ভারতের যতই দালালি করেন না কেন, সাবধান! সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড়বে না - Alokitobarta
আজ : মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতের যতই দালালি করেন না কেন, সাবধান! সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড়বে না


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক,আলোকিত বার্তা :ভারতের যতই দালালি করেন না কেন, সাবধান! সুযোগ পেলেই দেশটি কামড়ে দেবে, কাউকেই ছাড়বে না।প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার ঘটনায় শুরু হয়েছে তোলপাড়। দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর তাকে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হলেও তিনি বিক্ষুব্ধ হয়ে বিমানবন্দর থেকেই শ্রীলঙ্কা হয়ে দেশে ফিরে আসেন। জাহেদ উর রহমান ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন-আইওআরএ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দলের প্রতিনিধিত্ব করতে ১৪ জুন ঢাকা থেকে দিল্লি যান। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা দিল্লি যাচ্ছেন, সেটি কূটনৈতিক চ্যানেলেই ভারতকে জানানো হয়েছিলভারতের যতই দালালি করেন না কেন, সাবধান! সুযোগ পেলে কাউকেই ছাড়বে নাএমনকি ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস এবং দিল্লিতে কর্মরত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিলেন। তারপরও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হেনস্তা করা হয়। এই হেনস্তার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী ভারত কি বার্তা দিলো বাংলাদেশকে? এর আগে গত জানুয়ারি মাসে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বাধ্য হয়। তার অপরাধ সে বাংলাদেশি মুসলমান। ওই ঘটনায় বিশ্বের ক্রিকেটাঙ্গনে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও ভারত দুঃখ প্রকাশ দূরের কথা, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়া হয়। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছেলে আইসিটির সভাপতি জয় শাহের কারণে বাংলাদেশ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে; অভিযোগ রয়েছে- ওই জয় শাহের অনুমতিক্রমে বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের পর্ষদের পদ-পদবি নির্বাচনের নামে মন্ত্রী-এমপিদের ছেলে-ভাই-চাচারা ভাগবাঁটোয়ারা করে নেন।

পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি ক্ষমতায় পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেয়ার পর সীমান্তে ‘পুশইন’ ও ‘পুশব্যাক’ বর্বরোচিত কাণ্ড শুরু হয়। সীমান্তে পুনইন, পুশব্যাকের ফাঁদে পড়ে শত শত শিশু-বৃদ্ধা-নারী রোদে পুড়ছে-বৃষ্টিতে ভিজছে। এরই মধ্যে ১২ জুন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পায়ে হেঁটেই বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা।

ভারত এমন এক দেশ যার সঙ্গে প্রতিবেশী কোনো দেশের সুসম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেই যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে একশ্রেণির দালাল সেই ভারত তোয়াজে মেতে ওঠেছে। সাংস্কৃতির ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ থেকে শুরু করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে কিছু প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতা দিল্লি তোয়াজনীতিতে মেতে ওঠেছেন। যার কারণে ক্ষমতাসীন দলের ভেতরে যারা ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী হিসেবে পরিচিত সে নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে। গ্রামীণ প্রবাদ রয়েছে- ‘কুকুর পাগলা হলে সে মালিক না পথচারী কাউকেই চেনে না, কামড় বসিয়ে দেয়।’ তেমনি প্রগতিশীলতার লেবাসধারী ভারতের প্রতি সহানুভূতিশীল ভিআইপিকে দিল্লি বিমানবন্দরে হেনস্তার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভারতের যতই দালালি করেন না কেন, সাবধান! সুযোগ পেলেই দেশটি কামড়ে দেবে, কাউকেই ছাড়বে না।

