আজ পবিত্র শবেবরাত - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বরিশালে জুলাই জাগরণ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত দেশ থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেফতার করে বিচারের দাবি এনসিপির রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য আলোচনায় বিএনপির সিনিয়র ৩ নেতা সাহাবুদ্দিন মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের প্রতি তিনি সমর্... রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে যা বললেন স্পিকার বরিশালে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি গঠন উজিরপুরের জমি দখলকারী তিনজন কারাগারে এনআইডি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা ইসির, পাবেন ছোটরাও সাংবাদিক শফিকের মুক্তি না দিলে শাহবাগ থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়া...

আজ পবিত্র শবেবরাত


মু.এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া:যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ রাতে দেশে পবিত্র লাইলাতুল বারাআত বা শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।মাগরিবের নামাজের পর ওয়াজ মাহফিলের মধ্য দিয়ে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র লাইলাতুল বারাআতের অনুষ্ঠানমালা শুরু হবে।রাত ৮টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে আলোচনা করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আফম খালিদ হোসেন। সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আ. ছালাম খান।সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের ফজিলত,গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলী শাহজাদা লেন জামে মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা নজরুল ইসলাম কাসেমী।নফল ইবাদত ও জিকির-আজকারের জন্য বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ সারা রাত মুসল্লিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ফজরের নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শবেবরাতের অনুষ্ঠানমালা সমাপ্ত হবে। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অনুরূপ আলোচনা সভা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় কিছু সময় ও কিছু রাত রয়েছে, যেগুলো কেবল সময়ের গন্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আধ্যাত্মিকভাবে মানুষের জীবনপ্রবাহকে প্রভাবিত করে।

শাবানের পনেরোতম রজনি, যা ‘শবেবরাত’ নামে পরিচিত, তেমনই এক গভীর তাৎপর্যপূর্ণ রাত। এটি রহমত ও মাগফিরাতের প্রতীক, আবার আত্মসমালোচনা ও তাকদির-সংশোধনের এক মহাসন্ধিক্ষণ, ভাগ্যরজনি। ‘বরাত’ শব্দটি আরবি ‘বারাআহ’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ মুক্তি, নিষ্কৃতি বা দায়মুক্তি। এই দৃষ্টিকোণ থেকে শবেবরাত হলো গুনাহ থেকে মুক্তি, জাহান্নাম থেকে অব্যাহতি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের রাত। যুগে যুগে মুসলিম মনীষীরা এই রাতকে মানবজীবনের নৈতিক ও আত্মিক সংস্কারের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্য হিসাবে বিবেচনা করে এসেছেন। এছাড়া শবেবরাতের ফজিলত হাদিস দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত।

হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা শাবানের মধ্যরাতে সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’ শবেবরাত তাকদিরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি রাত। বহু আলেমের মতে, এ রাতে আগামী এক বছরের জন্য মানুষের জীবন-মৃত্যু, রিজিক, সুখ-দুঃখের ফয়সালা ফেরেশতাদের কাছে অর্পিত হয়। যদিও চূড়ান্ত তাকদির আল্লাহর জ্ঞানেই সংরক্ষিত, তবু দোয়া ও তওবার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর অনুগ্রহ আকর্ষণ করতে পারে-এটাই ইসলামের আশাবাদী দর্শন। এই রজনির মৌলিক আমল- দীর্ঘ ইবাদত, দোয়া ও কান্নাভেজা মোনাজাতে রত থাকা। শবেবরাতের রাত জাগরণ ও পরদিন রোজা রাখা-উভয়ই নফল ইবাদত হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ। শবেবরাতকে ঘিরে শরিয়ত অনুমোদিত আমল ও লোকাচারভিত্তিক চর্চার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করা জরুরি।

আতশবাজি, আলোকসজ্জা, উচ্চশব্দে আনন্দ প্রকাশ কিংবা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক নামাজ আদায়-এসবের কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদিসে নেই। বরং এগুলো এই রাতের নিরবচ্ছিন্ন ভাবগাম্ভীর্য ও আত্মিক আবহকে ব্যাহত করে। শবেবরাত আমাদের শেখায় ইসলাম আনুষ্ঠানিকতার ধর্ম নয়, বরং অন্তরের পরিবর্তনের ধর্ম। এ রাত আত্মজিজ্ঞাসার রাত।

Top