শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ২৮শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাযায় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের অংশগ্রহণ বই ছাপায় সিন্ডিকেট,আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে পুলিশকে গুলি,মোবারকসহ গ্রেফতার ৪,পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত , লুট হওয়া অস্ত্র-গু... ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন ফের আলোচনায় ভারতের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন,বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার অপপ্রচার ঠেকাতে এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ,

শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন


মোহাম্মাদ মহাব্বাতুল্লাহ মাহাদ:এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি।পরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তারা পরিকল্পিতভাবে ওয়াকআউট করেছেন। তারা বিলের বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে কথা বলতে পারতেন। প্রয়োজনে নোটিশ দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তা না করে ওয়াকআউট করে চলে গেলেন। আমি আহ্বান জানাব, আপনারা ফিরে আসুন। গণতন্ত্রের ধারা চলমান রাখতে হবে। মতবিরোধ থাকবে। সব বিষয়ে এখানেই আলোচনা এবং সমাধান হবে। বেসরকারি দিবসে সরকারি বিল আনার প্রতিবাদসহ গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর বিলের কার্যক্রম শুরুর আগে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, আমরা পুরো সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এভাবে অসাংবিধানিক কোনো প্রসেসের অংশ হতে চাই না। এজন্য আমরা এখন আর এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করব না।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় যখন জনদুর্ভোগ আমরা লক্ষ করছিলাম, তখন তৎকালীন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমি সরাসরি কথা বলেছিলাম। স্পিকারের দায়িত্বে আপনি ছিলেন, আপনার সঙ্গেও আমি কথা বলেছিলাম। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলে ওনার বরাবরে একটা অনুরোধ জ্ঞাপন করে একটা চিঠিও দিয়েছিলাম। সেই চিঠির কপি আপনাকেও দেওয়া হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীকেও দেওয়া হয়েছে। বলেছিলাম এ ধরনের একটা স্পর্শকাতর সময়ে সংসদের একটা বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করার জন্য। কিন্তু আজ পর্যন্ত এর কোনো উত্তর পেলাম না। এটা কী হলো। দাবি ছিল সমাজে বিদ্যমান যে সংকট-সমস্যা, বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতে যে অব্যবস্থাপনা-একদিকে মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে না, লোডশেডিংয়ের জ্বালা, অন্যদিকে ভূতুড়ে বিল-এর কোনো সদুত্তর নেই।

তিনি বলেন, গ্যাসেও তীব্র সংকট দেখা দিল। গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে মানুষ আবার তেলের দিকে ধাবিত হলো। এসব নিয়েই একটা জটিল পরিস্থিতি। আর এসব পরিস্থিতির কারণেই দ্রব্যমূল্য হু-হু করে বেড়ে যাচ্ছে, বেড়ে গেল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা বিবৃতি দিয়েছেন, তিনি কিছু ডেটা তুলে ধরেছেন। আবার আমাদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে কিছু কথা বলা হয়েছে। তারাও কিছু তথ্যভিত্তিক বক্তব্য রেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকার কারণে শত শত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিল সম্পর্কে তিনি বলেন, আজ আমাদের সামনে এখন তিনটা বিল এসেছে, সেগুলো আজ অবশ্য আলোচনা হবে না, উত্থাপনের জন্য এসেছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে। আমরা সবাই বলে আসছি যে, এটা গতানুগতিক কোনো সংসদ না। আমাদের সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী, এর ফলাফল অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করা হয়েছে; কিন্তু গণভোটের জন্য সংস্কার পরিষদের সেই সভা আর আহ্বান করা হলো না। এটা যখন উপেক্ষিত হলো, আমরা নোটিশ দিলাম, আলোচনা হলো তিন ঘণ্টা, তারপর বিষয়টাই ওয়াকআউট হয়ে গেল। ওয়াকআউট মানে নো রেজাল্ট।

তিনি বলেন, আজকের দিনটা হলো বেসরকারি সদস্যদের জন্য। হ্যাঁ, বেসরকারি সদস্য বিরোধী দলের হতে পারেন, সরকারি দলের হতে পারেন-মন্ত্রীদের বাইরে যারা আছেন, তারা সবাই আমরা বেসরকারি সদস্য। আমরা সেই বিল আনতে পারি। সেই বিলগুলো আজ না এনে, আমি মনে করি যে এখানে অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। আজ এখানে যেভাবে সরকারি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে, এটা বোধহয় কোনো ভালো নজির হবে না। আমরা চারটি নোটিশ জমা দিয়েছি, আমরা আশা করব সেই নোটিশগুলো জনস্বার্থে, জনদুর্ভোগ নিরসনের স্বার্থে সেই নোটিশগুলো আলোর মুখ দেখবে। এই সংসদে আলোচনার সুযোগ আমরা পাব। আমাকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আমরা এখন ওয়াকআউট করছি। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আপনার সঙ্গে কথা বলেছেন, ইনফরমালি বলতে পারেন। আপনি স্পিকারের দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি বললেন চিঠি দিয়েছেন, বললেন জবাব পেলেন না। যে চিঠি দেওয়ার এখতিয়ারই নেই, চিঠির জবাব কীভাবে দেওয়া হবে? দ্বিতীয় হলো-যে আলোচনাটা তারা এক সপ্তাহ আগে করতে চাইলেন, সেটা এক সপ্তাহ পর করলে এমন কিছু অসুবিধা হতো না, সেটা আজ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অনেক কাজ থাকে। ইতোমধ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং শপথ গ্রহণ হয়েছে। অনেক রাষ্ট্রীয় ফাংশন এগুলো করতে হয়েছে। এর মধ্যে তো সংসদ অধিবেশন ডাকার কোনো প্রস্তুতিই ছিল না। তারপরও রিজনেবলি এগিয়ে নিয়ে এসে আজ এই সংসদ আহ্বান করা হয়েছে। আমি কোন শব্দ আজ অসাংবিধানিক বলেছি, আমি নিজেই বুঝতে পারছি না। কারণ, আমার ভাষাজ্ঞান যতই খারাপ হোক, আমি খুব সচেতন থাকি যাতে কোনো আনপার্লামেন্টারি ওয়ার্ড এখানে ইউজ না করতে হয়।বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সহযোগিতা যদি করতে চান, আসুন। আবারও ৬৮ বিধিতে আলোচনা হতে পারত, ৬২ বিধিতে আলোচনা হতে পারত-সেই প্রস্তাব তো দিলেন না। কারণ ওয়াকআউট যে করতে হবে পরিকল্পিতভাবে, সেজন্য।

তিন বিল উত্থাপন : পরে মানবাধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং বিদ্যমান আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদে তিনটি পৃথক বিল উত্থাপিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’। পরে বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ রহিত করে একটি নতুন আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া বিদ্যমান ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২’ অধিকতর সংশোধনের লক্ষ্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন।

Top