যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৪তম বছরে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোর থেকেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কুচকাওয়াজ, আলোচনা সভা, বিজয় মেলা ও নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।
ঢাকা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকাজুড়ে লাল-সবুজ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। জাতীয় পতাকার রঙে সেজেছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও সরকারি-আধা সরকারি ভবন। হাইকোর্ট, কার্জন হল, শাপলা চত্বর, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্থাপনায় বর্ণিল আলোয় ফুটে উঠেছে বিজয়ের আবহ। এসব আলোকসজ্জা দেখতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় করছেন মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বিজয়ের আনন্দ তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
সিলেট
যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিলেটে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সকাল থেকেই জনতার ঢল নামে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রথমে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খান মো. রেজা উন নবী, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। সকাল ১০টায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি সিলেট-১ আসনের দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। তবে এবার আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়নি।সকাল থেকেই বিজয়ের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নগরী। কিশোর-তরুণদের হাতে জাতীয় পতাকা, সাইক্লিংসহ নানা আয়োজনে বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে সিলেটবাসী। জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৬টায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মার্কেটে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
বান্দরবান
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জেলা স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি ও পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমান।
শাবিপ্রবি
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম। পরে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।আলোচনা সভায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের নাম না থাকা দুঃখজনক। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অবদানকে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীনরাপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।আলোচনা সভায় ‘১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২০২৪ এর ছাত্র গণ-অভুত্থান: সৃষ্ট বয়ান এবং বাস্তবতা’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশাল
আলোকসজ্জা ছাড়াই বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। সকালে র্যালি ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বেলস পার্কে বিজয় মেলা, কুচকাওয়াজ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নগরীর বেলস্ পার্কে ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রতিটি উপজেলায় বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়। নগরীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে বিভাগীয় কমিশনার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, ফায়ার সার্ভিস কর্মী, সামাজিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষকবৃন্দসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে কীর্তনখোলা নদী সংলগ্ন ত্রিশ গোডাউন বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। এবারের বিজয় দিবসে পুস্পস্তবক অর্পণ করতে আসা তরুণ প্রজন্ম চাচ্ছে বৈষম্যহীন, সুখী-সমৃদ্ধ ও দুর্নীতিমুক্ত একটি বাংলাদেশ।
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের সূচনা হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, কুচকাওয়াজ, বিজয় মেলা, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়। গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) নানা আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও বিজয় র্যালি। প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এতে অংশ নেন। পরে র্যালি হয়।
পাকশী
মহান বিজয় দিবসে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের উদ্যোগে ৩৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ঈশ্বরদীর পাকশী আমতলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা ও ফুল তুলে দেন বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক লিয়াকত শরীফ খান। এ ছাড়া আলোচনা সভা, র্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।