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে হিন্দুত্ববাদী ভারত কেবল বাংলাদেশের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে রাজনৈতিক রেজিম চেঞ্জের পর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো এবং শেখ হাসিনাকে ১৫ বছর আট মাস ক্ষমতায় রাখার সব অপকর্মের নেপথ্যে ছিল ভারত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা পালিয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশ জায়গা না দিলেও ভারত ‘ঘরের মেয়ে’র মতো শেখ হাসিনাকে রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে দেড় বছর ‘দিল্লির চোখে চোখ রেখে ঢাকা’ কথা বলেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস দিল্লিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে সে ঢেউ ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স- এমনকি কলকাতায় আছড়ে পড়বে।’ ড. ইউনূসের এ হুঙ্কারে ভারত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের পর সুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি বাংলাভাষী পরিযায়ী মুসলমান শ্রমিকদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে অভিহিত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি হুমকি-ধমকি দেন এবং সীমান্ত দিয়ে পুশইনের নির্দেশনা দেন। হিন্দুত্ববাদী নেতা আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা আসাম রাজ্য থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত বাংলাভাষী মুসলিমদের বাংলাদেশে পুশইন (জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো) করার বিষয়ে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত ও কড়া বক্তব্য দেন। তার এসব বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তে মাঝে মধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হয়। শুভেন্দু অধিকারী এবং হেমন্ত বিশ্বশর্মা প্রকাশ্যে বাংলাদেশবিরোধী হিসেবে পরিচিত। তারা রাখঢাক না করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে অভ্যস্ত এ জন্য তারা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপির ভেতরে অনেক ভারতীয় গুপ্ত দালাল জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করছেন। তারা প্রকাশ্যে ভারতের আগ্রাসনবিরোধী বোঝালেও তলে তলে দিল্লিকে খুশি করতে অভ্যস্ত। এমনিতেই দেশে ভারতীয় দালাল সংস্কৃতিসেবি-সাংবাদিকরা সক্রিয়। বিভিন্ন মামলায় কয়েকজন রাঘববোয়াল সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হলেও গত দেড় মাসে দুই গ্রুপে ভাগ করে অর্ধশত সাংবাদিককে দিল্লি নেয়া হয়েছে। লাখ লাখ টাকা খবর করে ঢাকা থেকে সাংবাদিকদের দিল্লিতে নিয়ে উপঢৌকন দেয়ার পাশাপাশি চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে জনমত গঠনের মন্ত্রণাও দেয়া হচ্ছে। দেশে ফিরে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে পোস্ট দিচ্ছেন, টকশো করছেন।

আমার তো মনে হচ্ছে না, আমি বাংলাদেশে এসেছি। ভারতের ১৪০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি, এই ১৬০ কোটি জনগণ। বাংলাদেশ-ভারত এক হয়ে কাজ করলে বিশ্বশক্তিতে পরিণত হবে।’ দিনেশ ত্রিবেদী এই বক্তব্য নিয়ে যখন প্রতিবাদের ঝড় বইছে; তখন তথাকথিত প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি এয়ারপোর্টে হেনস্তা করা হয়। সীমান্তে যখন বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী-বিজিবি পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে, সীমান্তের মানুষ ভারতীয় বিএসএফের বিরুদ্ধে লাঠি হাতে প্রহরা বসিয়েছে; তখন ৯ জুন ডা. জাহেদ উর রহমান দিল্লির দূতিয়ালি করেন। সচিবালয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সরকার স্বাভাবিক করতে চায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইউনূস সরকারের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, এখন সেখান থেকে তারা বেরিয়ে আসতে চায়। পুশইন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছাকৃত হচ্ছে বলে আমরা বিশ্বাস করি না।’ সেই জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে হেনস্তা হতে হয়েছে। আয়তনে বড় দেশ হলেও ভারত এখন আর আগের অবস্থানে নেই। কাগজে-কলমে ভারত সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, বাস্তবে দেশটি ক্রমান্বয়ে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক নেই। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে আগে থেকেই বৈরী সম্পর্ক। মার্কিনিদের পৃষ্ঠপোষকতায় আফগানিস্তানে দীর্ঘ ২০-২২ বছর ছড়ি ঘোরালেও ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে গেলে সে দেশেও ভারতের দাদাগিরি বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালে হিন্দুরাষ্ট্র থেকে বের হয়ে সংবিধান সংশোধন করে আধুনিক নেপাল প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি চেষ্টা করলে নেপালের জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। অতঃপর ভারতের সবকিছুই বর্জন করার ঘোষণা দেয় নেপাল। ২০২০ সালে নেপালের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের জাতীয় প্রতীকে একটি নতুন মানচিত্রে ভারতের সাথে বিতর্কিত লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি এলাকাকে নেপালের ভূখণ্ড হিসেবে আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয়। ফলে নেপালের কাছে ভারত ‘উচিত শিক্ষা’ পায়। মালদ্বীপে ২০২২ সালে ‘ভারত হটাও’ আন্দোলন করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোহাম্মদ মুইজ বিপুল ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেই ‘ইন্ডিয়া আউট’ স্লেøাগান তুলে ভারতীয় বাহিনীকে হটিয়ে দেন। বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক থাকলেও রাশিয়া এবং চীন এখন নতুন করে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি নাগরিক খেদাও, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাসানোয় ভারতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া থেকে কমদামে জ্বালানি ক্রয় করায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের প্রতি চরম বিক্ষুব্ধ। ইরান ইস্যুতেও ভারত সাবোটাজের মুখে পড়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরোধী সমঝোতা হওয়ায় বৈশ্বিক পর্যায়ে পাকিস্তানের মর্যাদা বেড়ে গেছে। অথচ ভারত ভুলনীতি ও হিন্দুত্ববাদী অহমিকার কারণে নানা সংকটে জর্জরিত। আয়তনে বড় রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কার্যত এখন শ্বেতহস্তীর মতোই। শরীর (ভূমি) বিশালাকৃতি; কিন্তু কোনো কাজে আসছে না।

