আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর - Alokitobarta
আজ : বৃহস্পতিবার, ২০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বিদ্যুতে সরকারের প্রতি অসন্তুষ্ট ৮৯.৪%,গণভোট বাস্তবায়ন চান ৭০ শতাংশ, ‘সবার জন্য সমান’ নীতি বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ অস্বস্তি ,রাজনীতিতে নানা আলোচনা বরিশালে এসএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণে ‘বিশেষ ছাড়’ নেই গণমাধ্যম এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে কোনো গোপন শর্তে নয় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলায় কার্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করে পরে ডিসি প... একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল এক হাজার টাকা ভাড়া মারছি, জমা ১২শ,গ্যাস সংকটে হিমশিম চালকরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর


আলোকিত বার্তা:আজ পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। মহিমা, পবিত্রতা ও গভীর ভাবগাম্ভীর্যের আবহে সূর্যাস্তের পর থেকেই সারা দেশে শুরু হবে এ বরকতময় রজনী উদ্যাপন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারা রাত ইবাদত-বন্দেগি, তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে নিজেদের সঁপে দেবেন মাবুদের দরবারে। এ রাত মুমিন হৃদয়ের জন্য অনন্য এক আত্মসমর্পণ ও আত্মশুদ্ধির পবিত্র মুহূর্ত। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে মুসলিম উম্মত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে এ মহিমান্বিত রাতের জন্য। এটি এমন এক পবিত্র রজনী, যার মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কি জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল (আ.) তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে সব সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতীর্ণ হয়। শান্তিময় এ রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে’ (সুরা কদর)।এ আয়াতগুলো থেকেই স্পষ্ট হয় যে, লাইলাতুল কদর এমন এক রাত, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। অর্থাৎ প্রায় তিরাশি বছর চার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব এই এক রাতের ইবাদতে পাওয়া যায়। তাই যে ব্যক্তি এই রাতের বরকত লাভ করে, সে সত্যিই সৌভাগ্যবান।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ পবিত্র রাতে মহান আল্লাহ তাঁর অসীম দয়া ও রহমতের দরজা খুলে দেন। সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত বান্দাদের জন্য ক্ষমা ও রহমতের আহ্বান জানানো হয়। আল্লাহর রহমতের এ আহ্বানে যে বান্দা সাড়া দেয় এবং আন্তরিকভাবে তওবা করে, সে আল্লাহর ক্ষমা ও অনুগ্রহ লাভের আশা করতে পারে।লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বোঝাতে ইসলামি ইতিহাসে একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়। নবীজি (সা.) একবার সাহাবিদের সামনে বনি ইসরাইলের এক ব্যক্তির কথা বলেন, যিনি এক হাজার মাস ধরে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন ছিলেন। তখন সাহাবিরা আফসোস করে বলেন, তাদের আয়ু এত দীর্ঘ নয়, তাই তারা কীভাবে সেই পরিমাণ ইবাদত করতে পারবেন। তখন আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদরের সুসংবাদ দান করেন এবং সুরা কদর অবতীর্ণ করেন, যাতে এ উম্মতের জন্য অল্প সময়ে অধিক সওয়াব অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোয় লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে (সহিহ বুখারি)। অনেক সাহাবি রমজানের ২৭তম রাতকে লাইলাতুল কদরের রাত হিসাবে ধারণা করেছেন। হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এটি ২৭ রমজানের রাত। তবে অধিকাংশ আলেমের মতে, এ রাত শেষ দশকের যে কোনো বিজোড় রাতে হতে পারে।

এ রাতে একজন মুমিনের উচিত বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করা, কুরআন তিলাওয়াত করা, তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করা। আয়েশা (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি তিনি লাইলাতুল কদর পেয়ে যান, তাহলে কী দোয়া করবেন। তখন নবীজি (সা.) তাকে এই দোয়াটি শিখিয়ে দেন : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব, আমাকে ক্ষমা করুন।এ পবিত্র রাতে একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর দরবারে নিজের ভুল ও পাপের জন্য আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা করা এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার অঙ্গীকার করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ মহিমান্বিত রাতের বরকত লাভের তৌফিক দান করুন। আমিন।

Top