সীমান্তে হত্যা ও পুশইন বন্ধে প্রতিরোধ গড়তে হবে
মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিন: ইতোমধ্যে তারা যে সাহসের পরিচয় দিয়েছেন সেজন্য সীমান্তের জনগণ ও বিজিবিকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমাদের লাল-সবুজ পতাকা পাহারা দিতে বিজিবির বীর সৈনিকরা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। সোমবার ঢাকার শাহবাগে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশইন, হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে ১১ দল বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে।জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার পুশইন, সীমান্ত হত্যাসহ ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী ৩২টি জেলার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, ভারত আমাদের বিরাট প্রতিবেশী রাষ্ট্র। প্রায় ৩২টি জেলার সীমান্তে ভারত কাটাতারের বেড়া নির্মাণ, পুশইন, বর্ডার কিলিং, পানি সমস্যা নিয়ে আমাদের প্রতি আগ্রাসী আচরণ করছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নতুন করে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি বলেন, ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু আপনারা আমাদের অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাতে পারেননি। আমরা জানি ভারত সেই আধিপত্যবাদী একটি দেশ, যে দেশ ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে।
গোলাম পরোয়ার আরও বলেন, গোটা ভারতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব আর যাচাই-বাছাইয়ের অজুহাত তুলে তালিকাভুক্ত করে পুশইনের আওতায় আনা হয়েছে। সীমান্তে তাদের আটক রাখা হচ্ছে, নির্যাতন করা হচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ দল যারা আমাদের অখণ্ডতা, আমাদের স্বাধীনতার লাল-সবুজ পতাকা সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। এই ১১ দলীয় ঐক্যকে সমুন্নত রেখে আমাদের স্বাধীনতা সর্বত্র রক্ষার জন্য এই সংগ্রাম নিরন্তর এগিয়ে যাবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক এবং দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন-জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টির) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির প্রমুখ।