এ অবস্থায় বিএনপি সরকারকে সতর্ক হওয়া উচিত। মন্ত্রীদের সরকারি কাজে বিদেশ গেলে এনওসি নিতে হয়। তবে ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ যেতে মন্ত্রীদের বাধা নেই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে তাদের আরো সতর্ক হতে হবে। বেনজীর আহমেদ পুলিশের আইজিপি থাকার সময় এত প্রভাবশালী ছিলেন যে, আন্দোলনকারীদের হুমকি দিয়ে বলতেন- ‘বন্দুক হাতে নিয়েছি গুলি করে মারার জন্য, হা-ডুডু খেলার জন্য নয়’ এবং ‘মাটির নিচ থেকে তুলে এনে বিএনপি-জামায়াতকে গুলি করব’ ইত্যাদি বক্তব্যের কারণে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে তাকে পাওয়াফুল মনে হতো। সেই বেনজীর এখন দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। টাকা থাকলেও ক্ষমতায় না থাকলে কী পরিণতি হয় বেনজীর হারে হারে টের পাচ্ছেন। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী-এমপি-উপদেষ্টাদের এটি অনুধাবন করতে হবে। তাদের দেশের জনগণের ভাষা বুঝতে হবে। ৯২ শতাংশ মুসলমানের দেশে ৯০ শতাংশ মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে, সমর্থন জানিয়েছে। অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া সবাই মনে করে, শেখ হাসিনার দেড় দশকের বেশি সময় জনগণের ঘাড়ে জগদ্দলপাথর হিসেবে দেশ শাসন করার নেপথ্যে ছিল হিন্দুত্ববাদী ভারত। মানুষের ক্ষোভ যত না হাসিনার বিরুদ্ধে ছিল, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ছিল ভারতের চানক্যনীতির বিরুদ্ধে। জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া এবং সমর্থক করা মানুষ কখনোই হিন্দুত্ববাদী ভারতের আগ্রাসী নীতি মেনে নেবে না। সিকিমের লেন্দুপ দর্জির মতো আচরণ করায় শেখ হাসিনাকে মানুষ ক্ষমতাচ্যুত করেছে বন্দুকের নলের মুখে দাঁড়িয়ে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন খুবই শক্তিশালী এবং উন্মুক্ত। নেটিজেনদের অনেকেই মতামত লিখছেন এবং পোস্ট দিচ্ছেন। সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর নাম এমনকি প্রধানমন্ত্রী ভারতের অনুগত হয়ে উঠছেন- এমন প্রচারণা চলছে সেখানে। বর্তমান সরকারের ভেতরে অনেকে দিল্লি অনুসারী গুপ্ত দালাল রয়েছেন, এ প্রচারণা নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই। তারা নানাভাবে সরকারকে সাবোটাজ করতে পারে, এমন আশঙ্কাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশকে সবকিছুই ঊর্ধ্বে গুরুত্ব দিতে চান। এরই মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছাতে ‘থ্রি-আর’ কৌশল ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায়। এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাক্সিলারেশন। তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনার এই কৌশলের প্রথম ধাপ- ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার’, দ্বিতীয় ধাপ- তিনি বছরের মধ্যে ‘অর্থনীতির উত্তরণ’, তৃতীয় ধাপ- পাঁচ বছর মেয়াদে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতি বিনির্মাণ’। আগামী ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করার পরিকল্পনা। এটি করতে গেলে দেশপ্রেমীদের ঐক্য অপরিহার্য। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সরকারের কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ওই সব নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি প্রচারণা চালাচ্ছে- বিএনপি সরকার দিল্লির সঙ্গে আঁতাত করছে। কাজের মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী ভারতের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। সরকারকে জনগণের মন বুঝতে হবে। ভারতের তোষণনীতি গ্রহণ করায় আওয়ামী লীগকে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে হয়েছে। জনগণ ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে। জনগণ চায় ভারতীয় আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান। ক্ষমতাসীন বিএনপি এখন কি করবে- সেটিই দেখার জন্য অপেক্ষার পালা।

Top