সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের
নিজস্ব প্রতিবেদক:রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলাসহ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, হয়রানি ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ এই সংগঠন।গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মাদ আবুবকর সিদ্দীক ভুঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক লায়ন মির্জা সোবেদ আলী রাজা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে নিন্দা ও এসব দাবি জানান।বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি, হয়রানি ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। সর্বশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ৪ অক্টোবরের ওই ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাংবাদিকেরা কোনো পক্ষের হয়ে নয়, জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ পরিবেশনের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
গণমাধ্যম কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি ও সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের দাবি:
নিরাপত্তা সংকট: সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ।
চাকরির অনিশ্চয়তা: বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী চাকরিহীন এবং নিঃস্ব অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
আইনি সুরক্ষা: গণমাধ্যমকর্মী আইন-২০২২ এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের চাকরি স্থায়ীকরণ, বেতন কাঠামো ও ক্ষতিপূরণের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে ।
স্বাধীন সাংবাদিকতা: গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন।
কলাকুশলীদের সংজ্ঞা: নতুন আইনে সাংবাদিকের পাশাপাশি ক্যামেরাম্যান, এডিটর, গ্রাফিক্স ডিজাইনারদেরও ‘গণমাধ্যমকর্মী’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের ক্ষেত্র:গণমাধ্যমকর্মী বলতে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পূর্ণকালীন সাংবাদিক, কলাকুশলী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং নিবন্ধিত সংবাদপত্রের ছাপাখানায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বোঝায়।
সংবাদকর্মীরা যেন কোনো ধরনের চাপ বা হুমকি ছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ মনে করে, কোনো সংবাদ, মতামত বা সাংবাদিকের পেশাগত কর্মকা-ের সঙ্গে মতবিরোধ থাকলেও হামলা, হুমকি বা পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু একজন পেশাজীবীর ওপর আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর আঘাত।বিবৃতিতে বলা হয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় মামলা ও তদন্তের উদ্যোগকে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ স্বাগত জানায়।তবে তদন্ত অবশ্যই নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও প্রমাণভিত্তিক হতে হবে এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ মনে করে, সাংবাদিকের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি একটি মুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সমাজের অপরিহার্য শর্ত। ভয়, হুমকি ও সহিংসতার পরিবেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। তাই সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত, দৃশ্যমান ও আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ।
পাঁচ দফা দফা দাবি।
সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।দাবিগুলো হলো- সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক সব হামলা, হুমকি ও হয়রানির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নির্বিশেষে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিশ্ববিদ্যালয়,আদালত,প্রশাসনিক কার্যালয় ও অন্যান্য জনসমাগমস্থলে সাংবাদিকদের নিরাপদে দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা,ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনসহ সব পক্ষকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করতে হবে।