জন-প্রত্যাশা পূরণ করবে না প্রস্তাবিত বাজেট - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার বরিশালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন উজিরপুরের জমি দখলকারী তিনজন কারাগারে এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইসির, পাবেন ছোটরাও সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়া... ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে হাইকোর্টে রুল

জন-প্রত্যাশা পূরণ করবে না প্রস্তাবিত বাজেট


আলোকিত বার্তা:আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রস্তাবিত প্রথম বাজেট ‘উচ্চাভিলাসী’ অভিহিত করে বিএনপি বলেছে, এতে সাধারণ মানুষ চাপে পড়বে, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়বে। প্রস্তাবিত বাজেট জন-প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাই এ বাজেট জনগণ গ্রহণ করেনি। এর কারনে বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিক চাপে পড়বে।শুক্রবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের ওপর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন।তিনি বলেন,‘এই বাজেটে সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়বে, তাদের (সাধারণ মানুষ) প্রকৃত আয় কমে গেছে, বৈষম্য বাড়ছে। ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে, দরিদ্ররা আরও দরিদ্র হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভুগছে মধ্য-নিম্নবিত্তরা। তাদের ওপর করের চাপ আরও বেড়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে, মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। কারণ জনগণের বিরুদ্ধে এই বাজেট দেয়া হয়েছে।’

প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলোর কথা উঠে আসেনি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তাদের যে প্রধান সমস্যাগুলা অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান-শিক্ষা-স্বাস্থ্য-তার কোনোটাই সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এক কথায় এই বাজেট জন-প্রত্যাশা পূরণ করবে না, তারা (জনগণ) নিবার্চনের মতোই এই বাজেটও গ্রহণ করবে না।ফখরুল বলেন, ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ- সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের’। বর্তমান অর্থমন্ত্রী পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লেখা দেখা গেছে ‘সময় এখন আমাদের: সময় এখন বাংলাদেশের।’ বছর খানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন হিসেবেও শোনা গেছে ‘সময় এখন আমাদের’। আসলে সময় এখন তাহাদের এবং একমাত্র তাহাদেরই। সেটা বাংলাদেশের মানুষের বুঝতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আয়-বৈষম্য, বেকারত্ব, অর্থনৈতিক নৈরাজ্যের কারণে সামাজিক অস্থিরতার মুখোমুখি জনগণ এখন আর উন্নয়নের মিষ্টি কথায় সন্তুষ্ট হতে পারছে না।বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্ধকৃত ব্যয়ের গুণগতমান, মেগা প্রকল্পের ব্যয় ‘অস্বাভাবিক’ বৃদ্ধি, জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, বেকারত্ব, কর্মসংস্থান, সামষ্টিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি বিষয়ে নিয়ে বাজেটে যেসব বক্তব্য দেয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ফখরুল।

ঘাটতি বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে সুদ-আসল পরিশোধ করতেই বাজেটে বিশাল ব্যয় হচ্ছে। ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরকারি চাকরিতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পদ সৃষ্টি, গণহারে পদোন্নতির মাধ্যমে বেতনকাঠামোসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি। এই অর্থবছরে বেতন-ভাতার জন্য রাজস্ব আয়ের ২০ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। যা কোনো অবস্থাতে যুক্তিযুক্ত বলা যাবে না।ঋণ বিষয়ে সময়সীমা পরিবর্তনের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সম্প্রতি ঋণ হিসাবের সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাঁচ বছরের স্থলে তিন বছরের মাথায় ব্যালেন্স শিট থেকে ঋণ অবলোপন করা হবে। এ এক অদ্ভূত ব্যাপার। এর মানে হলো অ্যাকাউন্টিং ট্রিপমেন্ট দিয়ে দ্রুত ঋণ সাফ করে দেয়া যাবে। ব্যালেন্স শিট আরও আকর্ষণীয় হবে। এটা জনগণকে গোঁজামিল দেয়া যা মোটেও কাম্য নয়। আসলে বিরাটাকার খেলাপি ঋণ জনগণের দৃষ্টির আড়াল করার জন্য এমন ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।সাধারণ মানুষের মোবাইল ও সিমের ওপর কর বৃদ্ধির সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘বাজেটে একদিকে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে যা কিনা সমাজের সুবিধাভোগী একটা শ্রেণি ব্যবহার করে। অথচ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।। সেই মোবাইল, সিম ও সার্ভিসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বাজেটে।’

ফখরুল আরও বলেন, ‘বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সিগারেটের ওপর শুল্ক না বাড়ায় সিগারেট কোম্পানির ৩১% আয় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ সারা বিশ্বে সিগারেট নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এটা এক শুভংকরের ফাঁকি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার পরোক্ষে কর বেশি আদায় করছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বেশি পড়বে। অন্যদিকে উৎপাদনশীল খাত বাড়ছে না ও বহুমুখী হচ্ছে না। শিল্পকারখানার সংখ্যা বাড়েনি বরং কমেছে। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে সুবিধা দেওয়া এবং কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। টাকার অংকে এটা বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি।

বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল শুরুতেই তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, অনির্বাচিত’ এই সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত সরকারে রয়েছে বাংলাদেশ। এরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়।বাজেট প্রতিক্রিয়া অনুষ্ঠানে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কভার পেজ তুলে ধরে ফখরুল বলেন,এখানে বাজেটে প্রকৃত চিত্র উঠেছে। ডেইলি স্টারকে ধন্যবাদ জানাই।সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন,ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Top