দেশে ১৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে নিজস্ব কোনো হাসপাতাল ভবন নেই - Alokitobarta
আজ : শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফের জানাযায় মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের অংশগ্রহণ বই ছাপায় সিন্ডিকেট,আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, সরকারের বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবি অর্থায়ন করতে আগ্রহী,গাবতলী-নারায়ণগঞ্জ মেট্রোরেল ব্যয় ৬১ হাজার কোটি টাকা অন্তর্মুখী ও বহির্মুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূলের দায়িত্বশীলদের যোগ্য হয়ে উঠতে হবে ওয়াশরুমের ফলস ছাদে লুকিয়ে পুলিশকে গুলি,মোবারকসহ গ্রেফতার ৪,পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত , লুট হওয়া অস্ত্র-গু... ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা শেষ মুহূর্তে বিরোধী দলের ওয়াকআউট,সংসদে তিন বিল উত্থাপন ফের আলোচনায় ভারতের হাইভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন,বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার অপপ্রচার ঠেকাতে এমপিদের মাঠে থাকার নির্দেশ,

দেশে ১৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে নিজস্ব কোনো হাসপাতাল ভবন নেই


মু এবি সিদ্দীক ভুঁইয়া :দেশে ১৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে নিজস্ব কোনো হাসপাতাল ভবন নেই। শিক্ষক সংখ্যা অপ্রতুল। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় অন্য প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় চলছে পাঠদান। কলেজ ক্যাম্পাস নেই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। নেই ছাত্রাবাস ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য হোস্টেল সুবিধা। কোথাও কলেজের অবকাঠামো থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবল ও শিক্ষা উপকরণের সংকট আছে। এ অবস্থায় ধার করা চিকিৎসাকেন্দ্র হিসাবে জেলা পর্যায়ের জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে হাতেকলমে শিখতে হচ্ছে নবীন চিকিৎসকদের। এসব কারণে ১৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দক্ষ চিকিৎসক হয়ে ওঠাই চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারি পাবনা মেডিকেল কলেজ, আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ (নোয়াখালী), কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ, যশোর মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ (জামালপুর), রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ (হবিগঞ্জ), নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ, নীলফামারী মেডিকেল কলেজ, নওগাঁ মেডিকেল কলেজ, মাগুরা মেডিকেল কলেজ ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের নিজস্ব কোনো হাসপাতাল নেই। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ (গোপালগঞ্জ), শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ (গাজীপুর), পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ (সুনামগঞ্জ) এবং শেখ লুৎফর রহমান ডেন্টাল কলেজ (গোপালগঞ্জ) নির্মাণাধীন। এগুলোর ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল কিছুই নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্র্থীরা অস্থায়ী ক্যাম্পাসে গিয়ে লেখাপড়া এবং অন্য হাসপাতালে ক্লিনিক্যাল পাঠ নিচ্ছেন।এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদারবলেন, হাসপাতাল ছাড়া মেডিকেল কলেজ চালানো যায় না। যেসব প্রতিষ্ঠানের হাসপাতাল নেই, সেখানে সাময়িক সময়ের জন্য জেলা সদরের হাসপাতাল ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সব মেডিকেলেরই নিজস্ব হাসপাতাল হবে। চারটা মেডিকেলের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এখন নিজেরাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাজস্ব বাজেট থেকে এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।

মেডিকেল কলেজ পরিচালনা আইন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমিতে হাসপাতাল থাকা বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজ আছে। এর মধ্যে ১৮টিই নানা সমস্যায় জর্জরিত। এগুলো স্থাপন ও পরিচালনায় বিদ্যমান আইনকানুনও উপেক্ষা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেশে ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৪ হাজার ৩৫০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন। এ হিসাবে কলেজগুলোয় ৫ বছরের একাডেমিক (প্রাতিষ্ঠানিক) শিক্ষাজীবনে ২১ হাজার ৭৫০ জন লেখাপড়া করছেন। তাদের মধ্যে যারা ওই ১৮টি কলেজের শিক্ষার্থী, তারা নানা সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছেন। তারা স্বাস্থ্য শিক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চেয়ে যোগ্যতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছেন। তারা ভবিষ্যতে জনগণকে কী সেবা দেবেন, তা নিয়ে শঙ্কিত সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, ২০১৮ সালে সরকারি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলেও এর নিজস্ব ক্যাম্পাস ও হাসপাতাল নেই। জেলার ডায়াবেটিক সমিতির হাসপাতালের কয়েকটি কক্ষ ও বারান্দায় প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পাঠদান করা হচ্ছে। তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের আট কিলোমিটার দূরে সদর হাসপাতালে গিয়ে ক্লিনিক্যাল শিক্ষা নিতে হচ্ছে। এছাড়া দুই কিলোমিটার দূরে কুষ্ঠ হাসপাতালের গেস্ট হাউজকে মেয়ে শিক্ষার্থীদের এবং একটি ভাড়া বাড়ি ছেলেদের হোস্টেল হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডায়াবেটিক সমিতি, কুষ্ঠ ও সদর হাসপাতাল মিলে দৈনিক ২০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে আপ-ডাউন করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।নীলফামারী মেডিকেল কলেজে ২০ জন শিক্ষক আছেন। তাদের মধ্যে অধ্যাপক দুজন, সহযোগী অধ্যাপক দুজন, সহকারী অধ্যাপক পাঁচজন এবং বাকিরা প্রভাষক। আট মৌলিক (বেসিক) বিষয়ে অ্যানাটমি ও ফিজিওলজি ছাড়া বাকিগুলোয় শিক্ষকের সংখ্যাও অপ্রতুল। মেডিসিন, সার্জারি, পেডিয়াট্রিক, গাইনি, প্যাথলজি ও কমিউনিটি মেডিসিন, বায়োক্যামিস্ট্রি বিষয়ে একজন করে শিক্ষক থাকলেও ফরেনসিক মেডিসিন বিষয়ে কোনো শিক্ষকই নেই।

