কক্সবাজারকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
অবৈধ সম্পদ অর্জন, টেন্ডার বাণিজ্য সহ নানান অভিযোগ রংপুরে নির্বাহী প্রকৌশলী মুসার বিরুদ্ধে গুঠিয়া বিএনপি কার্যালয়ে ডাবল স্ট্যান্ডঃ আ.লীগ নেতাদের আপ্যায়ন, বিএনপি নেতাদের শায়েস্তা রাজউক কর্মকর্তা পলাশ শিকদারকে নিয়ে ষড়যন্ত্র দল-মতের ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্য লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর ঘোষণা উজিরপুর উপজেলায় এনসিপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা হিজলায় জামায়াতের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত মেহেন্দিগঞ্জে জামায়াতের দিনব্যাপী শিক্ষা শিবির অনুষ্ঠিত বাবুগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়ন সদস্যদের মধ্যে আইডি কার্ড বিতরণ পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলন ঘিরে চাঞ্চল্য, ‘প্রতিরোধ আন্দোলনের’ সংবাদ সম্মেলন পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপসারনের দাবীতে মানববন্ধন7

কক্সবাজারকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি


আলোকিত বার্তা:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা মানবিক কারণে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু তাদের কারণে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, শিগগিরই রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাবে।জলবায়ু পরিবর্তনকে সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের দেশ সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের ছোট ছোট দেশও হুমকির মধ্যে আছে। এদেরকে রক্ষা করতে হবে।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বুধবার ‘ঢাকা মিটিং অব দ্য গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার পথ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সকলে অবগত আছেন, আমরা কক্সবাজার জেলায় মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি। কক্সবাজারের যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা অবস্থান করছে সেগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের উপস্থিতি এসব এলাকাকে আরো অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

তিনি বলেন, এসব বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দেখভাল করার পাশাপাশি অতি দ্রুততার সঙ্গে তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আমি বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করা যায় সে দিকনির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেন, অনুমিত সময়ের আগেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়তে শুরু করেছে। এ প্রভাব মোকাবিলায় বিনিয়োগে বিশ্বকে আরো বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে।তিনি বলেন, গ্লোবাল কমিশন অব অ্যাডাপটেশননের সহযোগিতায় আমরা জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সঠিক অভিযোজন কৌশলের পাশাপাশি সাশ্রয়ী পন্থা ও ঝুঁকি নিরসন ব্যবস্থার সুবিধা পেতে চাই। অভিযোজন প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখানে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের দাবি রাখে। আমি বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। উপকূলীয় এলাকায় বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় ‘ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ নামে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি বর্তমান হারে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তাহলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আমাদের ১৯টি উপকূলীয় জেলা স্থায়ীভাবে ডুবে যাবে।তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বলছে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যে ৬০ লাখ জলবায়ু অভিবাসী রয়েছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এটি বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। তাপমাত্রার পরিবর্তন, ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রতল বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এই পরিবর্তনগুলো কৃষি, শস্য, পশু ও মৎস্যসম্পদের বিপুল ক্ষতি করছে এবং বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্যানেলের (আইপিসিসি) চতুর্থ মূল্যায়ন প্রতিবেদন তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে চালের উৎপাদন ৮ শতাংশ ও গমের উৎপাদন ৩২ শতাংশ কমে যেতে পারে। গত এক দশকে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক খাতে বিশাল উন্নতি হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাবে এই অর্জনগুলো হুমকির সম্মুখীন।তিনি বলেন, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা, বন্যা লেগেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ সমস্যাগুলো আরো বাড়ছে। আমরা এসব সমস্যা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ফান্ড করেছি। এ ফান্ডে প্রায় ৪২ কোটি ডলারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছি।তিনি আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আমরা প্রত্যেকটি পরিকল্পনা মাথায় রাখছি। ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি সৌর প্যানেল দিয়েছি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করছি। এছাড়া ডেল্টা প্লান ২১০০ গ্রহণ করেছি। ২১০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যেন টিকে থাকতে পারে সে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে ২০ ভাগ বনায়ন তৈরি করতে চাই। এজন্য বাংলাদেশ কৃষক লীগ প্রতি বছর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে গ্রিন বেল্ট গড়ে তোলার জন্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বন্যা, খরা, লবণাক্ত সহিষ্ণু ধান আবিষ্কার করেছি।অনুষ্ঠানে মার্শাল আইল্যান্ডসের প্রেসিডেন্ট হিলদা সি হেইন, গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস্টালিনা জর্জিওভাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন...
Top