চলতি সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের তোড়জোড় চলছে - Alokitobarta
আজ : বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
সন্ত্রাসীদের হামলা, গুরুতর আহত শাহাবুদ্দিন খান,নিরাপত্তা হীনতায় নিজ এলাকা ছাড়া অসহায় পরিবারটি বাবুগঞ্জে জামায়াত কর্মীদের উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এনআরবিসি ব্যাংকে চলছে লুটপাট, মূল নায়ক চেয়ারম্যান এমডি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করলে ছাড় নয় মোহাম্মদ আবুল কাশেমের শত কোটি টাকার দুর্নীতি! বিএনপির মুখোশ পরে দুদকের নজর এড়ানোর ফন্দি জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বরিশাল জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত ২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ? হজের নিবন্ধনের সময় আরও এগিয়ে আনলো সৌদি আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে

চলতি সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের তোড়জোড় চলছে


আলোকিত বার্তা:চলতি সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের তোড়জোড় চলছে। আজকালের মধ্যে এ সংক্রান্ত সংশোধিত আইন পাশ হতে পারে সংসদে। এরপর বাকি থাকবে আনুষ্ঠানিকতা। তাও শেষ হয়ে যেতে পারে অল্প সময়ের মধ্যে। অন্যদিকে আইন পাশের পর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম যাতে দ্রুত শেষ করা যায় সে লক্ষ্যে শনিবারও খোলা ছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়।মন্ত্রণালয়ের সংসদসহ সংশ্লিষ্ট অধিশাখায় কাজ চলেছে। কাজ চলেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট শাখায়ও। ফলে সবমিলে চলতি সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশের লক্ষ্যে এখন ব্যস্ত কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে এই তথ্য।এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় পৃথক আইনে নির্দেশিত পন্থায়। তাতে পরীক্ষার মাধ্যমেই ফল দেওয়ার বিধান আছে। করোনা মহামারির বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অতীতের দুই পরীক্ষার গ্রেড বিবেচনায় এইচএসসির গ্রেড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু আইনের সংশোধন ছাড়া তা সম্ভব নয়।এ কারণে গত ১৯ জানুয়ারি সংসদে এইচএসসি, আলিম এবং এইচএসসি (বিএম) এই তিন পরীক্ষার পৃথক সংশোধিত আইন উত্থাপন করা হয়। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি সুপারিশসহ ২১ জানুয়ারিই তা সংসদে উত্থাপন করে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশের লক্ষ্যে আমাদের কার্যক্রম চলছে। বলতে গেলে ফল প্রস্তুত আছে। অধ্যাদেশ জারির প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। অধ্যাদেশ জারির ২-৩ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা রাখছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিলটি রোববার (আজ) সংসদে পাশ হতে পারে। যদি এ নিয়ে সংসদ সদস্যের সম্পূরক কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অধিবেশনে জবাব দেওয়া হবে। না হলে বিলটি পাশের জন্য সংসদ সদস্যের সামনে উপস্থাপিত হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাশ হলে পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। পাশকৃত আইন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ফলে এই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে।একটি সূত্র জানায়, বিলগুলো যাতে পাশের দিনই গেজেট আকারে প্রকাশ করা সম্ভব হয় সে লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয়ের সংসদ শাখা এবং শিক্ষা বোর্ড ও সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শনিবারও কাজ করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ত্বরিত অনুমোদনের প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে পাশকৃত আইনের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কমিটি ফল প্রকাশের সুপারিশ করবে।সাধারণত ফলাফলের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এজন্য তার সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। তার সম্মতিতে ফল প্রকাশের রেওয়াজের ব্যত্যয় ঘটানো হবে না। তবে যে প্রস্তুতি আছে তাতে এসব প্রক্রিয়া শেষ করতে দুই-তিন দিনের বেশি লাগবে না বলে জানায় সূত্রটি।ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব তপন কুমার সরকার বলেন, কারিগরি কমিটির সুপারিশের আলোকে তৈরিকৃত গাইডলাইনের অনুসরণে এইচএসসি পরীক্ষার ফল তারা তৈরি করে রেখেছেন। এখন আইন পাশ হলেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে।উল্লেখ্য, পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) বিল-২০২১ সংসদে পাশের প্রক্রিয়া চলছে। গত ১১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় এই আইন চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। সংশোধিত আইনে করোনার কারণে এইচএসসি বা উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা ছাড়াও ভবিষ্যতে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে ফল প্রকাশের বিধান যুক্ত আছে।গত ৭ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। একইদিন তিনি জানান, জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে এ পরীক্ষার্থীর ছাত্রছাত্রীদের গ্রেড দেওয়া হবে।উল্লেখ্য, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থী এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সরকার পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমান শ্রেণির ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়।

Top