কলেজের সহকারী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জেলা সেক্রেটারি ডা. দিলীপ কুমার রায় যুগান্তরকে বলেন, মেডিকেলের নিজস্ব ক্যাম্পাস, হাসপাতালের ফ্লোরস্পেস বেড অকুপেন্সি, গ্যালারি, টিউটোরিয়াল রুম, সব বিভাগের শিক্ষক, ল্যাব, শ্রেণিকক্ষের সরঞ্জাম, লাইব্রেরির আসন এবং সার্ভিস রুল মানা বাধ্যতামূলক হলেও কোনো কিছুই নেই। ইতোমধ্যে দুটি বর্ষের শিক্ষার্থীরা ক্লিনিক্যাল ক্লাস শুরু করছেন। এজন্য জেলা সদর হসপাতালের ওয়ার্ডগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের মতো ক্লিনিক্যাল ক্লাসে একজন করে শিক্ষক থাকায় জেলা হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট, কনসালট্যান্টদের সহায়তায় কোনোরকমে পাঠ দিতে হচ্ছে। তবে স্থানীয় সংসদ-সদস্য জানিয়েছেন, অচিরেই সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে।স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাধারণ সম্পাদক (পাবনা জেলা) ডা. জাহেদি হাসান রুমি বলেন, ২০০৮ সালে পাবনা সরকারি মেডিকেল কলেজে পাঠদান শুরু হয়। বর্তমানে ১৪তম ব্যাচ চলছে। প্রতি ব্যাচে ৭০ জন করে কলেজে ৩২২ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। মানসিক হাসপাতালের পাশে কলেজ ভবন থাকলেও কোনো হাসপাতাল নেই। ফলে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে আট কিলোমিটার দূরে শহরের জেনারেল হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। জেলা হাসপাতালটি কাগজেকলমে আড়াইশ শয্যার হলেও বাস্তবে ১০০ শয্যার। জনবলও কম। এছাড়া কলেজে মাত্র ৫২ জন শিক্ষক রয়েছেন। কলেজের প্রথম পর্যায়ে ৪২ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হলেও দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো পদ তৈরি হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা ক্লিনিক্যাল বিষয়ে পাঠ দিচ্ছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাসপাতালের কোয়ার্টারে থাকতে হচ্ছে। সবমিলে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের যোগ্য করে গড়ে তোলা বা দক্ষ করা চ্যালেঞ্জ হবে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ওবায়দুল্লাহ ইবনে আলী যুগান্তরকে বলেন, ২০১০ সালে পাবনাসহ চারটি মেডিকেলের হাসপাতাল ভবন নির্মাণে ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল। পরে নানা কারণে ২০১২ সালে চুক্তি ভেঙে যায়। ফলে মেডিকেলের হাসপাতাল নির্মাণ পিছিয়ে যায়। সবশেষ তথ্য হলো, মন্ত্রণালয়ই হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সমস্যা হলো, ভবন নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ ২০১৮ সালের খরচের চাহিদার পরিবর্তে ২০২২ সালের খরচ দাবি করছে, যা মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্টরা সবাই জানেন। স্থানীয় সংসদ-সদস্য এটি নিয়ে সংসদে কথা বলছেন। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু হবে।স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম আমিরুল মোরশেদ খসরু বলেন, ২০১০ সালে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। এর আওতায় কয়েকটি মেডিকেল কলেজের জন্য হাসপাতাল করার কথা ছিল। কিন্তু পরে এ বিষয়ে দুদেশের মধ্যে কোনো চুক্তি হয়নি। ফলে কাজ এগোয়নি। এখন সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এসব মেডিকেল কলেজের জন্য হাসপাতাল করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য ডিপিপি করা হচ্ছে।

Top