সরকার অর্থনৈতিক খাতকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে
মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকার অর্থনৈতিক খাতকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় আইন-বিধিমালা প্রণয়ন, ঝুঁকি নিরূপণ, কৌশলপত্র প্রণয়ন।বিএফআইইউ (বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট) প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন আজ। এ উপলক্ষ্যে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও দপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘কমপ্লায়েন্ট কান্ট্রি’। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশে অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিএফআইইউ ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করছে জেনে তিনি আনন্দিত।
এ অর্জনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাসহ সব রিপোর্ট প্রদানকারী সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি অভিবাদন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এ ধারা অব্যাহত থাকবে।শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে মর্যাদাপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেছে। ২০৪১ সাল নাগাদ ‘সোনার বাংলাদেশ’ তথা উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। সব আর্থসামাজিক সূচকে বাংলাদেশ প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেছে।
সাড়ে ১৩ বছরে আমাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং জনগণের ঐকান্তিক পরিশ্রমের ফসল আজকের এ প্রাপ্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তার সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হওয়ার আহ্বান জানান।প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সংবিধানে অনুপার্জিত আয় ভোগ হতে রাষ্ট্রের জনগণকে বিরত রাখার বিধান রেখে যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন, তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসী কাজ অর্থায়ন প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আলোকে বাংলাদেশের অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসী কাজে অর্থায়ন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। কার্যক্রম পরিপালনের প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে আর্থিক খাতের গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ।