গণভোটের রায় ব্যর্থ হলে জনগণ নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাবে
নুর নবী জনী:জনগণের রায়কে অপমান করব না। জামায়াতের আমির বলেন,সরকার গঠনের আগে এবং নির্বাচনের আগে সবাই স্বাধীন বিচার বিভাগের কথা বলেছিল। কিন্তু নির্বাচন হওয়ার পর এখন আর সরকারি দল স্বাধীন বিচার বিভাগ চায় না। স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, শক্তিশালী গুম-সংক্রান্ত কমিশন, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন তারা চায় না। তারা আগের ফ্যাসিবাদী কাঠামোই ধরে রাখতে চায়।এ জন্যই তারা গণভোটের গণরায়কেও মানতে চায় না।জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা.শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমরা সংসদের ভেতরে লড়াই করব,প্রয়োজনে রাজপথেও লড়াই করব।যদি গণভোটের রায় ব্যর্থ হয়,তাহলে জনগণ নির্বাচনী ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারাবে।গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চিত্রপ্রদর্শনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন জামায়াত আমির। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ‘রক্তাক্ষরে জুলাই’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এই বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে দাবি আদায় হলে আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি না হয়, তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি আদায় করা হবে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা জনগণের সঙ্গে বেইমানি করব না।
শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জুলাইয়ে যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করুন। শুধু কিছু অর্থ দিয়ে তাঁদের পরিবারকে সহায়তা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাঁদের স্মৃতিকে জাতির সামনে তুলে ধরুন, তাঁদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখুন। কারণ, বর্তমান সরকার জুলাইয়েরই ফসল। আমরা যারা বিরোধী দলে আছি, তারাও জুলাইয়ের ফসল। দুঃখজনকভাবে অনেকেই উপকারীর উপকার ভুলে যান উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইকে নিয়ে অনেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন। আমি বলব, তাঁরা ছোট মনের মানুষ। আত্মসম্মানবোধ থাকলে জুলাইকে নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার কোনো সুযোগ নেই।
এখনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক অপচর্চার কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়নি বলেও দাবি করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় এখনো অনেক কিছু করা হচ্ছে। আমরা চুপচাপ আছি বলে কেউ ভাববেন না যে আমরা ঘুমিয়ে গেছি। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর গণরুম হবে না। এই সুযোগ আর দেওয়া হবে না। গণরুম ও গেস্টরুমের কবর ২০২৪ সালেই রচিত হয়েছে, এটি আর ফিরে আসবে না। কেউ যদি ফিরিয়ে আনতে চায়, তাহলে তাদেরই ফিরিয়ে দেওয়া হবে। ক্ষমতাসীন দল ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর জুলাই অভ্যুত্থানের সব অঙ্গীকার ভুলতে বসেছে বলে অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি আরও বলেন, ‘অত্যন্ত বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা লক্ষ করছি, তারা গণভোটকে অস্বীকার করছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশকে অস্বীকার করছে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির জারি করা সকল আদেশকেও অস্বীকার করছে। অথচ এই জুলাই বিপ্লবের বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী) হিসেবেই তারা আজ ক্ষমতায় এসেছে।অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসুর) সহসভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।