জুলাই অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ জামায়াতের
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা:জুলাই গণঅভ্যুতাথানের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা না করায় ক্ষোভ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।তবে আগামী ১৬ জুলাই শহীদ দিবস এবং ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন করা হবে। জামায়াত, এনসিপি এবং অন্যান্য দলের মত বিএনপি এখনও কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। যদিও ছাত্রদল ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে ৭০ শতাংশ জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সরকার সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে পুরোনো ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রা শুরু করেছে। জুলাই শহীদ, আহতদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠান থেকে বুধবার দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেছেন, জুলাইয়ের ভয়াল দিনগুলোতে আওয়ামী লীগের চালানো নৃশংস গণহত্যা রাষ্ট্রীয়ভাবে তুলে না ধরলে, জনগণ আবার বিটিভির অভিমুখে ছুটতে পারে।গত বছর সরকারিভাবে আগেভাগে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও, এবার তা করা হয়নি।
জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বুলবুল বলেন, যে অভ্যুত্থানের কারণে সরকারপ্রধান নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন, সেই জুলাইকে সরকার অস্বীকার করে জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। জামায়াত ক্ষমতায় যেতে না পারলেও, প্রত্যেক শহীদ পরিবার এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় সভায় জুলাই শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান উৎসাহে গণভোটে হ্যাঁ দিয়েছি। কিন্তু সরকার গঠন করে গণভোটের রায় না মেনে জুলাই চেতনাকে অস্বীকার করেছেন তিনি। রাষ্ট্র সংস্কার না হলে আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য।জুলাই শহীদ জিহাদ হোসেনের বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, চাঁদার জন্য আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা বারবার তালা দেওয়ার চেষ্টা করছে। শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বলা হচ্ছে আমরা জুলাই পরিবার বিরোধী দলের। কিন্তু আমরা কোনো দলের না।এতে আরও বক্তৃতা করেন শহীদ রেজাউল করিমের বাবা আল-আমীন মীর, শহীদ আলিফের বাবা সৈয়দ গাজীউর রহমান, আহত জুলাইযোদ্ধা শাহ আলম গাজী, কামরুল ইসলাম প্রমুখ। তাঁরা দ্রুততম সময়ে জুলাইয়ের মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার দাবি করেন।