মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়ল কে - Alokitobarta
আজ : শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদঃ
প্রতিযোগীদের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ কঠিন শর্তে ৩৩০ কোটি ডলার বিদেশি ঋণ নিচ্ছে সরকার আ.লীগ ঠেকাতে জিরো টলারেন্স,হাসিনার ডিসেম্বর দেশে ফেরার ‘ফাঁকা আওয়াজ’ এক পরিবারের একাধিক সদস্য সারের ডিলার হতে পারবে না স্ত্রীকে দেনমোহর পাওয়ার জন্য তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর আগপর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না জ্বালানি তেলের প্রভাবে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, অপরাধের বিচার এবং জবাবদিহির মধ্য দিয়ে কি ‘রিকনসিলিয়েশনের’ পথ তৈরি হবে? সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ ঢাকা মেট্রোপলিটন প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ বাংলাদেশ অনলাইন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক ইউনিয়ন সাংবাদিকদের ওপর হামলায় গভীর উদ্বেগ South Bangal Press Club -দক্ষিণবঙ্গ প্রেসক্লাব

মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়ল কে


আলোকিত বার্তা:সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান লড়াই নতুন মোড়ে পৌঁছেছে।অপরদিকে হুথি বলছে,এ ধরনের দাবি ডাহা মিথ্যা তারা কখনোই মক্কা নগরীকে লক্ষ্যবস্তু বানাননি। প্রশ্ন উঠছে,তাহলে এ হামলাচেষ্টা করল কে?গত বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করে,পবিত্র নগরী মক্কার দিকে একটি ড্রোন ছুড়েছিল হুথি,যা তারা শহরে প্রবেশের আগেই আকাশে ধ্বংস করেছেন।বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্রতম স্থান খানায়ে কাবা, যা মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এটি মুসলিমদের সব মাজহাবের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে হুথিরাও ব্যতিক্রম নয়। নামাজে তারাও পবিত্র কাবা শরিফের দিকেই সিজদা করেন। এক্ষেত্রে মক্কা নগরীকেও পবিত্র হিসাবে মান্য করা হয়। সার্বিক এ বিষয়গুলো মক্কা নগরী লক্ষ্য করে ইরান সমর্থিত সংগঠন হুথির হামলার যে দাবি সৌদি তুলেছে, সে প্রশ্নকে আরও জোরালো করে। সৌদির দাবি ও হুথির অস্বীকারে প্রশ্ন উঠছে-তাহলে কি কোনো তৃতীয় পক্ষ হামলাটি চালিয়েছে? নাকি হুথিই হামলা চালিয়েছিল সৌদির অন্য কোনো প্রান্তে, কিন্তু সৌদি সেটাকে মক্কায় হামলা বলে প্রচার করছে?

সম্প্রতি সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় বেশ কয়েকটি দেশের সেনা প্রধানরা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউরোপে গোপন বৈঠক করেন বলে খবর বের হয়। ওই বৈঠকে তারা কি আলোচনা করেছেন, সেটা জানা যায়নি। তবে ইরান ও ইয়েমেনে হুথিদের মোকাবিলার বিষয়টি সেখানে আসতে পারে-এমন ধারণা করাই যায়। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বাব আল মান্দাব হুথির দখলে যাওয়ায় সেটিও বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যে সৌদিসহ আরব দেশগুলোতেই ঘাঁটি গেড়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালায়। তেহরানের পালটা আঘাতে এখন দেশগুলোর অর্থনীতির অবস্থা জরাজীর্ণ। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জ্বালানি তেলের বাণিজ্য আটকে আছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটা শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। আর এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এসব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইসরাইল। হুথির চাপের মুখে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের মাধ্যমে সৌদি ইসরাইলের সহযোগিতাও চেয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। তবে গাজায় গণহত্যার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবি তোলা সৌদি এমনটা যে করতে পারে-সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সৌদি-হুথির পাল্টাপাল্টি হামলায় শিশুসহ নিহত ৫
মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে হামলার কথা অস্বীকার করলেও হুথি অব্যাহতভাবে সৌদির বিভিন্ন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। সেইসঙ্গে ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বৃহস্পতিবারও তাদের লড়াই হয়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, এদিন পালটাপালটি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। সৌদির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, বৃহস্পতিবার তায়েফে একটি ড্রোন ঠেকায় সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। এ সময় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত একজন নিহত ও আরও দুজন আহত হন। নিহত ব্যক্তি ইয়েমেনের নাগরিক। অপরদিকে হুথিরা জানিয়েছে, সৌদি সমর্থিতদের হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

চীনের সহায়তা চাইল সৌদি
গত সপ্তাহে হুথি সামরিক অভিযান জোরদার করার পর সৌদি আরব বেইজিংয়ের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। এরপরই চীন গোপনে তেহরানকে ইয়েমেনের হুথিদের নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি ইরানি সূত্র বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। তারা জানান, লোহিত সাগরের উপকূল এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হওয়ার পর রিয়াদ চীনের সহায়তা চেয়েছিল। তাদের এ অগ্রগতির ফলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ও নৌ-চলাচল ব্যবস্থা আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, চীন প্রকাশ্যে সংযম প্রদর্শন, আলোচনা এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানালেও তাদের গোপন বার্তাটি ছিল প্রকাশ্য বিবৃতির চেয়েও জোরালো। সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে-এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখা নির্ভর করছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের অবসানের ওপর। ইরানি সূত্র তিনটি জানায়, হুথিদের ওপর নিজেদের প্রভাব কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে বেইজিং তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে-এমন কোনো স্পষ্ট হুমকি বা ইঙ্গিত চীনা কর্মকর্তারা দেননি।

ওমানের মাস্কাটে মার্কিন দূতাবাসে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন কর্মকর্তারা হুথি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই বৈঠকের পরই যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেয়, ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য তারা কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না। হুথিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করে, উভয় পক্ষের মধ্যে ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের হামলা চালানোর ইচ্ছা তাদের নেই। হুথিরা নিশ্চিত করে, ইয়েমেনে অবরোধ আরোপের কারণে কেবল সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেই তারা তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসাবে বিবেচনা করছে।২০২৫ সালের মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসাবে চিহ্নিত করে। তবে সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোমবার নিশ্চিত করেছেন, হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।

হরমুজে মার্কিন জাহাজে ইরানের হামলা, আহত কয়েকজন
হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইরান। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ঘটা এ হামলায় জাহাজে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রু আহত হয়েছেন বলে বুধবার ফক্স নিউজ জানিয়েছে। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এ হামলায় ইরানের চারটি ড্রোন এবং অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি জাহাজটিতে আঘাত হানে।

মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে : পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
সৌদি আরবের ওপর হুথির সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। জিও নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বলেন, সৌদি ও সেখানকার পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় ইসলামাবাদ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি না থাকলেও এগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা পাকিস্তানের দায়িত্ব।

হেফাজতের নিন্দা
হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান, পবিত্র মক্কা মুকাররমাকে লক্ষ্য করে হুথির ড্রোন হামলার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। হেফাজতের আমির শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব শায়েখ সাজিদুর রহমান এ নিন্দা জানান। বৃহস্পতিবার সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক আফসার মাহমুদ গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে বিষয়টি জানানো হয়।

Top