‘মামলা লিস্টে নিতেও দুর্নীতি’সব আদালত দুর্নীতিমুক্ত করার দাবি
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:দুর্নীতিবাজ বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, অন্য জায়গায় দুর্নীতি থাকলেও দুর্নীতির বিচার সুপ্রিমকোর্টেই হয়। সেখানে বিচারপ্রার্থীদের মামলা করার সময় তদবির করতে হয়, সব জায়গায় টাকা দিতে হয়, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন এবার দেশের সব আদালতকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ‘বস্তি’ উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার ঘটনায় বিএনপির এই এমপি বলেছেন, ‘মামলার তদবিরে দুর্নীতি, লিস্টে আনতে দুর্নীতি,শুনানির দুর্নীতি, কিছু কিছু জুডিশিয়াল অফিসারের দুর্নীতি, সুপ্রিমকোর্টে সব জায়গায়-এসব আইনজীবীদের বক্তব্য।তিনি বলেন, আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগসহ সারা দেশে আগামী এক মাসের মধ্যে সব কোর্টকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া ‘রাজনৈতিক’ বিচারপতিদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানোর দাবি জানান এ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী।আর সমালোচনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের সাম্প্রতিক বক্তব্যের। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার বিচারপতিদের প্রসঙ্গ টেনে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সময় অনেক বিচারপতির আচরণ ছিল রাজনৈতিক। তারা এখনো সুপ্রিমকোর্টে বহাল তবিয়তে আছেন।
তাদের প্রতিটা আচরণ কন্ডাক্ট করে আমি দাবি করি, তাদের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে প্রেরণ করা হোক। সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে থাকা ‘বস্তি’ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে খোকন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে বস্তি থাকতে পারে না। আইনজীবীদের বসার ও হাঁটার জায়গা নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সুপ্রিমকোর্টের এই প্রিমিজেস থেকে বস্তি উচ্ছেদ করতে হবে। আইনজীবীদের বসার জন্য, কর্মপরিবেশ সৃষ্টির জন্য আপাতত টেম্পোরারি শেড হলেও করে দিতে হবে। এক মাসের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর দায়-দায়িত্ব সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি বহন করবে না। মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সুপ্রিমকোর্টের আসন্ন অবকাশকালীন ছুটির পর আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ গঠন এবং প্রয়োজনে নতুন বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান খোকন।সম্প্রতি এক জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে খোকন বলেন,এ বিষয়ে আইনজীবীরা আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে রিট আবেদনকারী মো. নূর আলম ও তার আইনজীবী সুফিয়া আহামেদকে পাঁচ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা (কস্ট) করা হয়। জরিমানার টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ব্যারিস্টার খোকন প্রধান বিচারপতির কাছে ওই নারী আইনজীবীর পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের অনুরোধ করেন। তার ভাষ্য ছিল, একজন জুনিয়র ল’ইয়ারের জন্য ৫ লাখ টাকার ‘কস্ট’ অনেক বেশি হয়ে গেছে। এটা মাফ করে দেওয়া দরকার। ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি আপিল বিভাগে মামলা কমে যাওয়া এবং এর ফলে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। প্রধান বিচারপতি তাকে বলেন, তার ওই বক্তব্য ‘অ্যাবসোলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল।’ এরপর প্রধান বিচারপতি জানান, তিনি আর আদালতে দিনের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। এরপর প্রধান বিচারপতি ও বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে উঠে যান।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সেদিন বলেছিলেন, আদেশ দেওয়ার সময় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে আইনজীবী সুফিয়া আহামেদ তখন তার পাশে বসেছিলেন এবং বারবার বলছিলেন, ‘খোকন ভাই আমাকে কী বিপদে ফেলল।’
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে খোকন বৃহস্পতিবার বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে আইনজীবীদের কথা তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের, এসব বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কোনো কাজ নেই। ‘হু ইজ হি হিয়ার? সে কে? তার বক্তব্যই ইরেলেভেন্ট। তার বক্তব্যটা অনভিপ্রেত, আনবিকামিং। আমি আশ্চর্যান্বিত হয়ে গেলাম, উনি সুপ্রিমকোর্ট বারের সেক্রেটারি ছিলেন না? উনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন! আই এম শকড অ্যান্ড সারপ্রাইজড।প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বর্ণনা করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য নাজিবুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগে এমন ঘটনা কী বার্তা দিচ্ছে।