অনিয়মই যেনো নিয়ম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে - Alokitobarta
আজ : রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজধানীতে গণপরিবহন চলাচলে আসছে বড় পরিবর্তন এইচএসসির রসায়ন প্রশ্নে কোনো ভুল নেই, বলছে শিক্ষা বোর্ড ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট সুবিধা প্রত্যাহার ২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হচ্ছে ২৭ জুলাই রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে যোগ্যদের পদোন্নতি দিন বিশ্বস্তদের বসানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে,প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গ... হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে কুয়াকাটায় হামলায় আহত সাংবাদিক বাচ্চুর পাশে বরিশাল সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি

অনিয়মই যেনো নিয়ম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে


প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :অনিয়মই যেনো নিয়ম প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে। শীর্ষ পদ থেকে অফিস সহায়ক পর্যন্ত প্রায় সবার বিরুদ্ধেই রয়েছে কমবেশি অভিযোগ।সরেজমিন গত মঙ্গল ও বুধবার অধিদপ্তরে গেলে সাংবাদিকরা এসব অভিযোগের অনেককিছুরই প্রমাণ পান। দুপুরে অফিসের অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনুপস্থিত থাকেন। চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। গত বছরের আগস্টে মাসে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলেও তাদের দোসররা এখনও সেখানে বহাল তবিয়তে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা সবাই নিজ নিজ বাসায় লাঞ্চে! কর্মচারী ও অফিসার সমিতির রয়েছে পৃথক সিন্ডিকেট। বদলি, পদোন্নতি, অভিযোগ নিষ্পত্তি, স্লিপ ফান্ডের টাকা, মেরামত ও বিজ্ঞাপনের রয়েছে পৃথক সিন্ডিকেট। নোট-গাইড ও নিয়োগ দেয়ার কথা বলে কোটি কোটি টাকা নেয়া শিক্ষক নেতা কাশেমসহ সবার সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে।শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু করলে এর বিরোধীতায় নামে কিন্ডারগার্টেন মালিকরা। তারা আদালতে গেলে সরকারের পক্ষে যথাযথ তুলে ধরার উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগ মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। হাইকোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন কিন্ডারগার্টেন মালিকরা। এর বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রাথমকি ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ আইনজীবী নিয়োগে গড়িমসি করার অভিযোগ মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচছুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মহাপরিচালকের অপসারণ দাবি করছেন। স্কুল সাপ্লাইঅনুসন্ধানে জানা যায়, এসব সিন্ডিকেট একেবারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার থেকে মহাপরিচালক অবধি যোগাযোগ। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন, মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। যিনি সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব। ফেব্রুয়ারিতে ডিজির দায়িত্ব পাওয়ার আগে অধিদপপ্তরের পরিচালকের পদে ছিলেন।

বদলি বাণিজ্য: অনলাইন শেষে গোপন অফলাইন বদলি। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের অনলাইন বদলি শেষ হওয়ার পরপরই ১ হাজার ৫৬৮ জন শিক্ষককে অফলাইন বদলি করা হয়েছে। যার মধ্যে ৯৭২ জনই সনাতন ধর্মাবলম্বী। যাদেরকে বদলি করা হয়েছে অত্যন্ত গোপনে, উপজেলা পর্যায়ে। কোনো আবেদন না ঘোষণা ছাড়াই।

অনলাইন কোর্স
শিক্ষক বদলি নির্দেশিকার ৩.৬ ধারা উপেক্ষা করে শহরের শূন্যপদে নিজ উপজেলার শিক্ষককে না দিয়ে বাইরের উপজেলার শিক্ষক এনে পদ পূরণ করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বদলি নিষিদ্ধ থাকলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সেখানেও বদলির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে—বদলি বাণিজ্যে মহাপরিচালকের আত্মীয়–স্বজন যেমন চাচাতো ভাই, বোন, বোন জামাই, শাশুড়ি এবং তার একান্ত সহকারী মো. রায়হান উদ্দীন জড়িত। এমনকি পলাতক আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ব্যক্তিগত সচিব গৌতম পালের স্ত্রী মুক্তি বসাক এখনও মতিঝিল থানার শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পদে থেকে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক মতাদর্শী কর্মকর্তাদের বদলিসহ নানাভাবে হয়রানি করছেন তিনি। যদিও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মুক্তি বসাক।অভিযোগে জানা যায়, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের নিজ জেলায় শূন্যপদ থাকলেও ইচ্ছাকৃতভাবে দূরবর্তী এলাকাতে বদলি করে হয়রানি করা হচ্ছে। তবে চাহিদামতো সুবিধা দিলে আদেশ সংশোধন করে কাছাকাছি এলাকায় বদলি করে দেওয়া হয়। একই আদেশ ২–৩ বার পর্যন্ত সংশোধন করার উদাহরণও রয়েছে।

স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম: স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের ২০টি কাজের মধ্যে ৬টি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত এক নেতাকে। ঝালকাঠীর নলছিটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছে কার্যক্রম। সেখানেও ঠিকাদারি পেয়েছেন একজন আওয়ামী লীগ নেতা। এসব অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না মহাপরিচালক।

বিভিন্ন দপ্তরে জমা হওয়া অভিযোগে জানা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক তদবিরে তিনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি বাগান এবং পরে বিশেষ তদবিরে মহাপরিচালক পদেও বসেন। অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মকর্তাকে সুরক্ষা এবং অপ্রিয় কর্মকর্তাদের হয়রানি করছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকা ডেমরা থানার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. নাহিদা খাতুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও মহাপরিচালক তাকে পদে বহাল রেখেছেন। মহাপরিচালকের বিশেষ কথোপকথনের অডিয়ো–প্রমাণ এখন অধিদপ্তরের সবার মুখে মুখে।

শিক্ষা পরামর্শ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে আরও ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তারা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের কথা বলেছেন।অভিযোগের বিষয়ে মহাপরিচালকের সঙ্গে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি এসএমএস পাঠানো হলেও দেয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

Top