আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর তফশিল হোক - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ

আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর তফশিল হোক


মু.এ বি সিদ্দীক ভুঁইয়া:জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তফশিল নিয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের মূল ব্যক্তির সুস্থতার ব্যাপার আছে। আমরা চাই সব রাজনৈতিক দল রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার পর তফশিল হোক।শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে এনসিপির আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।নাহিদ বলেন, নির্বাচন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের জন্য তারিখ পরিবর্তন হবে না। আমাদের বরাবর বলা হয়েছে আমরা নির্বাচনবিরোধী। কিন্তু আমরা নির্বাচন চাই। ওদিকেই যেতে হবে। তবে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ করে তারপর নির্বাচনে যেতে হবে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের জন্য সময়সীমা বদলাবে বলে মনে করি না।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের পক্ষে এই সনদ গ্রহণ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দলটির জন্য বরাদ্দকৃত প্রতীক হচ্ছে ‘শাপলা কলি’।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ ইসলাম নির্বাচন সংক্রান্ত আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) সংশোধনীকে সাধুবাদ জানান। একইসঙ্গে, তিনি এই সংস্কার বাতিলে চাপ সৃষ্টি এবং আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

নিবন্ধনের শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বলে জানান এনসিপি নেতা নাহিদ। নির্বাচন কমিশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক চড়াই উৎরাই পার হওয়ার পরে অবশেষে প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপি এবারের নির্বাচনে অংশ নেবে।

নাহিদ উল্লেখ করেন, প্রত্যেক দলকে স্ব স্ব প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে—এই প্রস্তাবনা থেকে ইসিকে সরে না আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একটি বিশেষ দল সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিয়েছে এক মার্কায় নির্বাচনের জন্য এবং আদালতকে ব্যবহার করে এখন এই সংস্কার প্রস্তাবনা বাতিলের চেষ্টা করা হচ্ছে। এনসিপি এই বিষয়ে ইসিকে শক্ত অবস্থানে থাকার জন্য বলেছে।

নির্বাচনে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এনসিপি। নাহিদ বলেন, হলফনামায় প্রার্থীর তথ্য যাচাই-বাছাই করার জন্য ইসিকে বলা হয়েছে। এছাড়া অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে ইসি যেন কঠোর অবস্থান নেয়। যারা কালো টাকা ছড়াবে, তাদের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে বিষয়ে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) বদলির বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ডিসি, এসপিদের বদলিতে রাজনৈতিক প্রভাব আছে। এই প্রভাবের কারণে তারা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করবে।

গণভোটের প্রশ্ন যেন সঠিক প্রচার হয়, সেই বিষয়েও ইসিকে সতর্ক করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটের প্রশ্ন সঠিকভাবে প্রচার না হলে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছাবে না। এছাড়া নির্বাচনে অপতথ্য বা ভুল তথ্যের বিস্তার রোধে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এনসিপি কারোর সঙ্গে কোনো অপ্রকাশ্য বা প্রকাশ্য সমঝোতায় যায়নি। আমাদের ব্যাপারে অপপ্রচারের চেষ্টা হয়েছে। অতি শিগগিরই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবো। তৃতীয় একটি জোট নিয়ে আলোচনা প্রক্রিয়া চলমান আছে। পুরানপন্থি যে দলগুলো আছে, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের ব্যাপারে জনগণের আস্থা নেই। তাই আমরা নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাই।

নাহিদ আরও বলেন, নির্বাচনের পরেও সংস্কারের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকতে হবে। এনসিপির যাত্রা নির্বাচনের মাধ্যমে থেমে যাবে না বরং ত্বরান্বিত হবে। তবে নির্বাচনের পরিবেশ পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে বলব না। তবে এগিয়ে যেতে হবে। ইসিকে অনেক পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক বা বিদেশি শক্তি চক্রান্ত না করলে আশা করি আমরা এগিয়ে যেতে পারব।

Top