। এতে ব্যাংকের বাইরে থাকা টাকা আবারও ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছে। যার ফলে ব্যাংকে আমানতের পরিমাণও বেড়েছে। বিশেষ করে বিত্তশালীদের ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে। ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার বেশি রয়েছে এমন গ্রাহকে ও প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বিগত তিন মাসে ৪ হাজার ৯৫৪টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮১ টিতে।কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বর শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৮১ টি। যা তিন মাস আগে গত সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৭টি। সেই হিসেবে তিন মাসে কোটি টাকার ওপরে হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ৪ হাজার ৯৫৪ টি। এর আগে গত বছরের জুন প্রান্তিকে কোটি টাকার বেশি আমানত ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টি।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। এরপরই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে অনেক দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী অর্থ পাচার করতে পারছে না। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সন্দেহভাজন অনেকের বাসায় হানা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা উদ্ধার করেছে। এসব বিষয়ে বিবেচনা করে অনেক বড় গ্রাহক ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে শুরু করছে। যার করণে ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ১৬ কোটি ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৩২টি। এসব হিসাবে মোট আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার ২৫৫টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ১৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। সে হিসেবে তিন মাসে ব্যাংক খাতের হিসাব সংখ্যা বেড়েছে ১২ লাখ ১৯ হাজার ২৭৭টি আর আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৪৫ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার পাচারের বিরুদ্ধে কেঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা ঘরে টাকা রেখেছেন তাদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থ পাচার কমেছে। অন্যদিকে উচ্চ মুনাফার অর্থ ব্যাংকে রাখছে ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি টাকা হিসাবের সংখ্যা বাড়ছে। আবার গত বছরের শেষ দিকে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশের ওপরে ছিল। ওই সময় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে। একই সময় অন্তর্বর্তী সরকার অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেয়। ফলে এখন দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী অর্থ পাচার করতে পারছে না। যার করণে বিভিন্ন উপায়ে তারা ব্যাংকে টাকা জমা করছে।

Top