চাঁদপুরা'র পূর্ব কুন্দিয়ালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরা’র পূর্ব কুন্দিয়ালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক:বরিশাল জেলার সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের ১১৯ নং পূর্ব কুন্দিয়াল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজ,রুটিন মেইনটেন্যান্স ও স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের কাজ নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার সুসিল সমাজ ও সাধারন জনতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এমন অভিযোগ করেছেন।তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে,প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদ্যালয় মেরামত-সংস্কার কাজে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ৪০,০০০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়। কুন্দিয়াল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯ সালের বরাদ্দের টাকা দিয়ে নামমাত্র কাজ করে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ভাউচার (ব্যয়) দেখিয়ে সেই টাকা স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি,ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ও কমিটির সদস্যরা ভাগাভাগি করে নিয়ে গেছে বলেও জানান এলাকার অনেকে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির এক অভিবাবক সদস্য নাম না প্রকাশ করা শর্তে বলেন,আমাদের বিদ্যালয়ের মাঠে কিছু গাছ ছিলো সেই গাছ কমিটির কাউকে না জানিয়ে, রেজুলিউশন না করে ১৩ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও এলাকার মতলেব হাওলাদার। কিন্তু গাছ বিক্রির ব্যপারে আমাদের সাথে কোন আলাপ আলোচনা করেনী।স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সুত্রে জানাগেছে,স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) প্রকল্পের টাকা দিয়ে বারান্দার ফ্লোরের কাজ করানো হয়েছে এবং একটি ওয়ার্ডড্রপ ও বিভিন্ন বই পুস্তক কেনা হয়েছে। তাতেই মোট ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে দাবি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসমিন নাহার ও ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ খালেক ফকির। এদিকে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে স্লিপ ও রুটিন মেইনটেন্যান্স খাতে গত বছর ও চলতি বছরের শিক্ষা উপকরণ ও মালামাল কেনার ভাউচার দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি। তারা বলেন ভাউচারের কপি এটিও ম্যাডামের কাছে দিয়ে আসছি আপনারা ভাউচার দেখতে চাইলে এটিও ম্যাডামের কাছে গিয়ে দেখতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা ভাউচার দেখতে চাইছেন এটা এটিও ম্যাডামকে জানাইছি, তিনি বলেছেন কোন সাংবাদিক যদি ভাউচার দেখতে চায় তাহলে আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। এলাকাবাসি বলেন এমনিতেই আমাদের স্কুলের শিক্ষার মান ভালোনা, তার মধ্যে স্থানীয় আলম মাষ্টার স্কুলের রুম দখল করে দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাইভেট পরাচ্ছেন। তারা বলেন আমাদের স্কুলে পড়াশুনার ছিটেফোটাও নেই, এমনকি কোন ছাত্র ছাত্রী ঠিকমতো নিজের নাম, স্কুলের নাম, পিতা মাতার নাম লিখতেই পারেনা। এতে আমাদের বাচ্চারা কিভাবে পড়াশুনা পারবে কারন স্কুলের ম্যাডামরা ঠিকমতো আসেনা, ক্লাস নেয় না, তারাহুরো করে ৩ টার মধ্যে স্কুল ছুটি দিয়ে চলে যায়। প্রতিবেদক’রা সকাল ৭ টা ৩০ মিনিটে স্কুলে পৌছে দেখতে পান পতাকা উড়ছে, কে টানিয়েছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্র আরিফ বলেন, আমি প্রতিদিন পতাকা টানাই আবার খুলে বাড়িতে নিয়ে যাই। বিষয়টি ছাত্র অভিবাবকদের নজরে পড়ে এবং তারা বলেন এটা এমন একটা স্কুল যেখানে ছাত্রকে দিয়ে প্রতিদিন দপ্তরীর কাজ করানো হয়। এমনকি অভিবাবকদের তথ্যমতে, আরও জানাগেছে, সরকারি নিয়মে রয়েছে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শিক্ষকরা স্কুলে উপস্তিত থাকবেন এবং ৪ টা ১৫ মিনিটে ছুটি দেবেন।

কিন্তু সেখানে দেখা যায় শিক্ষকরা প্রায় প্রতিদিনই ১০ টার সময় স্কুলে আসেন এবং ৩টার মধ্যে ছাত্র ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে স্কুল বন্ধ করে চলে যান। এদিকে অনুসন্ধান করলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য, পূর্ব কুন্দিয়াল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র মোঃ আরিফ, রিশাদ, তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র রাব্বি, দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র সাজ্জাদ হোসাইন বলেন, আমাদের ম্যাডম’রা প্রতিদিন দেরি করে স্কুলে আসে, এমনকি তারা বলেন আমাদের রোজিনা ম্যাডাম প্রতিদিন ৪-৫ প্যাকেট করে বিস্কুট নিয়ে যায়। এতে অনেক সময় আমরা বিস্কুট পাইনা। আরও বেশ কয়েকজন ছাত্র ছাত্রীদের প্রশ্ন করলে তারা বলেন, আমাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল বাবদও ৫ টাকা করে নেয়। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসমিন নাহারকে জিগ্গেস করলে তিনি এসকল দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেন, সরকারিভাবে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার কার্যক্রম এখনও আমাদের স্কুলে চালু হয়নী তাই আমরা ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে ৫ টাকা করে উত্তোলন করি।

প্লিজ দয়া করে লেখালেখি করবেন না, এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হাজি মোঃ খালেক ফকির বলেন, বিষয়টি লেখালেখি না করলেই ভালো হয়, কারন বিষয়টি ইজ্জতের। তিনি আরও বলেন ৪০০০০ টাকার মধ্যে ৩০০০০ টাকার কাজ করানো হয়েছে এবং এখনও ১০০০০ টাকা তাদের স্কুলের ফান্টে আছে। যা ম্যাডাম করিয়েছেন, আমি শুধু তার সাথে সহযোগিতা করছি তাই আমি সিদ্বান্ত নিয়েছি এই অনিয়ম করার সাথে আমি সম্পৃক্ত থাকবনা, দু একদিনের মধ্যে আমি সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি (রিজাইন) দেবো। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ তাসমিন নাহারকে ফোন করলে তিনি বলেন, আমি কোন বক্তব্য দেবো না, কারন আমি তো আপনাদের বলছি যে ব্যাপারটা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখুন। তারপড়েও আপনি নিউজ করবেন কেনো। তিনি সংবাদ কর্মীকে হুমকি দিয়ে বলেন আপনি কি ব্লাকমেইল করতেছেন আমায়। এ বিষয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (টিও) মোঃ রফিকুল ইসলাম স্যারকে ফোন করলে তার ফোন ব্যাস্ত পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মহাদ্বয়কে ফোন করলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে যদি কোন সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হবে। এলাকার সাধারন জনতা ও শিক্ষার্থীদের অভিবাবকরা বলেন, আমরা চাই বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে যেনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয় তাহলে বন্ধ হবে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সিন্ডিকেট। তারা বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ক্ষতিয়ে দেখার আহব্বান জানান।

Top